মনোহরদীতে রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালে হামলা-ভাঙচুর, তদন্ত কমিটি গঠন
আপডেটঃ ১২:৫৭ অপরাহ্ণ | আগস্ট ২৩, ২০২৬
নিউজ ডেস্কঃ
নরসিংদীর মনোহরদীতে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে একটি বেসরকারি হাসপাতালে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যার পর পৌর শহরের বাইপাস সড়কে অবস্থিত মনোহরদী ল্যাবএইড আই অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।খবর পেয়ে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।পরে হাসপাতালটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।নিহত রোগীর নাম আকলিমা বেগম (৩২)।তিনি উপজেলার বড়চাপা ইউনিয়নের বীর মাইজদিয়া এলাকার কবির হোসেনের স্ত্রী।
গত ১৩ আগস্ট পিত্তথলির অস্ত্রোপচারের জন্য তাঁকে মনোহরদী ল্যাবএইড আই অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।পরদিন শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে হাসপাতালের চিকিৎসক রাহাত বিন কাশেম তাঁর অস্ত্রোপচার করেন।অস্ত্রোপচারের পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কয়েক দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর ১৯ আগস্ট উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় নেওয়া হয়।
স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার পপুলার হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার রাত ২টার দিকে আকলিমা বেগমের মৃত্যু হয়।পরে তাঁর মৃত্যুর খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সন্ধ্যার দিকে স্বজন ও বিক্ষুব্ধ জনতা মনোহরদী ল্যাবএইড আই অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।
এ সময় হাসপাতালের নিচতলাসহ তিনটি ফ্লোরের বিভিন্ন অংশে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে।বিক্ষুব্ধরা চিকিৎসকের বিচার এবং হাসপাতাল বন্ধের দাবি জানান।হাসপাতালের চিকিৎসকের চেম্বার, রিসেপশন, ল্যাবসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।এ সময় কয়েকজন কর্তব্যরত স্টাফকে মারধর করা হয়েছে বলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়।
নিহত আকলিমা বেগমের এক স্বজন অভিযোগ করেন, পিত্তথলিতে টিউমার ধরা পড়ার পর তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।চিকিৎসক রাহাত বিন কাশেম অস্ত্রোপচার করার পরদিন থেকেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে।কয়েক দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাখার পর তাঁকে ঢাকায় পাঠানো হয়।
চিকিৎসায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলা বা ভুল চিকিৎসা হয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখার দাবি জানান তিনি।তবে হাসপাতাল ভাঙচুরের সঙ্গে রোগীর স্বজনদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন নিহতের ভাই নাসির।তিনি বলেন, তাঁরা ঢাকায় রোগীর চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন।হাসপাতালটি কে বা কারা ভাঙচুর করেছে, সে বিষয়ে তাঁদের জানা নেই।
হাসপাতালের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক কামরুল ইসলাম বলেন, যে চিকিৎসক অস্ত্রোপচার করেছেন, তিনি অভিজ্ঞ এবং অস্ত্রোপচারও নিয়ম অনুযায়ী হয়েছে।পরবর্তীতে রোগীর আইসিইউ প্রয়োজন হওয়ায় তাঁকে ঢাকায় পাঠানো হয়।শুক্রবার সন্ধ্যায় রোগীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর হঠাৎ কিছু লোক হাসপাতালে হামলা চালিয়ে বিভিন্ন অংশে ভাঙচুর ও লুটপাট করে।
এ সময় কয়েকজন স্টাফকেও মারধর করা হয়।মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর বাদশা বলেন, হাসপাতালে ভাঙচুরের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।রোগীর মৃত্যু ও হাসপাতাল ভাঙচুরের ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মনোহরদী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সজিব মিয়া বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাতে ঘটনাস্থলে গিয়ে হাসপাতালটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
এদিকে রোগীর মৃত্যু ও হাসপাতাল ভাঙচুরের ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নরসিংদীর জেলা সিভিল সার্জন ডা. বুলবুল কবির।তিনি বলেন, শনিবার দুপুরে তাঁরা হাসপাতালটি পরিদর্শন করেছেন।ঘটনার বিষয়ে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আকলিমা বেগমের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং তাঁর চিকিৎসায় কোনো অবহেলা বা ভুল চিকিৎসা হয়েছিল কি না, তা নির্ধারণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
IPCS News : Dhaka : মোঃ তাজুল ইসলাম বাদল : নরসিংদী।

