নেত্রকোনায় আদম দালালের খপ্পরে পড়ে নিঃস্ব যুবক: বিচার দাবী
আপডেটঃ ২:২৮ অপরাহ্ণ | জানুয়ারি ২৯, ২০২৬
নিউজ ডেস্কঃ
নেত্রকোনা:- নেত্রকোনায় আদম দালালের খপ্পরে পড়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে এক পরিবার।নেত্রকোনা সদর উপজেলার সিংহের বাংলা ইউনিয়নের পঞ্চাননপুর গ্রামের বাসিন্দা ফজলু মিয়ার ছেলে ইয়াসিন আরাফাত নামে এক যুবকের কাছ থেকে ১২ লক্ষ টাকা নিয়ে উধাও হয়েছে একেই উপজেলার ঠাকুরাকোনা ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামের বাসিন্দা মোঃ সাকিব হোসেন মুন্না,নাজমুল হোসেন, পিতা মৃত মনো মিয়া এবং মোঃ বাবুল মিয়া পিতা হাবিবুর রহমান ও দূর্গাশ্রম গ্রামের বাসিন্দা আরশাদ মিয়া পিতা মৃত সন্তু মিয়া নামে আদম দালাল চক্র।
এই ঘটনায় এলাকায় গ্রামীণ দরবার শালিস ও আদালতে বিজ্ঞ মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করার পাশাপাশি বার বার প্রশাসনের কাছে ধন্না দিয়ে টাকা পাচ্ছেন না ভুক্তভোগি।অভিযোগ উঠেছে,মামলা হলেও অদৃশ্য কারনেই ধরাছোঁয়ার বাইরে অভিযুক্ত মোঃ সাকিব হোসেন মুন্না,মোঃ বাবুল মিয়া,আরশাদ মিয়া ও নাজমুল হোসেন।যদিও পুলিশ বলছে,প্রতারককে ধরতে চলছে বিশেষ অভিযান।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে,নেত্রকোনা সদর উপজেলার পঞ্চাননপুর গ্রামের বাসিন্দা ফজলু মিয়ার ছেলে ইয়াসিন আরাফাতের কাছ থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে বিদেশ পাঠানোর জন্য আদম দালাল মোঃ সাকিব হোসেন মুন্না,নাজমুল হোসেন, মোঃ বাবুল মিয়া ও আরশাদ মিয়া ১২ লাখ টাকা নেন।আরও জানা গেছে দুই মাসের মধ্যে বিদেশে নেয়ার কথা থাকলেও প্রায় এক বছর হয়ে গেছে সে তাকে বিদেশে পাঠাতে পারেননি।
এতে করে ইয়াসিন আরাফাতের মধ্যে বিরাজ করছে হতাশা।শুধু ইয়াসিন আরাফাতেই নয়।এমন আরও অনেক মানুষের কাছ থেকে প্রায় কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়েছে সাকিব হোসেন মুন্নার চক্র।স্থানীয়ভাবে বেশ কয়েকবার বিষয়টি নিয়ে শালিস মিমাংসায় বসা হয়েছিল।সেখানেও প্রতারণার শিকার ইয়াসিন আরাফাত সহ বেশ কয়েকজন যুবক অভিযোগ করেছিল।
ভুক্তভোগী ইয়াসিন আরাফাতের অভিযোগ, গবাদিপশু বিক্রি,জমি বন্ধকসহ সুদে এনে ১২ লাখ টাকা তুলে দেন আদম দালাল সাকিব হোসেন মুন্না চক্রের হাতে।ইয়াসিন আরাফাতের নিকটতম আত্মীয় হওয়ায় মুন্নার কাছে এই টাকা দেন ইয়াসিন আরাফাত।আরও জানা যায়,বিদেশ নিতে না পারায় সাকিব হোসেন মুন্নার কাছে পাওনা টাকা ফেরত চাইলে টালবাহানা করে সে।
মুন্নার এলাকায় গিয়ে জানা যায় বিদেশ পাঠানোর কথা বলে এলাকার আরও লোকজনের কাছ থেকে প্রায় কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা এই প্রতারক।পরে আদালত ও প্রশাসনের দারস্থ হয় ভুক্তভোগী ইয়াসিন আরাফাত।ভুক্তভোগী ইয়াসিন আরাফাতের দাবী প্রায় এক বছর আগে বিদেশে নেয়ার জন্য সাকিব হোসেন মুন্না, নাজমুল হোসেন,মোঃ বাবুল মিয়া ও আরশাদ মিয়া ১২ লাখ টাকা নেয়।
দুই থেকে আড়াই মাসের মধ্যে রাশিয়া নিয়ে দিবে,কিন্তু প্রায় এক বছরেও সে বিদেশে নিতে পারিনি।এখন টাকা চাইলে সে বাড়ি থেকে পালিয়েছে।এদিকে ভুক্তভোগী ইয়াসিন আরাফাত বলেন, আমাকে বিদেশে নেয়নি,আর আমার পাওনা ১২ লাখ টাকাও ফেরত দেয়নি।ধারদেনা করে টাকা দিছি।এখন খুব সমস্যার মধ্যে আছি।
ইয়াসিন আরাফাত আরও বলেন,আমি বিদেশে যাবার জন্য সাকিব হোসেন মুন্নার ভাই নাজমুল হোসেনের কাছে ১২ লক্ষ টাকা দেই, কারণ এসময় সাকিব হোসেন মুন্না রাশিয়া ছিলো।কিন্তু সে বিদেশ নিচ্ছে না এখন সে পলাতক রয়েছে।আমার অনেক স্বপ্ন ছিল,বিদেশে গিয়ে পরিবারের স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনবো।কিন্তু সেটা আর হচ্ছে না।
সাকিব হোসেন মুন্না আদম দালালের মুখে ছিল মধু,আর অন্তরে বিষ।এই প্রতারকের কথায় আমরা অনেক মানুষ ফাঁদে পড়েছি।আমরা পাওনা টাকা ফেরত চাই,পাশাপাশি প্রতারক সাকিব হোসেন মুন্না চক্রের বিচার চাই।অন্যদিকে নেত্রকোনা পুলিশ সুপার মো.তরিকুল ইসলাম জানান,বিদেশে নেয়ার কথা বলে অসহায় মানুষের সাথে প্রতারনা করেছেন সাকিব হোসেন মুন্না চক্র।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য মতে, প্রায় কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা এখন সাকিব হোসেন মুন্না চক্র।অভিযুক্তকে ধরতে চলছে পুলিশের অভিযান।শিগগিরই সে আইনের হাতে ধরা পড়বে।এদিকে ঘটনা জানতে অভিযুক্ত সাকিব হোসেন মুন্নার বাড়ি নেত্রকোনা সদর উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি।আর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও বন্ধ থাকায় তার কোনো বক্তব্যই পাওয়া যায়নি।
IPCS News : Dhaka : শহীদুল ইসলাম : নেত্রকোনা।

