হাসিনার পতন আল্লাহর গজব: ইসির সংলাপে কাদের সিদ্দিকী
আপডেটঃ ১০:৩৯ পূর্বাহ্ণ | নভেম্বর ১৭, ২০২৫
নিউজ ডেস্কঃ
আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের সম্মেলন কক্ষে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের চলমান সংলাপে কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী রোববার যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তিনি সোজাসাপ্টা ভাষায় বলেন, শেখ হাসিনার পতনে বিএনপি, জামায়াত কিংবা নতুন কোনো রাজনৈতিক শক্তির ভূমিকা নেই; বরং এটি ছিল আল্লাহর গজব, যা তার অসন্তুষ্টির প্রতিক্রিয়ায় এসেছে। তার এই ব্যাখ্যা দেশের রাজনীতিতে নতুন ব্যাখ্যা তৈরি করলেও, কাদের সিদ্দিকীর বক্তব্যের ভঙ্গি ছিল দৃঢ় ও স্পষ্ট।
সংলাপের শুরুতেই তিনি নির্বাচন কমিশনকে তাদের সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থান সম্পর্কে স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, তফশিল ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশনই রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান, যার সিদ্ধান্ত সরকারসহ অন্য সব প্রতিষ্ঠানকে মানতে হয়। জনগণের ভোটাধিকার রক্ষার গুরুদায়িত্ব যে কমিশনের ওপর বর্তায়, সেটা নিশ্চিত করার জন্য কমিশনকে স্বাধীন, দৃঢ় ও নিরপেক্ষ থাকতে হবে বলেও তিনি জোর দিয়ে উল্লেখ করেন।গত ১৫ মাস ধরে সরকারের ডাকে কোনো আলোচনায় না যাওয়ার সিদ্ধান্তের কথাও তুলে ধরেন তিনি। কাদের সিদ্দিকী স্পষ্ট করে বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে সরকার যে আলোচনা উদ্যোগ নিয়েছে, তাতে অংশগ্রহণের প্রশ্নই আসে না। তিনি বলেন, সরকারের ভূমিকা শুধু তফশিল ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকা উচিত। এর বাইরে কোনো প্রভাব বা নির্দেশ দেওয়ার অধিকার সরকারের নেই।
গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন একই সঙ্গে আয়োজনের সিদ্ধান্তকে তিনি গুরুতর অসঙ্গতি বলে উল্লেখ করেন। তার মতে, গণভোটে যদি ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ ভোটার অংশ না নেন, তবে পুরো নির্বাচনই হুমকির মুখে পড়বে। এমন পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বেড়ে যেতে পারে এবং ভোট গ্রহণের পরিবেশও প্রশ্নের মুখে পড়বে। তিনি অতীত নির্বাচন কমিশনের আচরণকেও সমালোচনা করেন। তার অভিযোগ, অতীতের কমিশনগুলো সরকারের ইচ্ছা পূরণেই ব্যস্ত ছিল, যা গণতন্ত্র ও নির্বাচন ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে তিনি বিশ্বাস করেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের সামনে সেই ভুল সংশোধনের সুযোগ রয়েছে।
সংলাপে জামায়াতে ইসলামীর প্রসঙ্গও ওঠে। জামায়াতকে সম্মান না দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কাদের সিদ্দিকী বলেন, তিনি খেলাফত আন্দোলনসহ ইসলামপন্থি দলগুলোর প্রতি সম্মান দেখালেও, জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ভূমিকার জন্য জাতির কাছে ক্ষমা না চাওয়ায় তারা কোনো মর্যাদা পাওয়ার যোগ্য নয়। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, জাতির কাছে ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত জামায়াত সম্মান পাওয়ার অধিকার অর্জন করতে পারে না।
সংলাপজুড়ে কাদের সিদ্দিকীর বক্তব্যে প্রতিফলিত হয়েছে রাজনৈতিক বাস্তবতা, অতীতের অভিজ্ঞতা এবং সামনে আসা নির্বাচনের জটিলতা নিয়ে তাঁর উদ্বেগ। তার বক্তব্য নির্বাচন কমিশনকে তাদের কর্তৃত্ব ও দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোকেও সতর্ক করেছে নির্বাচনী পরিবেশের গুরুত্ব সম্পর্কে।
IPCS News : Dhaka :

