মঙ্গলবার ১১ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৭শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংবাদ শিরোনামঃ

সাপে কামড় চিকিৎসায় আস্থা বাড়াচ্ছেন বোচাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা

আপডেটঃ ১:৫৯ অপরাহ্ণ | আগস্ট ১১, ২০২৬

নিউজ ডেস্কঃ

সাপে কামড়ের আধুনিক চিকিৎসার প্রতি দিনাজপুরের বোচাগঞ্জে মানুষের ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সঠিক সময়ে চিকিৎসাসেবা ও অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের মাধ্যমে সুস্থ হয়ে উঠছেন রোগীরা।উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত হাসপাতালটিতে মোট ২৯ জন সাপে কাটা রোগী ভর্তি হন।চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্যমতে, এর মধ্যে চারজন বিষধর গখরা (কোবরা) সাপের কামড়ে আক্রান্ত ছিলেন।জাতীয় চিকিৎসা প্রটোকল অনুসরণ করে দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সব রোগীই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।

সর্বশেষ গত ৫ আগস্ট বোচাগঞ্জ উপজেলার সাদিয়া আক্তার (১৭) নামে এক তরুণী সাপের কামড়ে আক্রান্ত হন।স্বজনরা তাকে সরাসরি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন।প্রাথমিক পরীক্ষা ও বিষক্রিয়ার লক্ষণ দেখা দেওয়ার পর চিকিৎসকরা দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ করেন, যার ফলে তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন।

এর আগে জুলাই মাসেও বিভিন্ন গ্রামের আরও তিনজন বিষধর সাপের দংশনের শিকার হয়ে এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হন।মেডিকেল অফিসার ও হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, সীমাবদ্ধ সম্পদের মধ্যেও সঠিক সিদ্ধান্ত, শক্তিশালী টিমওয়ার্ক এবং ২৪ ঘণ্টা জরুরি সেবা দেওয়ার কারণে রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে।

সাপ চিনতে না পারলেও কামড়ের পর সময় নষ্ট না করে সরাসরি হাসপাতালে আসাই রোগীর প্রাণ বাঁচানোর প্রধান উপায় বলে উল্লেখ করেন তারা।হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, রোগীদের জন্য বর্তমানে প্রয়োজনীয় অ্যান্টিভেনম মজুত রয়েছে।সরকারি বরাদ্দের পাশাপাশি স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় অ্যান্টিভেনমের ঘাটতি মেটাতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, সাপের কামড়ের ক্ষেত্রে বিলম্ব না করে দ্রুত হাসপাতালে আনলে অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের মাধ্যমে বেশিরভাগ রোগীকে সুস্থ করা সম্ভব।বোচাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এই সেবার ফলে স্থানীয় ও আশপাশের এলাকার মানুষের মধ্যে সচেতনতা ও প্রাতিষ্ঠানিক চিকিৎসার প্রতি আস্থা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

IPCS News : Dhaka : আব্দুস সালাম, দিনাজপুর।