মঙ্গলবার ৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২২শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংবাদ শিরোনামঃ

আসন্ন মহাবিপর্যয়ের সতর্কবার্তা, ভূমিকম্প মোকাবিলায় কাঠামোগত সংস্কারের দাবি

আপডেটঃ ১০:৩০ পূর্বাহ্ণ | নভেম্বর ২২, ২০২৫

নিউজ ডেস্কঃ

সাম্প্রতিক ভূমিকম্পগুলোর প্রেক্ষাপটে আসন্ন বড় দুর্যোগের আশঙ্কায় জরুরি সতর্কবার্তা দিয়েছে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ। তারা বলেছে, বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ এবং অপরিকল্পিত নগরায়নের শিকার বাংলাদেশ আজ মহাবিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে। তাই দেশের ভূমিকম্প ঝুঁকি মোকাবিলায় কালক্ষেপণ না করে রাষ্ট্রের কাঠামোগত সংস্কার এখন সময়ের দাবি।

শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনী ইহসান আজকের ভূমিকম্পে হতাহতদের প্রতি শোক ও সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, এই মর্মান্তিক ঘটনায় প্রাণ হারানোদের রুহের মাগফিরাত কামনা করি। যারা তাদের প্রিয়জনদের হারিয়েছেন তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি এবং ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত পুনর্বাসনের আহ্বান জানাচ্ছি।বিবৃতিতে তিনি বলেন, আজকের ভূমিকম্পে যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে তা অমূলক নয়। বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান এমনিতেই ভূমিকম্পের ঝুঁকিপূর্ণ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অপরিকল্পিত নগরায়ন, আকাশচুম্বী ভবন নির্মাণ এবং জলাশয় ভরাট করে তৈরি হওয়া কংক্রিটের জঙ্গল। আবাসন খাতের মাফিয়া ও সরকারি কর্মকর্তাদের যোগসাজশে রাজধানীসহ বড় শহরগুলো আজ মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। বড় মাত্রার ভূমিকম্প হলে লাখো মানুষ প্রাণ হারাতে পারে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি থেকে শুরু করে বিভিন্ন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার উদাহরণ টেনে জাতীয় উদ্ধার সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা তুলে ধরেন খোমেনী ইহসান। তিনি বলেন, এখনই বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আগামী দিনগুলো আরও ভয়াবহ হতে পারে। দ্রুত ভূমিকম্প মোকাবিলায় স্থায়ী প্রস্তুতি নেওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।

সরকারের কাছে পাঁচটি জরুরি দাবি তুলে ধরে তিনি জানান—সারা দেশের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো চিহ্নিত করে সংস্কার, ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড বাস্তবায়নে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সকে আন্তর্জাতিক মানের প্রযুক্তিতে সজ্জিত করা, প্রতিটি এলাকায় ভূমিকম্প-পরবর্তী আশ্রয়ের জন্য উন্মুক্ত স্থানের নিশ্চয়তা এবং গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগের ঝুঁকি এড়াতে অটো-শাটডাউন প্রযুক্তি চালু করা জরুরি।

বিবৃতিতে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ মনে করে, রাষ্ট্র যদি এখনো সতর্ক না হয়, তবে বড় মাত্রার ভূমিকম্প দেশের শহরগুলোকে ‘সম্ভাব্য কবরস্থানে’ পরিণত করতে পারে। তাই এই সতর্কবার্তাকে চরম গুরুত্ব দিয়ে অবিলম্বে সমন্বিত জাতীয় পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

IPCS News : Dhaka :