শুক্রবার ১৭ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২রা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংবাদ শিরোনামঃ

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্দেশনায় মনোহরদীতে বন্যা ও অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন, দ্রুত সমাধানে প্রশাসনের উদ্যোগ

আপডেটঃ ১২:৫০ অপরাহ্ণ | জুলাই ১৬, ২০২৬

নিউজ ডেস্কঃ

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী আলহাজ সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুলের নির্দেশনায় নরসিংদীর মনোহরদীতে টানা অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছে উপজেলা প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।জলাবদ্ধতা, সড়ক ভাঙন, কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ও নদীভাঙনের কারণে জনদুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।সাম্প্রতিক সময়ে অতিবৃষ্টির ফলে মনোহরদী পৌরসভাসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতা, যোগাযোগ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়া, সড়ক ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং নদীভাঙনের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নজরে নেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী আলহাজ সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল।

তিনি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন, সমস্যা চিহ্নিতকরণ এবং জরুরি ভিত্তিতে সমাধানের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশনা দেন।মন্ত্রীর নির্দেশনার পর মঙ্গলবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম এ মুহাইমিন আল জিহানের সভাপতিত্বে উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, শিক্ষক এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।সভায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পরিদর্শন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তর গুলোর সমন্বয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম এ মুহাইমিন আল জিহান, নরসিংদী পানি উন্নয়ন বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. হুমায়ূন কবির, উপজেলা প্রকৌশলী হরষিত কুমার সাহা, পানি উন্নয়ন বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী রাসেল মিয়া, উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আমিনুর রহমান সরকার দোলন, মনোহরদী প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. হারুন অর রশিদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা গুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনকালে চালাকচর–বড়চাপা সড়কের একাধিক স্থানে ভাঙন, বড়চাপা ইউনিয়নের পাইকান গ্রামে নদীভাঙনের কারণে বসতবাড়ি হুমকির মুখে পড়া, কায়তেরগাঁও গ্রামের রাস্তার ক্ষয়ক্ষতি, কায়তেরগাঁও–জামালপুর সড়কের একটি কালভার্ট ভেঙে যাওয়া এবং মনোহরদী গার্লস স্কুল মোড় থেকে ড্রেনেরঘাট পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশে ভাঙন ও কালভার্টের ক্ষয়ক্ষতি পর্যবেক্ষণ করা হয়। পাশাপাশি পৌরসভাসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রতিবন্ধকতাও নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করা হয়।

পরিদর্শন শেষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, উপজেলা প্রশাসন, নরসিংদী পানি উন্নয়ন বোর্ড, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়, উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে ক্ষতিগ্রস্ত স্থান গুলোতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু করা হবে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হচ্ছে।

এদিকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও খিদিরপুর ইউনিয়নের প্রশাসক মো. সজিব মিয়া খিদিরপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন জলাবদ্ধ এলাকা, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক এবং অন্যান্য সমস্যাপূর্ণ স্থান পরিদর্শন করে তাৎক্ষণিক সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করছেন।স্থানীয়দের অভিযোগ ও পরামর্শ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুর্যোগের এই সময়ে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সম্মিলিত উপস্থিতি তাদের মধ্যে আস্থা ও স্বস্তি সৃষ্টি করেছে।তারা আশা প্রকাশ করেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্দেশনায় শুরু হওয়া এ সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে দ্রুত জলাবদ্ধতা, নদীভাঙন ও ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামোর সমস্যা সমাধান হবে এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমে আসবে।

IPCS News : Dhaka : মোঃ তাজুল ইসলাম বাদল : নরসিংদী।