মঙ্গলবার ৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২২শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংবাদ শিরোনামঃ

আওয়ামী লীগ এখন ফেসবুকভিত্তিক প্রতিবাদী দল-শফিকুল আলম

আপডেটঃ ১১:৩৩ পূর্বাহ্ণ | নভেম্বর ১৫, ২০২৫

নিউজ ডেস্কঃ

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এখন একটি ফেসবুকভিত্তিক প্রতিবাদী দলে পরিণত হয়েছে, যার মাঠে বাস্তব সাংগঠনিক শক্তি খুবই কম। শনিবার সকালে নিজের ফেসবুক পেজে এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন এবং দুই প্রধান দলের অবস্থান নিয়ে মন্তব্য করেন।তিনি লিখেছেন, তিনটি সাম্প্রতিক ঘটনা তার বিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করেছে যে ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হবে। বরং সাম্প্রতিক ইতিহাসে এটি সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছে।

তার বক্তব্যে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণা প্রসঙ্গটি ছিল উল্লেখযোগ্য। তিনি বলেন, দলটির মনোনয়ন ঘোষণাকে ঘিরে ব্যাপক আশঙ্কা ছিল যে বিদ্রোহ ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হতে পারে। অনেকে মনে করেছিলেন শত শত নেতা সিদ্ধান্ত না মেনে বিক্ষোভে নামবেন এবং আনুষ্ঠানিক প্রার্থীদের সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটতে পারে। তবে বাস্তবে এক-দুটি ছোটখাটো ঘটনা ছাড়া পুরো প্রক্রিয়াটি আশ্চর্যজনকভাবে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এটি প্রমাণ করে বিএনপি নেতৃত্ব সুপরিকল্পিতভাবে মনোনয়ন চূড়ান্ত করেছে এবং তাদের গ্রহণযোগ্যতাও দলীয় অভ্যন্তরে বিস্তৃত।তার বিপরীতে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সক্ষমতা প্রসঙ্গে তিনি তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি লেখেন, দীর্ঘদিন ধরে দলটি যে বিস্তৃত তৃণমূল নেটওয়ার্কের দাবি করে এসেছে, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ তা ভুল প্রমাণ করেছে। তার মতে, আওয়ামী লীগের বাস্তব সংগঠিত শক্তি এখন খুব ছোট পরিসরে সীমাবদ্ধ এবং তারা দিনদিন ভাড়াটে স্বল্পসংখ্যক দুর্বৃত্তচক্রের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে যারা ফাঁকা বাসে আগুন দিতে পারে, কয়েক সেকেন্ডের ঝটিকা মিছিল করতে পারে বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের প্রচারণা চালাতে পারে।

তিনি আরও বলেন, তার দীর্ঘ পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে দলটির তৃণমূল হয় ভেঙে পড়েছে, নয়তো প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক শক্তির প্রভাবের নিচে চাপা পড়ে গেছে। এই বাস্তবতায় আওয়ামী লীগের পক্ষে নির্বাচনে কোনো বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করা সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।পোস্টে শফিকুল আলম আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন। তার মতে, পুলিশ, নিরাপত্তা বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসন এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সংগঠিত, আত্মবিশ্বাসী ও কার্যকর। সাম্প্রতিক স্থিতিশীলতা দেখেই বোঝা যায়, নির্বাচনী দায়িত্বে সবচেয়ে দক্ষ কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি বিশ্বাস প্রকাশ করেন যে তারা জাতির প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলাপূর্ণ নির্বাচন সম্পন্ন করতে সক্ষম হবেন।

IPCS News : Dhaka :