চীনে লিয়াওনিং প্রদেশে মিললো ১,৪৪৪ টনের বিশাল স্বর্ণভান্ডার
আপডেটঃ ১২:৩৭ অপরাহ্ণ | নভেম্বর ১৬, ২০২৫
নিউজ ডেস্কঃ
চীনে স্বর্ণ অনুসন্ধানে নতুন মাইলফলক যোগ হয়েছে লিয়াওনিং প্রদেশে। দাদংগোউ এলাকায় আবিষ্কৃত বিশাল খনিটি দেশটির ১৯৪৯ সালের পর এককভাবে পাওয়া সবচেয়ে বড় স্বর্ণভান্ডার হিসেবে নিশ্চিত করেছে প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রণালয়। মাত্র ১৫ মাসের অনুসন্ধানে চিহ্নিত এই ভান্ডারে প্রায় ১,৪৪৪ টন স্বর্ণ রয়েছে বলে জানা গেছে, যা বর্তমান বাজারদরে ১৬৬ বিলিয়ন ইউরোরও বেশি মূল্যের সমান।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, খনিটিতে প্রায় ২৫.৮৬ লাখ টন আকরিক রয়েছে এবং প্রতি টনে গড়ে ০.৫৬ গ্রাম স্বর্ণ পাওয়া যাবে। তারা এটিকে ‘অতি-বিশাল’ হিসেবে আখ্যা দিলেও আকরিকের স্বর্ণমান তুলনামূলকভাবে কম। তবে অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা নিয়ে প্রাথমিক মূল্যায়ন ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। নিরাপত্তাজনিত ও কৌশলগত কারণে খনিটির সুনির্দিষ্ট অবস্থান প্রকাশ করা হয়নি; শুধু জানানো হয়েছে এটি লিয়াওনিংয়ের পূর্বাংশে।রাষ্ট্র পরিচালিত লিয়াওনিং জিওলজিক্যাল অ্যান্ড মাইনিং গ্রুপ প্রকল্পটি সম্পন্ন করেছে। প্রতিষ্ঠানের এক হাজারেরও বেশি প্রযুক্তিবিদ ও শ্রমিক অনুসন্ধান কাজে অংশ নেন এবং অল্প সময়ে এত বড় ভান্ডার শনাক্ত করতে সক্ষম হন, যা বিশেষজ্ঞদের কাছে বিরল একটি সফলতা বলে বিবেচিত হচ্ছে।
চীনে এই আবিষ্কার এমন সময়ে এলো যখন বিশ্বজুড়ে স্বর্ণের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম এ বছর ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। দুর্বল মার্কিন ডলার, ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ কেনার প্রবণতা বৃদ্ধির কারণে এই ধাতুর প্রতি আগ্রহ বাড়তে থাকায় বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে উদীয়মান অর্থনীতিগুলো রিজার্ভ শক্তিশালী করতে স্বর্ণ কেনায় আগ্রহী হচ্ছে।
চীন সাম্প্রতিক বছরগুলোতে খনিজ অনুসন্ধান জোরদার করেছে। ২০২৪ সালে হুনান প্রদেশে এক হাজার টনের বেশি স্বর্ণের ভান্ডার এবং একই বছর অক্টোবরে গানসুতে ৪০ টনের আরেকটি খনি আবিষ্কৃত হয়। দেশটি ২০২৪ সালে ৩৭৭.২৪ টন স্বর্ণ উৎপাদন করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় সামান্য বৃদ্ধি। চীনে স্বর্ণের অভ্যন্তরীণ চাহিদা ৯৮৫ টনের বেশি, এবং বারের ও কয়েনের চাহিদা এক বছরে ২৪ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে।
বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, দেশের মধ্যবিত্ত শ্রেণির মধ্যে সম্পদ সুরক্ষার প্রবণতা বাড়ায় স্বর্ণ এখন এক জনপ্রিয় নিরাপদ বিনিয়োগে পরিণত হয়েছে।নতুন এই আবিষ্কার চীনের স্বর্ণভান্ডার বৃদ্ধি করার পাশাপাশি বিশ্ববাজারে তাদের প্রভাব আরও বাড়িয়ে দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
IPCS News : Dhaka :

