মঙ্গলবার ৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২২শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংবাদ শিরোনামঃ

বাবু হত্যার মামলায় গ্রেফতার হয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে তৌহিদ আফ্রিদি

আপডেটঃ ১১:৩৪ পূর্বাহ্ণ | আগস্ট ২৬, ২০২৫

নিউজ ডেস্কঃ

জুলাই আন্দোলনের সময় ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেওয়া ইউটিউবার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদিকে অবশেষে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আন্দোলনের সময় তাকে অভিযোগ করা হয়, তিনি ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক ও ব্লগসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও তৈরি করে এবং লাইভ প্রচার চালিয়ে শেখ হাসিনার সরকারের পক্ষ নিয়ে কাজ করেছেন। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালিয়ে নির্বিচারে গুলি চালানো ও হত্যাকাণ্ডের বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি। কেবল তাই নয়, অভিযোগ রয়েছে, তৌহিদ আফ্রিদি অন্য কনটেন্ট ক্রিয়েটরদেরও চাপ দিয়েছেন যাতে তারা আন্দোলনের বিপক্ষে কনটেন্ট তৈরি করে। কেউ রাজি না হলে তাদের ওপর ভয়ভীতি ও নির্যাতন চালানো হয়েছে।

অভিযোগ অনুসারে, অতীতেও তৌহিদ আফ্রিদি ক্ষমতাসীনদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে সমর্থন দিয়ে ভিডিও বানাতেন। তিনি পুলিশ কর্মকর্তা হারুন অর রশীদসহ প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে সখ্য গড়ে বিপুল অর্থ উপার্জন করেছেন বলে শোনা যায়। এই অর্থের একটি অংশ বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। বিরোধীদের শায়েস্তা করতে ডিবি কার্যালয়ে ডেকে এনে নির্যাতনের অভিযোগও তার বিরুদ্ধে আছে। জুলাই আন্দোলনের উত্তাল সময়ে এসব কর্মকাণ্ডের কারণে সামাজিক মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অনেক কনটেন্ট ক্রিয়েটর তাদের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেন, কিভাবে তৌহিদ আফ্রিদি চাপ প্রয়োগ করেছিলেন। এমনকি ডেইলি শো উইথ ফকরুল নামের একটি ফেসবুক পেজে অভিযোগ করা হয়, তিনি আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ভিডিও বানাতে কনটেন্ট নির্মাতাদের হুমকি দেন এবং টাকার প্রলোভন দেন।৫ আগস্ট আন্দোলনের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা আসাদুল হক বাবু গুলিতে নিহত হন। এই ঘটনায় তার পরিবার মামলা দায়ের করে। মামলায় শেখ হাসিনাসহ ২৫ জনকে আসামি করা হয়, যার মধ্যে তৌহিদ আফ্রিদির নামও অন্তর্ভুক্ত ছিল। বাবুর মৃত্যুর ঘটনায় আন্দোলনকারী সংগঠনগুলোও তৌহিদ আফ্রিদিকে গ্রেফতারের দাবি জানায়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়, তিনি আন্দোলনের সময় লাইভ এসে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগকে আন্দোলনকারীদের ওপর দমন-পীড়ন চালাতে উসকানি দিয়েছিলেন।

১৭ আগস্ট রাজধানীর গুলশান থেকে গ্রেফতার করা হয় আফ্রিদির বাবা নাসির উদ্দিন সাথীকে, যিনি মাইটিভির চেয়ারম্যান। এরপর ২৪ আগস্ট রাতে সিআইডি বরিশাল থেকে গ্রেফতার করে তৌহিদ আফ্রিদিকে। তাকে ঢাকায় এনে যাত্রাবাড়ী থানার মামলায় আদালতে হাজির করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক খান মো. এরফান আদালতে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন বলেন, তৌহিদ আফ্রিদি একজন ‘মিডিয়া সন্ত্রাসী’ যিনি লাইভে এসে আন্দোলনকারীদের হত্যার পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন। রিমান্ডে নিলে কারা নির্দেশ দিয়েছে, কে কে সম্পৃক্ত ছিল তা জানা যাবে।

তৌহিদ আফ্রিদির আইনজীবী মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম রিমান্ড বাতিল ও জামিনের আবেদন করেন। তিনি বলেন, আফ্রিদি আওয়ামী লীগের কেউ নন, বরং ছাত্রদের পক্ষে তার একাধিক পোস্টও ছিল। মামলার বাদীও এফিডেভিটে জানিয়েছেন, ভুল তথ্যের কারণে আফ্রিদিকে আসামি করা হয়েছে এবং জামিনে তার আপত্তি নেই। তিনি আদালতে বলেন, আসলে ছাত্রলীগ ও পুলিশের সংঘর্ষে বাবুর মৃত্যু হয়েছে, এতে আফ্রিদির সংশ্লিষ্টতা নেই। এছাড়া আফ্রিদির কিডনির জটিলতার কারণে তাকে আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহারের অনুরোধ করা হয়।

উভয় পক্ষের যুক্তি শুনে আদালত শেষ পর্যন্ত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এই রিমান্ডে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে আন্দোলনের সময়কার কার্যক্রম, কার সঙ্গে যোগাযোগ ছিল, কার নির্দেশে তিনি প্রচার চালিয়েছেন এবং তিনি কীভাবে অন্যদের চাপ দিয়েছিলেন—এসব বিষয়ে।তৌহিদ আফ্রিদিকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই পরিস্থিতি বাংলাদেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একজন জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর থেকে কীভাবে তিনি বিতর্কিত রাজনৈতিক প্রপাগান্ডার অংশে পরিণত হলেন, সেই প্রশ্ন এখন জনমনে ঘুরপাক খাচ্ছে। তার গ্রেফতার ও রিমান্ড আন্দোলনের সময়কার অনেক অজানা তথ্য প্রকাশ করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

IPCS News : Dhaka :