দিনাজপুরে বিএনপিতে অভ্যন্তরীণ কোন্দল মামলা
আপডেটঃ ৩:০৯ অপরাহ্ণ | জুলাই ২২, ২০২৫
নিউজ ডেস্কঃ
দিনাজপুর:- দিনাজপুর জেলার খানসামা উপজেলা বিএনপিতে দীর্ঘদিন ধরে চলা অভ্যন্তরীণ বিরোধ সাম্প্রতিক সময়ে চরমে উঠেছে।সাংগঠনিক দ্বন্দ্ব ও নেতৃত্বের প্রশ্নে বিভক্ত হয়ে পড়েছে স্থানীয় নেতাকর্মীরা, যার ফলে সহিংসতার একাধিক ঘটনা ঘটেছে।পাল্টাপাল্টি হামলা, ভাঙচুর ও সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।এসব ঘটনার জেরে একাধিক মামলাও হয়েছে।দলীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ, বিএনপির কিছু নেতা পদ-পদবি ব্যবহার করে অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছেন।অভিযোগ রয়েছে, তারা আওয়ামীলীগ দোসরদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন এবং মামলা বাণিজ্যের মতো কর্মকাণ্ডে জড়াচ্ছেন।এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে মনে করছেন তৃণমূলের অনেকে।অপর পক্ষের অভিযোগ, কিছু ব্যক্তি যাঁরা বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে সক্রিয় ছিলেন না, বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা সংগঠনের নাম ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তারে চেষ্টা করছেন এবং দখলবাজিসহ নানা অনিয়মে জড়াচ্ছেন।
বিএনপির একটি অংশের নেতাদের দাবি, কেন্দ্রীয় কমিটির ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচির অংশ হিসেবে সম্প্রতি ৫ নম্বর ভাবকী ইউনিয়নে একটি কর্মসূচি পালন করতে গেলে কাচিনিয়া বাজার এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।তাদের ভাষ্যমতে, ওইদিন দুপুরে স্থানীয় নেতা জলিল শাহর ওপর হামলা চালানো হয় এবং বাধা দিতে গিয়ে সাবেক ইউপি সদস্য আশরাফ আলীও আহত হন।
এই ঘটনার প্রতিবাদে সন্ধ্যায় কর্নেল মোস্তাফিজ গ্রুপ একটি প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে।সমাবেশ শেষে ফেরার পথে একদল দুর্বৃত্ত অতর্কিতে হামলা চালায়।প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলায় দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা ব্যবহৃত হয়।এতে কর্নেল মোস্তাফিজ ও মিজানুর রহমানসহ অন্তত ২৫ জন আহত হন এবং প্রায় ৪৬টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়।
অন্যদিকে, মিয়া গ্রুপের অনুসারী জেলা বিএনপির অর্থ সম্পাদক ও ভাবকী ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল আলম তুহিন হামলার ঘটনায় মিয়া গ্রুপের জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।তার ভাষায়, আমরা এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত নই।
কর্নেল (অব.) মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী এ প্রসঙ্গে বলেন, আমরা কেন্দ্রীয় ৩১ দফা প্রচারে এবং তৃণমূলে সংগঠনকে সক্রিয় করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছি।এটি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর একটি আঘাত।
এ ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।সংঘর্ষের পর আংগারপাড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আজিজার রহমান ভুট্টু বাদী হয়ে খানসামা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।মামলায় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের অন্তত ৬০ জনের নাম উল্লেখসহ ৭০–৮০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য আখতারুজ্জামান মিয়া ও ভাবকী ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল আলম তুহিনের নামও রয়েছে।মামলার বাদী আজিজার রহমান বলেন, এটি সাধারণ কোনো ঘটনা নয়।এটি আমাদের সাংগঠনিকভাবে ধ্বংসের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত হামলা।আমরা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।
এ বিষয়ে খানসামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজমুল হক বলেন, বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।বিষয়টি তদন্তাধীন, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
IPCS News : Dhaka : আব্দুস সালাম : দিনাজপুর।

