টিফিনের পর বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম, হঠাৎ পরিদর্শনে নবাগত ইউএনও
আপডেটঃ ৩:০৭ অপরাহ্ণ | আগস্ট ১৯, ২০২৬
নিউজ ডেস্কঃ
নিয়মিত শিক্ষার্থী উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ, মানসম্মত পাঠদান ও শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নের লক্ষ্যে নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হঠাৎ পরিদর্শন করেছেন নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহামুদুল হাসান।পরিদর্শনকালে টিফিনের পর অধিকাংশ শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি আশঙ্কাজনকভাবে কম দেখতে পেয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।সম্প্রতি মনোহরদী সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় ও চন্দনবাড়ি এস এ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন ইউএনও মাহামুদুল হাসান।
এ সময় তিনি বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষ ঘুরে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, শিক্ষকদের পাঠদান পদ্ধতি, শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ এবং শিক্ষার্থীদের পাঠগ্রহণের সার্বিক চিত্র পর্যবেক্ষণ করেন।পরিদর্শনে টিফিনের পর শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার বিষয়টি তার নজরে আসে।
এতে বিদ্যালয়ের নির্ধারিত সময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা নিয়মিত শিক্ষাকার্যক্রম থেকে পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করেন ইউএনও।তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের প্রতিটি ক্লাসই শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।টিফিনের পর ক্লাসে অনুপস্থিত থাকলে পাঠের ধারাবাহিকতা নষ্ট হয় এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বুঝতে শিক্ষার্থীদের সমস্যায় পড়তে হয়।
বিশেষ করে বিজ্ঞানসহ ব্যবহারিক ও অনুশীলননির্ভর বিষয় গুলোতে শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত থেকে শিক্ষকের নির্দেশনা অনুযায়ী নিয়মিত অনুশীলনের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন প্রয়োজনীয় পাঠ্যবই সঙ্গে আনা, নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকা এবং শিক্ষকদের নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করার পরামর্শ দেন।
আলোচনায় টিফিনের পর শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির পেছনে অভিভাবকদের পর্যাপ্ত নজরদারির অভাবও একটি কারণ হতে পারে বলে উঠে আসে।এ কারণে বিষয়টিকে শুধু শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতি হিসেবে না দেখে এর প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করে শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সমন্বিত উদ্যোগে সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের আরও কার্যকর ও শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক পাঠদানের পাশাপাশি টিফিনের পর উপস্থিতির বিষয়টি নিয়মিত পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দেন ইউএনও।অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের বিষয়ে শ্রেণিশিক্ষকের মাধ্যমে ফলোআপ এবং প্রয়োজন হলে অভিভাবকদের অবহিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
অভিভাবকদের সন্তানের বিদ্যালয়ে উপস্থিতির বিষয়ে নিয়মিত খোঁজ রাখার পাশাপাশি টিফিনের পর তারা অকারণে বিদ্যালয় ত্যাগ করছে কি না, সে বিষয়েও নজরদারি করার আহ্বান জানানো হয়।একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে সন্তানের পড়াশোনা, উপস্থিতি ও আচরণ সম্পর্কে অবগত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ইউএনও মাহামুদুল হাসান বলেন, বিদ্যালয়ে উপস্থিতি কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার অন্যতম প্রধান শর্ত।টিফিনের পর ক্লাস ফাঁকি দেওয়া বা অকারণে বিদ্যালয় ত্যাগ করা শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের নিজেদের শিক্ষাজীবনেরই ক্ষতি করে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নিয়মিত উপস্থিতি, মানসম্মত শিক্ষা ও শৃঙ্খলাপূর্ণ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব।আজকের সচেতনতা ও দায়িত্বশীলতাই আগামী দিনের আলোকিত প্রজন্ম গড়ার ভিত্তি।
IPCS News : Dhaka : মোঃ তাজুল ইসলাম বাদল : নরসিংদী।

