টার্গেট কিলিং তালিকায় জুলাই সংগঠকরা, উদ্বেগ বাড়ছে নিরাপত্তা নিয়ে
আপডেটঃ ১০:৫৯ পূর্বাহ্ণ | ডিসেম্বর ১৩, ২০২৫
নিউজ ডেস্কঃ
গতকাল শুক্রবার সন্ত্রাসীদের গুলিতে গুরুতর আহত হয়েছেন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী শরিফ ওসমান বিন হাদি।আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার অবস্থা এখনও সংকটাপন্ন এবং নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।ঘটনার পর সামনে এসেছে আরও উদ্বেগজনক তথ্য।সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন জুলাই যোদ্ধাকে হত্যার উদ্দেশ্যে টার্গেট কিলিংয়ের পরিকল্পনার বিষয়ে সরকারকে আগেই অবহিত করা হয়েছিল।কিন্তু সেই তথ্যের ভিত্তিতে কার্যকর কোনো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, এমন অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে।
সূত্র জানায়, ওই সম্ভাব্য টার্গেট কিলিংয়ের তালিকায় শরিফ ওসমান বিন হাদির পাশাপাশি জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ এবং আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদসহ আরও কয়েকজন জুলাই সংগঠকের নাম ছিল। এ সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট তথ্য চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী এক আইনজীবীর মাধ্যমে সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও উচ্চপর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া হয়।ওই আইনজীবী তার হাতে থাকা তথ্যকে ‘অত্যন্ত বিশ্বাসযোগ্য’ বলে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেছিলেন। তিনি জানান, পেশাগত কারণে বিশ্বের কয়েকটি দেশের নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকায় এসব স্পর্শকাতর তথ্য তার কাছে আসে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের বিপদের আশঙ্কা রয়েছে বলেও তিনি তখন সতর্ক করেন বলে সূত্রের ভাষ্য।
এ বিষয়ে ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, তারা একাধিকবার সরকারকে সম্ভাব্য হামলার তথ্য জানিয়েছেন, কিন্তু বাস্তবে কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তার মতে, শুধু ব্যক্তিগত নিরাপত্তা জোরদার করলেই সমস্যার সমাধান হয় না। বিদ্যমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় পুলিশি পাহারায় মাঠের রাজনীতি করা কঠিন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বড় ধরনের অভিযান ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। কয়েকজন ছোটখাটো অপরাধী ধরার নামে লোক দেখানো অভিযানে পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
সূত্র অনুযায়ী, হত্যার হুমকির তথ্য পাওয়ার পর যুক্তরাজ্যপ্রবাসী ওই আইনজীবী দ্রুত ঢাকায় এসে হাসনাত আবদুল্লাহ, ব্যারিস্টার ফুয়াদ ও ওসমান হাদির সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেন। এরপর তারা সরকারের উচ্চপর্যায়ের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে যোগাযোগ করে উদ্বেগের কথা জানান। সে সময় সরকারিভাবে বডিগার্ড বা ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও মাঠের রাজনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাবের কথা বিবেচনা করে তারা তাতে সম্মত হননি।
হাদির ওপর হামলার ঘটনার পর ওই আইনজীবী বলেন, সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে আগাম তথ্য জানানো সত্ত্বেও হামলা ঠেকানো সম্ভব হয়নি। অন্যদের ক্ষেত্রেও এখনও প্রাণনাশের ঝুঁকি রয়ে গেছে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
এদিকে সরকারের বক্তব্য জানতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জে. (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি এবং আইজিপি বাহারুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পরে আইজিপি বাহারুল আলম খুদেবার্তায় জানান, এ ধরনের নির্দিষ্ট কোনো তথ্য তাদের কাছে ছিল না।
অন্যদিকে পুলিশ সূত্র জানায়, হাদির ওপর হামলার পেছনে বিদেশে অবস্থানরত সন্ত্রাসীদের সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজন হিসেবে ফিলিপ ওরফে গারো ফিলিপ নামের এক ভাড়াটে কিলারের নাম সামনে এসেছে। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে এবং তাকে আটক করা গেলে এই হত্যামিশনের নেপথ্যে কারা রয়েছে, সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
IPCS News : Dhaka :

