মনোহরদী পৌরসভাকে একটি নান্দনিক পৌরসভা গড়তে মেয়র প্রার্থী, দোলনের অঙ্গীকার,
আপডেটঃ ১২:২০ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬
নিউজ ডেস্কঃ
স্থানীয় সরকার নির্বাচন দ্রুত আয়োজনের বিষয়ে সরকারের গুরুত্বারোপের পর নরসিংদীর মনোহরদী পৌরসভাজুড়ে এখন বইছে নির্বাচনী হাওয়া।সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও চলছে ব্যাপক আলোচনা ও বিশ্লেষণ।কে হচ্ছেন মনোহরদী পৌরসভার আগামী দিনের মেয়র এ প্রশ্নই এখন সর্বত্র আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।সম্প্রতি পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ড ঘুরে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষক, মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে পৌরসভার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা ও সংকট রয়ে গেছে।
নাগরিকদের প্রত্যাশা—এমন একজন জনপ্রতিনিধি, যিনি উন্নয়নের পাশাপাশি সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক, ইভটিজিং ও আধিপত্য বিস্তারের রাজনীতি বন্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন।এছাড়া একটি আধুনিক, নান্দনিক ও পরিচ্ছন্ন পৌরসভা গঠনের প্রত্যাশাও রয়েছে পৌরবাসীর।
স্থানীয়দের মতে, দল-মত নির্বিশেষে জনগণের পাশে থেকে সার্বক্ষণিক নাগরিক সেবায় নিয়োজিত থাকবেন—এমন একজন কর্মীবান্ধব ও জনসম্পৃক্ত নেতাই এখন সময়ের দাবি।এমন প্রেক্ষাপটে মেয়র পদপ্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন মনোহরদী উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আমিনুর রহমান সরকার দোলন।
দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ছাত্রনেতা হিসেবে তিনি আন্দোলন-সংগ্রামের রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন।বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশে থেকে সংগঠনকে সুসংগঠিত রাখার কারণে তিনি কর্মীবান্ধব এমনকি জনবান্ধব নেতা হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মনোহরদী-বেলাবো আসনের চারবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বর্তমান সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী আলহাজ অ্যাডভোকেট সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুলের আস্থাভাজন হিসেবেও আমিনুর রহমান সরকার দোলনের একটি শক্ত অবস্থান রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, গত প্রায় দুই বছর ধরে নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তিনি মনোহরদী পৌরসভার সমস্যা, সম্ভাবনা ও উন্নয়ন নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।পৌরসভার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে চলছেন সাধারণ মানুষের সেবায়।শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দির এবং আর্থিক সংকটে চিকিৎসা করাতে না পারা অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ব্যক্তিগতভাবেও সহায়তা করে আসছেন তিনি।
উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে যা বলছেন দোলন মেয়র প্রার্থী আমিনুর রহমান সরকার দোলন বলেন, “আমার রাজনৈতিক শিক্ষাগুরু ও অভিভাবক, মনোহরদী-বেলাবো থেকে বারবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য, মাটি ও মানুষের নেতা এবং বর্তমান সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী আলহাজ অ্যাডভোকেট সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল মহোদয়ের সার্বিক সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনায় মনোহরদী উপজেলার সকল জায়গায় উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে যা যা অবশিষ্ট রয়েছে তা দ্রুত সময়ের মধ্যে সমাধান হবে ইনশাআল্লাহ।
বিশেষ করে পৌরসভাকে একটি নান্দনিক পৌরসভা হিসেবে গড়ে তুলতেও কাজ করছি।তিনি বলেন, পৌরসভার জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনসহ রাস্তা নির্মাণের কাজ চলছে।পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ নিশ্চিত করতে পানির পাম্প স্থাপনের কাজও চলমান রয়েছে।পৌরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে পৌরসভার বিদ্যুৎ সংযোগ একটি ফিডারের আওতায় আনার কাজও শুরু হয়েছে।
দোলন আরোও বলেন, একটি আধুনিক ও নান্দনিক পৌরসভা গড়ে তুলতে পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ চলমান রয়েছে।নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং পৌরসভার অবকাঠামোগত উন্নয়নকে আমি বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি।
আগামী দিনের পরিকল্পনা তুলে ধরে আমিনুর রহমান সরকার দোলন বলেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে পৌরসভার অসম্পূর্ণ সব ড্রেন নির্মাণের কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।এসব কাজ সম্পন্ন হলে পৌরসভার জলাবদ্ধতা সমস্যা অনেকাংশে নিরসন হবে এবং একই সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থারও উন্নয়ন ঘটবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, পৌরসভার ভেতর দিয়ে প্রবাহিত খালটির খননকাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।ভবিষ্যতে এই খালকে ঘিরে একটি সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে খালের দুই পাশের রাস্তা আধুনিকায়ন, সবুজায়ন, নাগরিকদের বসার ব্যবস্থা এবং দুই পাশের মানুষের সহজ পারাপারের জন্য একটি নান্দনিক ঝুলন্ত সেতু নির্মাণ।
পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে খালটি মনোহরদী পৌরসভার অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান হিসেবে গড়ে উঠবে বলে আশা করছেন তিনি।তবে স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছেন, সার্বিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, সাংগঠনিক ভূমিকা ও জনসম্পৃক্ততার কারণে আমিনুর রহমান সরকার দোলনের প্রার্থিতা নিয়ে আলোচনা তুলনামূলক বেশি।
এখন মনোহরদী পৌরবাসীর দৃষ্টি মূলত দলীয় সিদ্ধান্ত ও রাজনৈতিক সমীকরণের দিকে।সম্ভাব্য প্রার্থীদের রাজনৈতিক তৎপরতা এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা ঘিরে এরই মধ্যে পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে আলোচনা বাড়ছে।মনোহরদী পৌরবাসীর প্রত্যাশা, যেই মেয়র নির্বাচিত হন না কেন, তিনি যেন পৌরসভার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা, ড্রেনেজ, বিদ্যুৎ, পানি, যোগাযোগ ও নাগরিকসেবার সমস্যাগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও নান্দনিক পৌরসভা গড়ে তুলতে কার্যকর ভূমিকা রাখেন।
IPCS News : Dhaka : মোঃ তাজুল ইসলাম বাদল : নরসিংদী।

