বৃহস্পতিবার ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ৯ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংবাদ শিরোনামঃ

জঙ্গলের ঝুপড়িতে আমেনা বেগমের সংসার, পাশে দাঁড়াল মানবিক ইউ এন ও মোহাম্মদ মাহামুদুল হাসান।

আপডেটঃ ১২:৪৬ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬

নিউজ ডেস্কঃ

নরসিংদী মনোহরদী উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদীর পাড়ে ঘন জঙ্গল।চারপাশে নীরবতা, আর সেই জঙ্গলের ভেতর ছোট্ট একটি ঝুপড়ি।সেখানেই আমেনা বেগমের বসবাস।ঝুপড়িটির ফাঁক দিয়ে হয়তো মাঝেমধ্যে সূর্যের আলো এসে পড়ে।কিন্তু আমেনা বেগমের জীবনে অনাহার, অসুস্থতা আর অনিশ্চয়তার অন্ধকার যেন দীর্ঘদিনের সঙ্গী স্বামী নেই, ছেলে নেই, বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছেন তিনি।এর সঙ্গে শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতাও তাকে আরও অসহায় করে তুলেছে।একমাত্র মেয়েটিও মানুষের বাড়িতে কাজ করে কিংবা কখনো ভিক্ষা করে কোনোভাবে সংসার চালান।

সেই সামান্য আয়ে দুই নাতিকে নিয়ে আমেনা বেগমের দিন কাটে কখনো অর্ধাহারে, কখনো অনাহারে।সম্প্রতি তার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, কোলের ছোট্ট নাতিটির শরীরজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে স্ক্যাবিস।শিশুটির চিকিৎসা প্রয়োজন এটুকু বোঝার মতো সামর্থ্যও যেন এই পরিবারের নেই।চিকিৎসা করানোর কথা তো অনেক দূরের বিষয়, অসুস্থতাকে অসুস্থতা হিসেবে চিহ্নিত করাটাও তাদের জন্য কঠিন।

এমন বাস্তবতার খবর পৌঁছায় উপজেলা প্রশাসনের কাছে।পরে মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহামুদুল হাসান-এর উদ্যোগে আমেনা বেগমের পরিবারের পাশে দাঁড়ায় উপজেলা প্রশাসন।তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয় নগদ অর্থ ও শুকনো খাবার।অসুস্থ শিশুটিকে হাসপাতালে পাঠিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হয়।

শুধু তা-ই নয়, পরিবারটির মাথা গোঁজার ঠাঁই নিশ্চিত করতে থাকার জন্য একটি ঘরের ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে।হয়তো এই সামান্য সহায়তা আমেনা বেগমের জীবনের সব দুঃখ দূর করে দিতে পারবে না।হয়তো আগামীকালও তার জীবনে অভাব থাকবে, অনিশ্চয়তা থাকবে।কিন্তু এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি তিনি আর নিজেকে একা মনে করছেন না।

মানবিকতার জায়গা থেকে উপজেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগ হয়তো খুব বড় কোনো পরিবর্তনের গল্প নয়; কিন্তু আমেনা বেগমের মতো একজন অসহায় মানুষের কাছে এটি আশার আলো।জীবনের প্রতি আমাদের কত অভিযোগ! একটু অভাব হলেই আমরা হতাশ হয়ে পড়ি, নিজেদের কষ্টকে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় কষ্ট মনে হয়।

অথচ আমাদের চারপাশে একটু তাকালেই দেখা যায়—এমন মানুষও আছেন, যাদের কাছে একবেলা খাবার, একটি ওষুধ কিংবা মাথা গোঁজার একটি নিরাপদ জায়গাই বড় স্বপ্ন।আমেনা বেগমের গল্প তাই শুধু অভাবের গল্প নয় এটি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর, মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার এবং অন্ধকারের মধ্যে একটু আলো জ্বালানোর গল্প।

মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহামুদুল হাসান বলেন, একজন মানুষের জীবনে হয়তো এই সহায়তা পুরো পৃথিবী বদলে দিতে পারবে না।কিন্তু তার মনে এই বিশ্বাসটুকু তৈরি করতে পারে আমি একা নই, আমার পাশেও কেউ আছে।

IPCS News : Dhaka : মোঃ তাজুল ইসলাম বাদল : নরসিংদী।