জুলাই গণ-অভ্যুত্থান: আবু সাঈদ হত্যায় ২২তম সাক্ষী হিসেবে হাজির হচ্ছেন হাসনাত
আপডেটঃ ১১:০৬ পূর্বাহ্ণ | ডিসেম্বর ০৯, ২০২৫
নিউজ ডেস্কঃ
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলায় গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য দিতে আজ হাজির হচ্ছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ।আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২–এর বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের প্যানেলে তিনি ২২ নম্বর সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেবেন।
প্রসিকিউশন জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ১০টার পর ট্রাইব্যুনালে আসতে পারেন তিনি। প্যানেলে চেয়ারম্যান ছাড়াও রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। এ মামলায় সাবেক ভিসি হাসিবুর রশীদসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে গঠিত অভিযোগের সাক্ষ্যগ্রহণ চলমান রয়েছে। বর্তমানে ছয় আসামি কারাবন্দি, বাকিরা পলাতক।এর আগের ২৭ নভেম্বর টানা ১৮তম দিনের শুনানিতে ২১ নম্বর সাক্ষীর জেরা শেষ হয় এবং আজকের দিন ধার্য করা হয় পরবর্তী সাক্ষ্যের জন্য। গত কয়েক সপ্তাহে শিক্ষার্থী, পুলিশ সদস্য, উপপরিদর্শক, ও বিভিন্ন প্রত্যক্ষদর্শীর জবানবন্দি গ্রহণ করেছে ট্রাইব্যুনাল। এক শিক্ষার্থী জানান, হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত্যুর ঘোষণা আসতেই পথ থেকে জোরপূর্বক লাশটি নিয়ে যায় পুলিশ। আরও এক প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থী শান-এ রওনক বসুনিয়া আন্দোলনের মুহূর্ত থেকে গুলিবর্ষণ পর্যন্ত বেশ কিছু ঘটনা তুলে ধরেন।
১৬ নভেম্বর মিঠাপুকুর থানার ওসি নূরে আলম সিদ্দিক ঘটনার দিনকার পুরো বিবরণ দেন। তার আগে ১৩ ও ১২ নভেম্বর দুই পুলিশ সদস্য জানান, কোতোয়ালি জোনের তৎকালীন এসি আরিফুজ্জামান ও তাজহাট থানার ওসি রবিউল ইসলামের নির্দেশে গুলি চালানো হয়, যাতে নিহত হন আবু সাঈদ। শিক্ষার্থী ইমরান আহমেদ ও আন্দোলনের অন্যতম নেতা আকিব রেজা খানও হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত আদালতে তুলে ধরেন।
মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় ২৮ আগস্ট, আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন ও সাংবাদিক মঈনুল হকের জবানবন্দির মাধ্যমে। তার আগেই ৬ আগস্ট ৩০ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। ২৪ জন আসামি এখনও পলাতক থাকায় তাদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত চার আইনজীবী যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করছেন। পলাতক ও গ্রেফতার থাকা আসামিদের পক্ষে বিভিন্ন সময়ে একাধিক আইনজীবী শুনানিতে অংশ নেন।
তদন্ত সংস্থা ২৪ জুন আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয় এবং মোট ৬২ জনকে সাক্ষী হিসেবে রাখা হয়েছে। বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নিতে ধারাবাহিকভাবে সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে, আর আজকের জবানবন্দিকে মামলার একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
IPCS News : Dhaka :

