শনিবার ১০ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৬শে পৌষ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সংবাদ শিরোনামঃ

হাদি হত্যার বিচার দাবি, সহিংসতা জাতীয় নির্বাচন অনিশ্চিত করার ষড়যন্ত্র: বিএনপি

আপডেটঃ ১১:৪৪ পূর্বাহ্ণ | ডিসেম্বর ২০, ২০২৫

নিউজ ডেস্কঃ

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির ওপর হামলা ও হত্যাকাণ্ডকে কাপুরুষোচিত আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা ও ঘৃণা প্রকাশ করেছে বিএনপি। একই সঙ্গে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংবাদমাধ্যম, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও কূটনৈতিক স্থাপনায় হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাকেও গভীর উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছে দলটি। বিএনপির ভাষ্য অনুযায়ী, এসব সহিংসতা প্রমাণ করে একটি পুরনো ও চিহ্নিত মহল পরিকল্পিতভাবে দেশকে নৈরাজ্যের দিকে ঠেলে দেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

শুক্রবার রাতে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠক শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বহু রক্তের বিনিময়ে অর্জিত ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকারকে ধ্বংস করে দেশে ফ্যাসিবাদের নতুন রূপ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে, যা সরকারের নাকের ডগাতেই সংঘটিত হচ্ছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার এসব অপতৎপরতা রোধে ব্যর্থ হওয়ায় জনগণের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে এবং এর ফলে দেশি-বিদেশি পরিসরে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, সংবাদপত্রের কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে সাংবাদিকদের জীবন সরাসরি ঝুঁকির মুখে ফেলা হয়েছে। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে পরিচিত সাংবাদিক ও নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবিরের ওপর হামলা, ছায়ানটসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগকে তিনি ভয়ংকর বার্তা হিসেবে উল্লেখ করেন।

বিএনপি মহাসচিব অবিলম্বে শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানিয়ে বিচার দাবি করছে এবং সরকারকে চাপের মুখে রাখছে। এমন পরিস্থিতিতে ধারাবাহিক সহিংসতা আগামী জাতীয় নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক উত্তরণের প্রক্রিয়াকে অনিশ্চিত করার গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ বলেই বিএনপি মনে করে।

স্থায়ী কমিটির বৈঠকে নেতারা বলেন, হাদির হত্যাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে খুলনা ও চট্টগ্রামে ভারতের হাইকমিশনের কার্যালয় ও বাসভবনে হামলা, ঢাকায় প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের প্রধান কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে পুনরায় অগ্নিসংযোগ, ছায়ানট ও ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টারে হামলা, উত্তরায় দোকানপাট ও রাজনৈতিক নেতার বাড়িতে অগ্নিসংযোগসহ সারাদেশে সহিংসতার বিস্তার ঘটানো হয়েছে। পাশাপাশি ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে ময়মনসিংহে এক হিন্দু যুবককে হত্যার ঘটনাও গভীর উদ্বেগের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, শান্তিকামী জনগণের পক্ষ থেকে এই ষড়যন্ত্রকারীদের স্পষ্টভাবে সতর্ক করা হচ্ছে—অগণিত ত্যাগে অর্জিত দেশকে ধ্বংস হতে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, এই অপশক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে নৈরাজ্যবিরোধী সব রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তির ঐক্য এখন সময়ের দাবি।

তিনি আরও বলেন, যে ঐক্যের মাধ্যমে অতীতে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার ও জাতীয় নির্বাচনের পথ তৈরি করা হয়েছিল, সেই ধারাবাহিকতাতেই সব দেশপ্রেমিক শক্তিকে আবারও এক কাতারে আসার আহ্বান জানানো হচ্ছে। বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থেকে আলোচনায় অংশ নেন এবং চলমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

IPCS News : Dhaka :