১৭ বিয়ের অভিযোগে বরখাস্ত বন কর্মকর্তা কবির হোসেন পুলিশ হেফাজতে
আপডেটঃ ১১:২৭ পূর্বাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৫
নিউজ ডেস্কঃ
বরিশাল বিভাগের সদ্য সাবেক বন কর্মকর্তা মো. কবির হোসেন পাটোয়ারীর বিরুদ্ধে বহুবিবাহ ও প্রতারণার অভিযোগ ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একের পর এক অভিযোগে চাপে পড়ে অবশেষে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে রংপুর বিভাগে সংযুক্ত করা হয়। কিন্তু বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে তিনি গোপনে বরিশাল ছাড়ার চেষ্টা করলে স্থানীয়দের বাধার মুখে পড়ে পুলিশি হেফাজতে যেতে হয় তাকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বরখাস্তের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাতের আঁধারে কবির হোসেন বরিশাল ত্যাগ করতে চাইলে একদল ঠিকাদার ও স্থানীয় লোকজন তাকে বাধা দেন। তারা অভিযোগ করেন, বন কর্মকর্তা কবির বিভিন্ন সময় তাদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা ধার নিয়েছিলেন, কিন্তু তা পরিশোধ না করেই পালানোর পরিকল্পনা করছিলেন। এতে হট্টগোলের সৃষ্টি হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং তাকে হেফাজতে নিয়ে যায়। পুলিশ জানায়, বিশৃঙ্খলা এড়ানোই ছিল মূল উদ্দেশ্য। পাশাপাশি অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হবে এবং পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কবির হোসেন পাটোয়ারীকে বহুবিবাহের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং রংপুর বিভাগে সংযুক্ত করা হয়েছে। তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দায়িত্ব নেন পটুয়াখালী বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (উপ-বন সংরক্ষক) ড. মোহাম্মদ জাহিদুর রহমান মিঞা। বরিশাল উপকূলীয় অঞ্চলের বন সংরক্ষক মিহির কুমার দে গণমাধ্যমকে জানান, মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত ই-মেইল ইতোমধ্যেই কার্যালয়ে এসেছে।
কবির হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি বিভিন্ন সময়ে বিদেশে পড়াশোনা, সরকারি চাকরি, এমনকি বিমানবালা হিসেবে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অন্তত ১৪ থেকে ১৭ নারীকে বিয়ে করেছেন। এর মধ্যে ঢাকার নাজনীন আক্তার শীলা, নারায়ণগঞ্জের সোনিয়া আক্তার ও খুলনার নাসরিন আক্তার দোলনসহ একাধিক নারী সরাসরি গণমাধ্যমে এসে অভিযোগ করেছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা গত ১১ সেপ্টেম্বর বরিশাল নগরীর কাশিপুর বন সংরক্ষক কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
অভিযোগগুলো প্রকাশ্যে আসার পরপরই বরিশালে আদালতে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। বরিশাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট হাফিজ আহমেদ বাবলু স্ব-প্রণোদিত হয়ে মেট্রোপলিটন প্রথম আমলি আদালতে মামলা করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার বাদী আইনজীবী জানান, কবির হোসেন প্রথম বিয়ে গোপন রেখে একের পর এক ১৭টি বিয়ে করেছেন, যা মুসলিম ফ্যামিলি আইনের ১৯৬১ সালের ধারা অনুযায়ী অপরাধ। একই সঙ্গে এটি ধর্মীয় মূল্যবোধ, সামাজিক রীতি ও দেশের সংস্কৃতিকে চ্যালেঞ্জ করে গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
কবির হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ঢাকা, খুলনা, সিরাজগঞ্জ, বাগেরহাটসহ বিভিন্ন জেলায় কর্মরত থাকাকালে একই ধরনের প্রতারণা করেছেন। প্রতিটি বিয়ের পেছনে ছিল চাকরির সুযোগ, সম্পত্তি হস্তান্তর কিংবা বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন। এখন পর্যন্ত একাধিক নারী সরাসরি তার প্রতারণার শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, তিনি প্রতারণার মাধ্যমে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
সার্বিক বিষয়ে অভিযুক্ত বন কর্মকর্তা কবির হোসেনের মন্তব্য জানার জন্য বারবার তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে কল করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া গেছে। ফলে তার প্রতিক্রিয়া পাওয়া সম্ভব হয়নি।
IPCS News : Dhaka :

