মাঠে মাঠে কাদা-পানির গন্ধ, বৃষ্টি-রোদ উপেক্ষা করে বীরগঞ্জে আমন রোপণের ধুম
আপডেটঃ ৩:১০ অপরাহ্ণ | জুলাই ১৬, ২০২৬
নিউজ ডেস্কঃ
বর্ষা মৌসুমের কখনো রিমঝিম বৃষ্টি, আবার কখনো মাথার ওপর খাঁ খাঁ করা প্রখর রোদ।প্রকৃতির এই রোদ-বৃষ্টির লুকোচুরি খেলাকে একপাশে সরিয়ে রেখে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলায় আমন ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা।মাঠজুড়ে এখন শুধু চারা রোপণের ধুম।সময়মতো আবাদ শেষ করতে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাঠেই কাটছে কৃষকদের নিরলস পরিশ্রমের সময়।উপজেলার ৪ নং পাল্টাপুর ইউনিয়নের কাজল গ্রামে গিয়ে দেখা গেলো এক অনবদ্য দৃশ্য।চারদিকে থৈ থৈ করছে পানি, আর সেই পানিতে নেমেই দলবেঁধে সারিবদ্ধভাবে বীজতলা থেকে চারা তুলছেন এবং মূল জমিতে রোপণ করছেন কৃষকেরা।
কোথাও পরিবারের সব সদস্য মিলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছেন, আবার কোথাও অতিরিক্ত শ্রমিক নিয়ে চলছে উৎসবমুখর চাষাবাদ।রোদ-বৃষ্টির পালাবদলের মধ্যেও কৃষকদের এই কর্মব্যস্ততায় যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে গ্রামীণ জনপদ।স্থানীয় কৃষক হুসেন আলী জানান, আমন চাষে সময়ের মূল্য অনেক।ঠিক সময়ে চারা রোপণ করতে পারলে ফলন ভালো হয়।
তাই আবহাওয়া যেমনই হোক, আমরা হাত গুটিয়ে বসে নেই।যদি পর্যাপ্ত বৃষ্টি আর আবহাওয়া এমন অনুকূলে থাকে, তবে এবার আমনের বাম্পার ফলন হবে ইনশাআল্লাহ।উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি আমন মৌসুমে বীরগঞ্জ উপজেলায় ২৯ হাজার ৫৭৮ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিতে আমাদের কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন।আমরা কৃষকদের উন্নত জাতের ধান চাষ এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করছি।
আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হলে চলতি মৌসুমে আমনের দারুণ ফলন পাওয়া যাবে, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও বড় ভূমিকা রাখবে।বর্তমানে বীরগঞ্জের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে কচি সবুজ আমন চারার সমারোহ জানান দিচ্ছে নতুন এক সম্ভাবনাময় ফসলের মৌসুমের।
কৃষকদের ঘামঝরানো শ্রম আর কৃষি বিভাগের সঠিক নির্দেশনায় এবারও সোনালী ধানে কৃষকের গোলা ভরে উঠবে এমনটাই প্রত্যাশা সবার।
IPCS News : Dhaka : আব্দুস সালাম, দিনাজপুর।

