বুধবার ৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৩শে পৌষ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সংবাদ শিরোনামঃ

পিলখানা হত্যাকাণ্ড ছিল পরিকল্পিত, বহিঃশক্তির সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিশন

আপডেটঃ ১১:০১ পূর্বাহ্ণ | ডিসেম্বর ০১, ২০২৫

নিউজ ডেস্কঃ

বিডিআর বিদ্রোহের নামে সংঘটিত পিলখানা হত্যাকাণ্ড ছিল একটি পূর্বপরিকল্পিত ঘটনা এবং এতে বহিঃশক্তির সরাসরি সম্পৃক্ততা থাকার শক্তিশালী প্রমাণ মিলেছে বলে জানিয়েছে জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন। এ ঘটনায় তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সম্পৃক্ততার অভিযোগও উত্থাপন করেছে কমিশন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুরো ঘটনার সমন্বয়কের ভূমিকায় ছিলেন তৎকালীন সংসদ সদস্য ও পরবর্তী সময়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস। কমিশনের দাবি, এই ঘটনার পেছনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘গ্রিন সিগন্যাল’ ছিল।রোববার কমিশনের প্রধান মেজর জেনারেল (অব.) আ ল ম ফজলুর রহমান প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে এই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় কমিশনের অন্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বিডিআর হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে ঘিরে জাতি দীর্ঘদিন অন্ধকারে ছিল। ইতিহাসের এমন ভয়াবহ ঘটনা নিয়ে যে প্রশ্নগুলো বহু বছর ধরে ঘুরপাক খাচ্ছিল, এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে তার উত্তর মিলবে বলে আশা করেন তিনি।

কমিশনের সদস্যদের বক্তব্য অনুযায়ী, তদন্তে দেখা গেছে হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনায় জড়িতদের রক্ষা করতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা সরাসরি ভূমিকা পালন করেন। ঘটনার পর ২০-২৫ জনের একটি মিছিল পিলখানায় প্রবেশ করলেও বের হওয়ার সময় মিছিলের সংখ্যা দুই শতাধিক ছাড়িয়ে যায়। তারা জানান, কেন সেনাবাহিনী দাঁড়িয়ে থাকল এবং কোনো অ্যাকশন নিল না তা নিয়েও রহস্য রয়ে গেছে।

কমিশন জানায়, এটি ছিল ১৬ বছর আগের ঘটনা। বহু আলামত ধ্বংস হয়ে গেছে এবং গুরুত্বপূর্ণ অনেক ব্যক্তি বিদেশে চলে গেছেন। তবুও সাক্ষ্যগ্রহণ, পুরোনো তদন্ত রিপোর্ট এবং বিভিন্ন আলামতের ভিত্তিতে ঘটনার প্রকৃত চিত্র খোঁজার চেষ্টা করা হয়েছে। অনেক সাক্ষীকে ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে জানান কমিশনপ্রধান।তদন্তে আরও উঠে আসে ঘটনাটি রাজনৈতিকভাবে সমাধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল; এতে পুলিশ, র‍্যাব, গোয়েন্দা সংস্থা এবং কিছু গণমাধ্যম প্রতিনিধির ভূমিকাতেও ছিল প্রশ্নবিদ্ধ ও অপেশাদার আচরণ।

কমিশনের সদস্য জাহাঙ্গীর কবির তালুকদার বলেন, এই হত্যাকাণ্ড শুধু বিদ্রোহ নয়, পরিকল্পিত একটি অপারেশন ছিল। তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের সম্পৃক্ততা এবং রাজনৈতিক আশ্রয়ের বিষয়টি তদন্তে সামনে এসেছে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধ এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচারের জন্য বেশ কিছু সুপারিশও করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় বিদ্রোহী জওয়ানদের হামলায় নিহত হন ৫৭ সেনা কর্মকর্তা। সে সময় কমিটি গঠন হলেও রিপোর্ট প্রকাশ পায়নি। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর নিহতদের স্বজনদের অভিযোগের ভিত্তিতে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে নতুন করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

IPCS News : Dhaka :