শনিবার ১০ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৬শে পৌষ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সংবাদ শিরোনামঃ

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল আরএনবি কর্তার ৩০ সদস্যকে বদলি, অর্থ বাণিজ্যর অভিযোগ

আপডেটঃ ১২:৪৬ অপরাহ্ণ | ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫

নিউজ ডেস্কঃ

রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি) পূর্বাঞ্চলে একদিনেই ৩০ জন সদস্যকে বদলি করা হয়েছে।১১ ডিসেম্বর  পৃথক চারটি দপ্তরাদেশে এই বদলির নির্দেশনা দেওয়া হয়।সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রশাসনিক স্বার্থে বদলি দেওয়া হলেও এসব বদলির আড়ালে চলছে দীর্ঘদিনের ‘বদলি–বাণিজ্য’।চিফ কমান্ড্যান্ট (পূর্ব) এর অধীনে সিআরবিস্থ সদর রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর কমান্ড্যান্ট মোহাম্মদ ওমর ফারুক স্বাক্ষরিত দুটি আদেশে ৭ জন করে মোট ১৪ জন সিপাহিকে বদলি করা হয়।আদেশে বলা হয়, বদলি ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে কার্যকর করতে হবে।অন্যথায় ১৭ ডিসেম্বর থেকে সংশ্লিষ্ট সদস্যকে তাৎক্ষণিক অবমুক্ত হিসেবে গণ্য করা হবে।

অন্যদিকে একই দিন চট্টগ্রাম বিভাগের কমান্ড্যান্ট মো. শহীদ উল্লাহর স্বাক্ষরে জারি হওয়া আরও দুটি দপ্তরাদেশে ৮ জন করে মোট ১৬ জন সিপাহিকে বদলি করা হয়েছে।এই আদেশ ১৩ ডিসেম্বরের মধ্যে কার্যকর না হলে ১৪ ডিসেম্বর থেকে তাদের অবমুক্ত ধরা হবে বলেও উল্লেখ করা হয়।উভয় দপ্তরাদেশে আরও বলা হয়, এই বদলি প্রশাসনিক স্বার্থে এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের সম্মতিক্রমে জারি করা হয়েছে।

এর আগে গত ৮ ডিসেম্বর, আরএনবির পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের দুই শীর্ষ পদে রদবদল করা হয়।পূর্বাঞ্চলের চিফ কমান্ড্যান্ট মো. আশাবুল ইসলামকে পশ্চিমাঞ্চলে এবং পশ্চিমাঞ্চলের চিফ কমান্ড্যান্ট জহিরুল ইসলামকে পূর্বাঞ্চলে বদলি করা হয়।তবে কর্মকর্তারা এখনও বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদান করেননি।

দপ্তরাদেশে প্রশাসনিক স্বার্থে বদলির কথা বলা হলেও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক আরএনবি সদস্য বলেন, চিফ কমান্ডেন্ট বদলি হওয়ায় তিনি যাবার বেলায় এই গণবদলির আয়োজন করেছেন।প্রতিটি বদলি হয়েছে যার যার পছন্দের জায়গায়।যে যেখানে যেতে চেয়েছেন তাকে সেখানে বদলি করা হয়েছে।বদলি হতে জনপ্রতি ৩০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন আরএনবি সদস্য বলেন, চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে দুই মাস আগে সিপাহি মো. সাদ্দাম হোসেনকে বদলি করে সিআরবিতে আনা হয়।কিন্তু সাদ্দামের পছন্দের জায়গা চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন।তাই এবার সুযোগে তিনি অর্থের বিনিময়ে তার পছন্দের কর্মস্থলে বদলি নিয়েছেন।এরকম আরও অনেকেই আছেন বলে জানান তিনি।একাধিক আরএনবি সদস্য জানান, আরএনবিতে বদলি-বাণিজ্য খোলামেলা বিষয়।

তারা জানায়,ইনস্পেক্টর পদে বদলিতে এক লাখ ৫০ হাজার, হাবিলদার পদে ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ এবং সিপাহি পদে ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়।তারা জানান, বদলির ক্ষেত্রে পরোক্ষভাবে নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ লেনদেনই হয়ে থাকে।এছাড়া বদলি ঠেকাতে বা পছন্দের জায়গায় যেতে উভয় ক্ষেত্রেই টাকা দিতে হয় শীর্ষ কর্তাদের।

তারা আরো জানায়,প্রমোশন ও বদলি বাণিজ্যের অর্থের বড় অংশ যায় চিফ কমান্ডেন্টের পকেটে।এর পরের অংশ পান চট্টগ্রাম বিভাগের কমান্ড্যান্ট মো. শহীদ উল্লাহ ও সদর রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী সিআরবির কমান্ড্যান্ট মোহাম্মদ ওমর ফারুক।সিআরবি সূত্রে জানাগেছে, চিফ কমান্ডেন্ট মো. আশাবুল ইসলামের বিরুদ্ধে আরএনবিতে বদলি বাণিজ্য, র‌্যাঙ্ক বাণিজ্যের অভিযোগ নতুন কিছু নয় !

এছাড়াও তার বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে প্রশাসনিক সিনিয়রিটি উপেক্ষা করে কম অভিজ্ঞতা সম্পন্ন কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পোস্টিং দেওয়া, বিতর্কিতদের ইউনিট প্রধানের দায়িত্ব দেয়া, অবৈধ কর্মকাণ্ড থেকে নিয়মিত মাসোহারা নেওয়া, নির্ধারিত মাসোহারা না দিলে সংশ্লিষ্ট স্টেশন ও ইউনিট থেকে বদলির চাপ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

জানাগেছে,নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগে চিফ কমান্ডেন্ট মো. আশাবুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মামলা দায়ের করেছিলো।গণবদলি ও বদলি বাণিজ্যের অভিযোগের বিষয়ে চিফ কমান্ডেন্ট মো. আশাবুল ইসলাম বলেন, নিরাপত্তাবাহনী রেলওয়ের একটি গুরুত্বপূর্ন  অংশ।এখানে বদলী ও প্রমোশন দেয়া হয় সিনিয়োরদের মধ্যে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতাদের।

তিনি আরো বলেন,সম্প্রতি ৩০ জনের বদলীর  আদেশ বাতিল করা হয়েছে।আমার পশ্চিমাঞ্চল রেলে বদলীর মহুর্তে,কমান্ডেন্ট (চট্টগ্রাম) বদলি করেছে আমি জানতাম না।হঠাৎ করে অনুমোদন চাইলো  আমি দিয়ে দিলাম।পরে ভেবে দেখলাম এ দপ্তর থেকে যাওয়ার সময় এরকম বদলি করা ঠিক না।পরক্ষনেই আমি কমান্ডেন্ট বলেছি সব বদলী আদেশ স্থগিত কোরতে।

বদলি বাণিজ্যের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসব অভিযোগ, ভিত্তিহীন।প্রশাসনিক স্বার্থে  প্রমোশন ও বদলী করণ এটা নিয়মিত বদলি রুটিন।এছাড়া  দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে,যাদের নামে অভিযোগ উত্থাপিত হয় প্রশাসনিক সার্থে তাদের বদলী করা হয়।

IPCS News : Dhaka : আবুল কালাম আজাদ।