মঙ্গলবার ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২১শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংবাদ শিরোনামঃ

বাংলাদেশ পুলিশ মেধাবৃত্তি পেলেন রাজশাহীর ৬৯ কৃতি শিক্ষার্থী

আপডেটঃ ১২:৪০ অপরাহ্ণ | অক্টোবর ০৫, ২০২৬

নিউজ ডেস্কঃ

বাংলাদেশ পুলিশ মেধাবৃত্তি ২০২৪ ও ২০২৫-এর নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের মাঝে সম্মানী, ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট বিতরণ করা হয়েছে।রোববার (৪ অক্টোবর) বেলা ১১টায় রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) আয়োজনে পুলিশ লাইন্স ড্রিলশেডে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।অনুষ্ঠানে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনকারী মোট ৬৯ জন শিক্ষার্থীর হাতে সম্মানী, ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট তুলে দেওয়া হয়।এ সময় কৃতি শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরাও উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, আরএমপি পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির পিপিএম।

বাংলাদেশ পুলিশে কর্মরত সদস্যদের সন্তানদের মেধার স্বীকৃতি ও উচ্চশিক্ষায় উৎসাহিত করার লক্ষ্যে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে কৃতি শিক্ষার্থীদের সাফল্যের জন্য অভিনন্দন জানানো হয়।অনুষ্ঠানে কৃতি শিক্ষার্থী কানিজ ফাতিমা মিম তার অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘ দুই বছরের কঠোর পরিশ্রম, রাত জেগে পড়াশোনা এবং বাবা-মায়ের ত্যাগের ফলেই তিনি এ সাফল্য অর্জন করেছেন।

মেধাবৃত্তি তাকে আরও দায়িত্বশীল হতে অনুপ্রাণিত করেছে।ভবিষ্যতে যে পেশাতেই যুক্ত হোন না কেন, পেশাগত পরিচয়ের আগে একজন ভালো ও মানবিক মানুষ হওয়াই তার প্রধান লক্ষ্য বলে জানান তিনি।একজন পুলিশ কনস্টেবল অভিভাবক বলেন, চাকরিজীবনের ব্যস্ততা ও নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সন্তানদের পড়াশোনায় সময় দেওয়া, ভালোবাসা ও সঠিক দিকনির্দেশনা তাদের সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি।

সন্তানদের ওপর অতিরিক্ত চাপ বা শারীরিক শাস্তি না দিয়ে ধৈর্য ও সহানুভূতির সঙ্গে উৎসাহিত করার পরামর্শ দেন তিনি।একই সঙ্গে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল না এলেও শিক্ষার্থীদের হতাশ না হয়ে ধৈর্য ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ সহকর্মীদের সন্তানদের মেধার স্বীকৃতি ও উৎসাহ দিতে এ মেধাবৃত্তির আয়োজন করেছে।

সকল বিষয়ে ৮০ শতাংশের বেশি নম্বর পেয়ে এ প্লাস অর্জন করে মেধাবৃত্তি পাওয়া অত্যন্ত কঠিন ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ অর্জন।মেধা, অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা এ সাফল্য অর্জন করেছে উল্লেখ করে তিনি সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান।

তিনি বলেন, সন্তানদের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে অভিভাবকদের অনেক ত্যাগ ও কষ্ট স্বীকার করতে হয়।বিশেষ করে পুলিশ বাহিনীর নিম্নপদস্থ অনেক সদস্য নিজেদের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিয়ে সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করছেন।তাই শুধু ভালো শিক্ষার্থী হলেই হবে না, সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে ভালো মানুষ হতে হবে এবং মা-বাবার ত্যাগের মূল্য দিতে হবে।

পুলিশ কমিশনার বলেন, এসএসসি বা এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া জীবনের একটি ধাপ মাত্র।এখান থেকেই জীবনের নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা হয়। বুয়েট, রুয়েট, চুয়েট, কুয়েট, মেডিকেল কলেজ ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে তারাই সমাজ, দেশ ও বিশ্বকে নেতৃত্ব দেবে।

আর যেসব শিক্ষার্থীর ফলাফল আশানুরূপ হয়নি, তাদের হতাশ না হয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে আরও বেশি পরিশ্রম করে ভবিষ্যতে ভালো করার আহ্বান জানান তিনি।শিক্ষার্থীদের সুশৃঙ্খল জীবনযাপনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে পুলিশ কমিশনার বলেন, জীবনে সফলতা অর্জন ও কাঙ্ক্ষিত উন্নতির জন্য শৃঙ্খলার কোনো বিকল্প নেই।

রাত জাগার অভ্যাস পরিহার করে সময়মতো ঘুমানো ও ভোরে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।পাশাপাশি রাস্তাঘাটের অনিয়ন্ত্রিত ভাজাপোড়া ও অস্বাস্থ্যকর খাবার পরিহার করে সুষম ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের পরামর্শ দেন তিনি।পড়াশোনার পাশাপাশি নৈতিকতা, স্বাস্থ্য সচেতনতা ও নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপনের মাধ্যমে নিজেদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হতে শিক্ষার্থীদের আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মো. ফারুক হোসেন, উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর)-এর দায়িত্বে অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ খোরশেদ আলম পিপিএম, উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. নূর আলম সিদ্দিকী, উপ-পুলিশ কমিশনার (বোয়ালিয়া) মো. গোলাম রব্বানী শেখ পিপিএম (বার), উপ-পুলিশ কমিশনার (মতিহার) মাঈনুল ইসলাম পিপিএম (বার), উপ-পুলিশ কমিশনার (ইঅ্যান্ডডি) মো. আবুল কালাম সাহিদ, উপ-পুলিশ কমিশনার (সিটিটিসি) ও আরএমপির মুখপাত্র মো. গাজিউর রহমান পিপিএমসহ আরএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠানে মেধাবৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরাও উপস্থিত ছিলেন।

IPCS News : Dhaka : আরএমপি নিউজ : রাজশাহী।