নেত্রকোণার বারহাট্টায় জমির ধান নষ্ট করে দখলের চেষ্টা-থানায় অভিযোগ
আপডেটঃ ১:০৭ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
নিউজ ডেস্কঃ
নেত্রকোণার বারহাট্টায় কৃষকের রোপন করা ধান খেতে ট্রাক্টর চালিয়ে ফসল নষ্ট করে জমি দখলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার সিংধা ইউনিয়নের সোনাউল্লারচর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।এ ঘটনায় জমির মালিক মোছাঃ সাবিনা রহমান বারহাট্টা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চম্পক দাম অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন,কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশ সেখানে যাবে।এ বিষয়ে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।ভুক্তভোগী সাবিনা রহমান সোনাউল্লরচর গ্রামের বাসিন্দা।তাঁর স্বামীর নাম মজিবুর রহমান।
আরও অভিযুক্তরা হলেন, একই গ্রামের জমিটি দখলের জন্য প্রতিবেশী রহিছ মিয়া (৬৫), তাঁর ছেলে জিবন মিয়া (৩৩), সুমন মিয়া (২৮), স্ত্রী রহিমা আক্তার (৬০) ও ছেলে সাজ্জাদ মিয়া (২২)।অভিযোগ ও এলাকাবাসী সাথে কথা বলে জানা গেছে, সোনাউল্লারচর এলাকায় খতিয়ান নম্বর ১৩১২, এসএ দাগ নম্বর ২২৯৫, বিআরএস দাগ নম্বর ৪৫০৯-এর ১৬ শতাংশ জমি ২০২২ সালে সাবকবলা দলিলমূলে কিনে ভোগদখল করে আসছেন সাবিনা রহমান।
তিনি ঢাকায় থাকায় তাঁর বোন ও ভাগিনা ওই জমিতে চাষাবাদ করেন।বর্তমানে জমিতে ধান রোপণ করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ওই জমিতে গিয়ে প্রায় অর্ধেক জমিতে লাগানো ধানের ওপর হালচাষ করেন।এতে রোপণ করা ধান নষ্ট হয়ে যায়। পরে সেখানে নতুন করে ধান রোপণ করে জমিটি দখলে নেন।
এ সময় সাবিনা ও তার বাধা দিতে গেলে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাঁদের খুন ও জখম করার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।এ বিষয়ে গ্রাম কমিটির সভাপতি আব্দুস সালাম বলেন, জমির সঠিক কাগজপত্র দেখেই সাবিনা কিনেছেন।এতে ধানও রোপন করেছেন।কিন্তু রহিছ মিয়া তার স্ত্রী রহিমার নামে সম্প্রতি একটি ভুয়া খারিজ করে এনে দখলের চেষ্টা করছিলেন।
মাস খানেক আগে স্থানীয়ভাবে সিদ্ধান্ত দেই যে, ধান রোপণ করেছেন সাবিনা তাই তিনি ফসল নেবেন।জমি নিয়ে মামলা মোকদ্দমা থাকলে সেটা আদালত যা সিদ্ধান্ত দেবে সেটাই বাস্তবায়ন হবে।তবে আজকে সকালে গিয়ে রোপন করা ধান খেতে ট্রাক্টর চালিয়ে ফসল নষ্ট করে দিয়েছে।
ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সোহেল চৌধুরী বলেন,জমির ফলস নষ্ট করে রহিছ মিয়ার ও লোকজন অপরাধ করেছে।সাবিনার সকল কাগজপত্র সঠিক।তারপরও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের তহশিলদার ভুয়া একটা খারিজ রহিছ মিয়ার স্ত্রী রহিমার নামে করে দিয়ে এই দ্বন্দ্ব তৈরি করেছে।ফসল নষ্টের বিচার হোক।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত রহিছ মিয়ার স্ত্রী রহিমা আক্তার বলেন,খারিজ মূলে এই জমির মালিক আমি।তাই আজকে নতুন করে আবার ওই জমিতে রোপণ করেছি।এরআগে জমি নিয়ে যে সালিশ হয়েছে, সেটা আমি মানি না।জানতে চাইলে সিংধা ইউনিয়নের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা উজ্জ্বল দত্ত বলেন,ওই জমিটির খতিয়ানে গড়মিল রয়েছে।
তবে কেন খারিজের সুপারিশ করলেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, খারিজ নেওয়ার সময় অনুমান করেছিলাম এটা নিয়ে ঝামেলা হবে।ভুয়া খারিজের বিষয়টি অবহিত করলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাজেদুল ইসলাম বলেন,ভুয়া খারিজের সত্যতা পাওয়া গেলে খারিজ বাতিল করা হবে এবং এতে তহসিলদারের কোন সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
IPCS News : Dhaka : শহীদুল ইসলাম : নেত্রকোণা।

