মঙ্গলবার ৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২২শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংবাদ শিরোনামঃ

বরেন্দ্র এক্সপ্রেস ট্রেন ভ্রমনে একদিন

আপডেটঃ ১২:০৮ অপরাহ্ণ | আগস্ট ২৮, ২০২৫

নিউজ ডেস্কঃ

বরেন্দ্র এক্সপ্রেস ট্রেনে রাজশাহী থেকে সৈয়দপুর যাচ্ছি।ট্রেনটি একেবারে গণমানুষের যাত্রার একমাত্র বাহন।বর্তমানে পাঁচটি প্যাসেঞ্জার কোচ রয়েছে।বসা যাত্রীর চেয়ে দাঁড়ানো যাত্রী কিছু বেশী।যাত্রী ছাড়াও রেয়েছে ভিক্ষুক ও হিজড়া।হিজাড়ারা কিছুই মানতে চান না।এরা এমন আচরন করেন যা খুবই বিব্রতকর।একবার চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করতে গেলে একজন তার গায়ের কাপড় অর্ধেক খুলে ফেলে।এবার কাছে আসার সাথে সাথে সিট থেকে একটু দূরে গিয়ে দাঁড়িয়ে অন্য দিকে চেয়ে রইলাম যেন কিছুই জানিনা।পানির তৃষ্ণা পেয়েছে কিন্তু ফেরিয়ালার কাছ থেকে পানি কিনতে সাহস পেলাম না আসল না নকল বুঝতে পারছি না।

কয়কজন নাটোর থেকে কাঁচা গোল্লা বিক্রি করতে উঠেছেন।এক যাত্রী রসিকতা করে জানতে চাইলেন কাঁচা গোল্লায় ভেজাল কেমন ? পাশের জন বললেন অর্ধেক ই ময়দা।ইন্দোনেশিয়ার কোচ, মহা গরম।এক হকার তাল পাতার তৈরী হাত পাখা বিক্রি করছেন।এক দম্পতি গরমে কাহিল হয়ে  তাল পাখার বাতাস খেয়ে ঠান্ডা হবার চেস্টা করছে।এক হকার চিৎকার করে সোন পাপড়ি বিক্রি করছেন।

এইবার দিয়ে চারবার round দিলো।বিক্রি ভালো না।এক বাচ্চা সোন পাপড়ি খেতে চাইলে মা এমন জোরে ধমক দিলেন, বাচ্চা প্রায় অজ্ঞান হবার উপক্রম।আইসক্রিম ওয়ালার আগমন।তিনি আইসক্রিম কে গরমের সেরা বন্ধু হিসেবে উপস্থাপন করছেন।কয়কজন যাত্রী বাদাম খেয়ে খোসা কোচের ফ্লোরে ফেলে যেন অপরিষ্কার করার প্রতিযোগিতায় নেমেছেন।

একটু দূরে দাঁড়িয়ে থাকা মাকে জড়িয়ে ধরে এক বাচ্চা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ঘুমুচ্ছে।কিছুক্ষণ পরেই ধপাস শব্দ পেলাম।তাকিয়ে দেখি মেয়েটি ঘুমের ঘোরে ফ্লোরে  পড়ে গিয়েছিল।এর মধ্যে এক পিচ্চি টেনিস বল নিয়ে খেলছিল।আহারে বলটি জোরে ছুঁড়ে মারায় কোন দিক যে গেল ঠিক বোঝা যাচ্ছে না।বাপ খুঁজে হয়রান, পেলেন না।

এক যাত্রী মেয়ের বাড়ি যাচ্ছেন সাথে এক বস্তা চাল, ২ টি লাউ, ১ টি কুমড়া ও ব্যাগের মধ্যে মনে হয় আরো কিছু আছে।সমস্যা হলো তিনি হাঁটাচলার পথ বন্ধ করে দিয়েছেন।এক স্ত্রী ভক্ত স্বামী সদ্য বিবাহিতা প্রিয়তমা স্ত্রীকে বাতাস করেই যাচ্ছেন।স্ত্রী চোখ বুঁজে স্বামীর ভালবাসায় মোড়ানো ঠান্ডা বাতাস উপভোগ করছেন, মনে হয় চুপিচুপি কিছু বলছেন কিন্তু এত দূর থেকে শোনা যাচ্ছে না।

এই ট্রনটির একটা সুনাম আছে, ট্রেনটি নিজে দাঁড়িয়ে থেকে সামনের সকল ট্রেনকে সাইড দিয়ে সামনে এগুতে থাকে।এজন্য বরেন্দ্র ট্রেনের কোন শত্রু  নেই, তাই সৈয়দপুর পৌঁছাতে সম্ভবত ১ ঘন্টার ও বেশী দেরী হবে।

IPCS News : Dhaka : আবুল কালাম আজাদ : রাজশাহী।