মঙ্গলবার ৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২২শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংবাদ শিরোনামঃ

জামায়াত-এনসিপি ঐক্যে ভাঙন: যুগপৎ আন্দোলনে অনুপস্থিত এনসিপি

আপডেটঃ ১১:০২ পূর্বাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৫

নিউজ ডেস্কঃ

আগামী জাতীয় নির্বাচন ও রাজনৈতিক সংস্কার ইস্যুকে ঘিরে দেশের রাজনীতিতে একসময় যে ঐকমত্যের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছিল জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র মধ্যে, বর্তমানে সেখানে তৈরি হয়েছে দূরত্ব।কয়েক মাস আগে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও পিআর পদ্ধতিতে সংসদ নির্বাচনের দাবিতে যুগপৎ আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়া হলেও শেষ মুহূর্তে সেই পরিকল্পনা থেকে সরে দাঁড়িয়েছে এনসিপি।ফলে রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন প্রশ্ন উঠছে কেন ভেঙে যাচ্ছে এই সম্ভাব্য ঐক্যের সূত্র?

সোমবার জামায়াত ইসলামী খেলাফত মজলিস, ইসলামী আন্দোলন ও আরও কয়েকটি ইসলামী দলকে নিয়ে যুগপৎ আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে।কিন্তু সেখানে অংশ নেয়নি এনসিপি, গণঅধিকার পরিষদ কিংবা এবি পার্টি।এনসিপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সব দাবিতে তারা একমত হতে পারেনি। বিশেষ করে পিআর পদ্ধতি নিয়ে জামায়াত ও অন্যান্য ইসলামী দল যেখানে উচ্চ ও নিম্নকক্ষ উভয় ক্ষেত্রেই এটি বাস্তবায়নের দাবি তুলেছে, সেখানে এনসিপি কেবল উচ্চকক্ষের জন্যই পিআরের পক্ষে।এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব জানিয়েছেন, এই মতপার্থক্যই তাদেরকে আপাতত যুগপৎ আন্দোলন থেকে দূরে রেখেছে।দলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিতেও স্পষ্ট বিভাজন তৈরি হয়েছে।একাংশ জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনি সমঝোতা ও আন্দোলনে যেতে চাইছে, অন্যদিকে বিশেষ করে বামঘরানার তরুণদের একটি অংশ ধর্মভিত্তিক দলের সঙ্গে জোট গঠনের বিরোধিতা করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এনসিপি যেহেতু একটি নতুন দল এবং এতে বিভিন্ন মতাদর্শ থেকে তরুণরা যুক্ত হয়েছে, তাই অভ্যন্তরে মতানৈক্য স্বাভাবিক।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক রাশেদা রওনক খান এ বিষয়ে বলেন, “লক্ষ্যের জায়গা এক হলেও লক্ষ্য পূরণের প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয় সামনে এলে দূরত্ব তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়।এনসিপির ভেতরে মতপার্থক্য কৌশলগত অবস্থান হিসেবেও দেখা যেতে পারে।”সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ডাকসু) ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাকসু) নির্বাচনে এনসিপি-সমর্থিত ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ (বাগছাস) বিপর্যয়কর ফলাফল করেছে।অপরদিকে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে জামায়াত সমর্থিত ইসলামী ছাত্রশিবির।এ ফলাফলে এনসিপির শীর্ষ পর্যায়ে হতাশা নেমে এসেছে বলে জানা যায়।বিশ্লেষকদের মতে, এই ব্যর্থতা দলটির নেতৃত্বকে জামায়াতের প্রতি আরও সতর্ক করে তুলেছে।

আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে বৃহত্তর বিরোধী জোট গঠনের পরিকল্পনা থাকলেও এনসিপি আপাতত জামায়াত কিংবা বিএনপির সঙ্গে জোটে যাচ্ছে না।এনসিপির কয়েকজন নেতা জানিয়েছেন, যদি জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচন করে তারা বিরোধী দলে থেকে যায়, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই এখনই সমঝোতার পথে হাঁটতে তারা আগ্রহী নন।একজন সিনিয়র নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “ক্ষমতায় যাওয়ার নিশ্চয়তা থাকলে জামায়াতের সঙ্গে জোট করতাম।কিন্তু ঝুঁকি নিয়ে বিরোধী দলে যাওয়ার চেয়ে আমাদের কৌশলগত অবস্থান আলাদা রাখা ভালো।”

যদিও আপাতত দূরত্ব স্পষ্ট, জামায়াতের পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে এনসিপি ভবিষ্যতে আবারও অবস্থান বদলাতে পারে। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, “আমাদের সঙ্গে এনসিপির অনেক দাবির মিল আছে। তবে এখন তারা কর্মসূচিতে যাচ্ছে না। ভবিষ্যতে আবারও একসঙ্গে আসতে পারে।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এনসিপি যেহেতু নতুন দল, তাই কৌশলগত অবস্থান তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আপাতত তারা নিজেদের পরিচিতি গড়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে এলে জোট রাজনীতিতে ফের তাদের অবস্থান বদলানোর সম্ভাবনাই বেশি।

IPCS News : Dhaka :