বৃহস্পতিবার ১৬ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১লা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংবাদ শিরোনামঃ

চর আহাম্মদপুরে পানিনিষ্কাশন নিয়ে উত্তেজনা, সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিক লাঞ্ছিতের অভিযোগ

আপডেটঃ ১২:৪৯ অপরাহ্ণ | জুলাই ১৫, ২০২৬

নিউজ ডেস্কঃ

নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার খিদিরপুর ইউনিয়নের চর আহাম্মদপুর ৭ নম্বর ওয়ার্ডে টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে এক সাংবাদিককে লাঞ্ছিত ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।একই সঙ্গে পানিনিষ্কাশনের উদ্যোগও বাধাগ্রস্ত হওয়ায় শতাধিক পানিবন্দী পরিবারের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টানা বর্ষণে চর আহাম্মদপুর এলাকার প্রায় শতাধিক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়ে।এ বিষয়ে বাংলাদেশ বুলেটিনসহ বিভিন্ন জাতীয় ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে স্থানীয় ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে পানি নিষ্কাশনের সম্ভাব্য ব্যবস্থা নিয়ে এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।আলোচনায় পূর্বে বিদ্যমান ড্রেনের পথ ব্যবহার করে পানি নিষ্কাশনের বিষয়টি নিয়ে সমঝোতার চেষ্টা চলছিল।

অভিযোগ রয়েছে, এ সময় চর আহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা মো. মনজুরুল কুদ্দুস (৫০), তার ছেলে মো. রাসেল মিয়া, যিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সিগন্যাল বেস ওয়ার্কশপে (সিভিল) কর্মরত বলে দাবি করা হয়েছে, এবং তাদের সঙ্গে থাকা এক অজ্ঞাতনামা নারী পানিনিষ্কাশনের কাজে বাধা দেন।

তারা সংবাদ প্রকাশের বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী ও মনোহরদী প্রেস ক্লাবের সহ-সভাপতি, দৈনিক যায় যায় দিন ও বাংলাদেশ বুলেটিনের মনোহরদী প্রতিনিধি সাংবাদিক মো. তাজুল ইসলাম বাদলকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, লাঞ্ছিত এবং মারধরের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

স্থানীয় লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।এ ঘটনার পর পানিনিষ্কাশনের কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্তরা ভবিষ্যতেও ওই পথে কোনো ধরনের পানিনিষ্কাশন করতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।এতে জলাবদ্ধতা নিরসনের উদ্যোগ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. শফিকুল ইসলাম জানান, পানিবন্দী মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে তিনি প্রশাসনের সহযোগিতায় সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।এলাকাবাসীর সহযোগিতায় দ্রুত পানিনিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা গেলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এলাকার বাসিন্দা মো. মানজুল হক বলেন, “আমরা সবাই মিলে পানিবন্দী মানুষকে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্ত করতে চেয়েছিলাম।কিন্তু মনজুরুল কুদ্দুস ও তার ছেলে এসে কাজ বন্ধ করে দেন।বিষয়টি দ্রুত সমাধানে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।পানিবন্দী ভুক্তভোগী রূপ মহল বলেন, “আগে এখান দিয়ে ড্রেন ছিল এবং পানি স্বাভাবিকভাবেই চলে যেত।

এখন সেই পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমরা দীর্ঘদিন ধরে পানিবন্দী অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছি।এ ঘটনায় সাংবাদিককে লাঞ্ছিতের অভিযোগ এবং পানিনিষ্কাশন কাজে বাধা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।স্থানীয়রা দ্রুত প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ এবং জলাবদ্ধতা নিরসনের পাশাপাশি অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

IPCS News : Dhaka : মোঃ তাজুল ইসলাম বাদল : নরসিংদী।