মঙ্গলবার ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২১শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংবাদ শিরোনামঃ

দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন করতে রাজশাহীতে সমন্বয় সভা, নিরাপত্তা জোরদারের সিদ্ধান্ত

আপডেটঃ ১২:১২ অপরাহ্ণ | অক্টোবর ০৫, ২০২৬

নিউজ ডেস্কঃ

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে রাজশাহীতে রাজনৈতিক দল, ধর্মীয় নেতা, পূজামণ্ডপ কমিটি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে মতবিনিময় ও সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।রোববার (৪ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) সদর দপ্তরের সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।সভায় সভাপতিত্ব করেন আরএমপি পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির পিপিএম।সভায় পূজামণ্ডপ ও প্রতিমা বিসর্জনস্থলে পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ এবং সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য রাজনৈতিক দল ও ধর্মীয় সংগঠনগুলোর নেতারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।একই সঙ্গে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রেখে উৎসব পালনের আহ্বান জানানো হয়।

সভায় বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্ট, রাজশাহীর সভাপতি অচিন্ত কুমার বিশ্বাস প্রতিটি পূজামণ্ডপ ও বিসর্জনস্থলে পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, সিসিটিভি ক্যামেরা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানান।মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক মোবাশ্বের আলী বলেন, দুর্গাপূজা ঘিরে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য তাদের নেতাকর্মীরা দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবেন।

মহানগর ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সহাবস্থান বজায় রেখে পূজা উদযাপনে সবাইকে সহযোগিতার আহ্বান জানান।মহানগর জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক সেক্রেটারি বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব নির্বিঘ্নে পালনে জামায়াতে ইসলামী সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।পাশাপাশি নগরীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপে তাদের পক্ষ থেকে ৩০টি স্বেচ্ছাসেবক দল নিয়োগের আশ্বাস দেওয়া হয়।

বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ শাহীন শওকত বলেন, দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পূজামণ্ডপ কমিটিকে সহযোগিতা করবেন।নগরীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপে তাদের পক্ষ থেকেও স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগের কথা জানান তিনি।

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, পূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।প্রতিটি পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা, সিসিটিভি, সার্চলাইট ও আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করার পাশাপাশি আর্থিক অনুদান দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

পূজা ও প্রতিমা বিসর্জনের সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ ও আলোকসজ্জা নিশ্চিত করতে নেসকোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেন তিনি।সভায় পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির বলেন, মহানগরীর প্রতিটি পূজামণ্ডপে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশ নিশ্চিত করাই পুলিশের প্রধান লক্ষ্য।

এ জন্য বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের পারস্পরিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ।কোনো সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগে—এমন কর্মকাণ্ড থেকে সবাইকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি পূজামণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক ও রাজনৈতিক সহায়তা টিমের দায়িত্বপ্রাপ্তদের নাম ও মোবাইল নম্বর পুলিশকে দেওয়ার নির্দেশনা দেন পুলিশ কমিশনার।পূজামণ্ডপের আশপাশে অবৈধ দোকানপাট বা হকার বসতে না দেওয়া, বিদ্যুৎ বিভ্রাট মোকাবিলায় বিকল্প জেনারেটরের ব্যবস্থা এবং জরুরি আলোর জন্য প্রতিটি মণ্ডপে ৫ থেকে ৭টি চার্জিং বাল্ব প্রস্তুত রাখার কথাও বলা হয়।

প্রতিমা বিসর্জনের সময় অতিরিক্ত ভিড় ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে প্রয়োজনে সিরিয়াল বা টোকেন ব্যবস্থা চালুর পরামর্শ দেন পুলিশ কমিশনার।নির্ধারিত রুট ও সময়সূচি অনুসরণ এবং বিসর্জন কার্যক্রমে আয়োজক ও স্বেচ্ছাসেবকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

একই সঙ্গে প্রকাশ্য স্থানে মদ ও যেকোনো ধরনের মাদক সেবন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে জানিয়ে এ ধরনের ঘটনায় কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন।পুলিশ কমিশনার আরও বলেন, পূজামণ্ডপ নির্মাণের সময় থেকে শুরু করে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়া পর্যন্ত সার্বক্ষণিক পুলিশি নিরাপত্তা ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

প্রতিটি মণ্ডপে পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত রেখে পুলিশ ও প্রশাসনকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।মহানগরীর বাইরের পূজামণ্ডপ গুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সহযোগিতা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

সভায় টুরিস্ট পুলিশ, নৌ-পুলিশ, পিবিআই, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, র‍্যাব-৫, বিজিবি, আনসার, ফায়ার সার্ভিস, নেসকো, ইসলামী ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, রাজশাহী মহানগরীর হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান ঐক্য ফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন পূজামণ্ডপ কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা সভায় অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মো. ফারুক হোসেন, উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর)-এর দায়িত্বে অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ খোরশেদ আলম পিপিএম, উপ-পুলিশ কমিশনার (বোয়ালিয়া) মো. গোলাম রব্বানী শেখ পিপিএম (বার), উপ-পুলিশ কমিশনার (ইঅ্যান্ডডি) মো. আবুল কালাম সাহিদ, উপ-পুলিশ কমিশনার (সিটিটিসি) ও আরএমপির মুখপাত্র মো. গাজিউর রহমান পিপিএমসহ আরএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

IPCS News : Dhaka : আরএমপি নিউজ : রাজশাহী।