সোমবার ৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৩শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংবাদ শিরোনামঃ

আমির ফয়সাল হত্যা মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন-তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তনের আহ্বান

আপডেটঃ ১২:৪৪ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৬

নিউজ ডেস্কঃ

নেত্রকোণার উত্তর বিশিউড়া গ্রামে এইচএসসি পরীক্ষার্থী মোস্তফা আমির ফয়সাল (২০) হত্যা মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী।একই সঙ্গে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আমিনুল ইসলামের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাকে পরিবর্তন করে দক্ষ ও নিরপেক্ষ কর্মকর্তার কাছে তদন্তভার হস্তান্তরের দাবি জানানো হয়েছে।সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বেলা এগারোটায় নেত্রকোণা জেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান নিহত আমির ফয়সালের বাবা মোঃ নজরুল ইসলাম।

নেত্রকোণার চাঞ্চল্যকর আমির ফয়সাল হত্যা মামলায় জড়িতদের ফাঁসির দাবিতে’ এলাকাবাসী ও নিহতের পরিবারের উদ্যোগে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।লিখিত বক্তব্যে নিহতের বাবা জানান, গত ১ জুন রাত আনুমানিক ১১টার দিকে উত্তর বিশিউড়া গ্রামের একটি গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে উচ্চস্বরে সাউন্ড বক্সে গান বাজানোকে কেন্দ্র করে আমির ফয়সাল ও তার স্বজনদের সঙ্গে কয়েকজনের কথা-কাটাকাটি হয়।

একপর্যায়ে অভিযুক্তরা লাঠি,লোহার রডসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।হামলায় আমির ফয়সালের মাথার পেছনে বাঁশের লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়।পরে মামলার ১৫ নম্বর আসামি মোঃ মাসুম তার বুকের ওপর বসে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর করেন বলেও অভিযোগ করা হয়।

ফয়সালকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তার ভাতিজা রাব্বি হাসান রবিন ও নাতি আব্দুল্লাহ আল ফাহিমকেও লাঠি ও রড দিয়ে মারধর করা হয় বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।গুরুতর আহত আমির ফয়সালকে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়ার পর ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২ জুন রাত ৩টা ২০ মিনিটে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে নেত্রকোণা মডেল থানায় ১৯ জনের নাম উল্লেখ এবং ২০ থেকে ২৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করেন।লিখিত বক্তব্য অনুযায়ী,৩ জুন মামলাটি ১২ নম্বর মামলা হিসেবে রুজু হয়।এতে দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩২৩, ৩০২, ৩০৭, ৫০৬, ১১৪ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

নিহতের পরিবারের নিরাপত্তাহীনতার দাবি -নিহতের বাবা জানান,মামলার ১ ও ৫ নম্বর আসামিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল।তবে ৫ নম্বর আসামি জামিনে বের হয়ে অন্য আসামিদের সঙ্গে নিয়ে তাকে ও পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।এজাহারভুক্ত অন্য আসামিরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় পরিবার চরম আতঙ্কে রয়েছে দাবি করে নজরুল ইসলাম বলেন,মামলা তুলে নিতে তাদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।

একমাত্র ছেলেকে হারানোর পর এখন নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়েও তিনি শঙ্কিত।তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তনের দাবিসংবাদ সম্মেলনে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তোলা হয়।নিহতের পরিবারের দাবি, মামলার শুরু থেকেই বাদীপক্ষের সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তার আচরণ বিরূপ ছিল।

বিপরীতে আসামিপক্ষের প্রতি তিনি তুলনামূলক নমনীয় আচরণ করছেন বলে তাদের মনে হচ্ছে।এমনকি তদন্ত কর্মকর্তা আসামিপক্ষের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন—এমন অভিযোগ পাওয়ার কথাও সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়।তবে অভিযোগটির সত্যতা পরিবার নিজেরা নির্ধারণ করছে না উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্তের আহ্বান জানানো হয়।

নিহতের পরিবার বলেছে,তারা কোনো নিরপরাধ ব্যক্তিকে হয়রানি করতে চায় না।তবে প্রকৃত অপরাধীরা যেন রাজনৈতিক,সামাজিক প্রভাব-প্রতিপত্তি কিংবা অর্থের কারণে আইনের বাইরে যেতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।

একই সঙ্গে দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করে আমির ফয়সাল হত্যার সর্বোচ্চ শাস্তি,অর্থাৎ ফাঁসি নিশ্চিত এবং তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছে পরিবার।তবে তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনা আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। 

IPCS News : Dhaka :  শহীদুল ইসলাম : নেত্রকোনা।