৪ বছরে সংশোধন হয়নি রেলওয়ের নিয়োগ বিধিমালা ২০২০!! নিয়োগ জটিলতায় রেল
আপডেটঃ ২:২১ অপরাহ্ণ | জানুয়ারি ১৮, ২০২৬
নিউজ ডেস্কঃ
৪ বছরে বাংলাদেশ রেলওয়ের ৪ জন মহাপরিচালক পরিবর্তন হলেও অদৃশ্য কারণে এখনো সংশোধন করা হয়নি রেলওয়ের ক্যাডার বহির্ভূত কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা–২০২০।দীর্ঘ এই অনিশ্চয়তা ও গোপনীয়তা রেলওয়ের নিয়োগ ব্যবস্থাকে এক গভীর প্রশাসনিক ও আইনি সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।নিয়োগ বিধিমালা ২০২০ সংশোধন ইচ্ছাকৃতভাবে ঝুলিয়ে রেখে অবৈধ ও প্রশ্নবিদ্ধ নিয়োগকে বৈধতা দেওয়ার পথ তৈরি করা হচ্ছে বলে অভমত রেলওয়ের সকল ট্রেড ইউনিয়ন নেতাদের।বর্তমান মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন দায়িত্ব গ্রহণের প্রায় এক বছর পার করলেও তার মেয়াদে নিয়োগ বিধিমালা–২০২০ সংশোধন ও অনুমোদন আদৌ সম্ভব হবে কি না—তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ কোরছেন ট্রেড ইউনিয়ন নেতারা।
আন্দোলনের মুখে কমিটি, চার বছরেও ফল নেইঃ
এই নিয়োগ বিধিমালা বতিলের জন্য,নিয়োগ বিধিমালা–২০২০ নীতিগতভাবে প্রত্যাখ্যান করে রেলওয়ের সকল ট্রেড ইউনিয়ন ও বাংলাদেশ রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটির আন্দোলন-সংগ্রামের মুখে ২০২১ সালের ২৭ ডিসেম্বর তৎকালীন মহাপরিচালককে আহ্বায়ক করে ১৮ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়।কমিটির দায়িত্ব ছিল বিধিমালা হালনাগাদ ও সংশোধন করা।
কিন্তু চার বছর পার হলেও এই কমিটি বিধিমালাটির কোনো সংশোধন চূড়ান্ত করতে পারেনি।অভিযোগ রয়েছে, সংশোধন ছাড়াই তথাকথিত গায়েবী বিধিমালা’র ভিত্তিতে অবৈধভাবে জনবল নিয়োগ কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে।এমনকি কমিটির সদস্যরা কখনো একসঙ্গে বসে সংশোধন নিয়ে আলোচনা করেছেন কি না—তা নিয়েও সংশয় প্কাশ করেন ট্রেড ইউনিয়ন নেতারা।
তারা বোলছেন, নিয়োগ বিধিমালাটির অপন্যবহার করে নিয়েগ সংশ্লিষ্ঠরা নিয়োগ জটিলতা করে একদিকে যেমন রেলকে লোকবল সংকটি ফেলছে,অন্যদিকে নিয়োগ বানিজ্যের মাধ্যমে আংগুল ফুল কলাগাছ হচ্ছে অনেকেই।
মহাপরিচালক মো. শামসুজ্জামান, ডিএন মজুমদার ও মো. কামরুল আহসান তাদের মেয়াদকালে নিয়োগ বিধিমালা ২০২০ সংশোধনে ব্যর্থ হন।সর্বশেষ মহাপরিচালক সরদার সাহাদাত আলী নানা জটিলতার মধ্যেও কালো বিধিমালাটি সংশোধন করলেও অদৃশ্য কারণে তার মেয়াদে তা তিনি অনুমোদন করাতে পারেননি।
এদিকে রেলওয়ের বর্তমান মহাপরিচালক আফজাল হোসেন দায়িত্ব গ্রহণের এক বছর পার হলেও এখনো বিধিমালাটির কোন সংশোধন ও অনুমোদনের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।এতে করে প্রভাবশালী দুর্নীতিবাজ চক্রের প্রভাব আরো পাকাপোক্ত হচ্ছে।এদিকে রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটির দেয়া তথ্যানুযায়ী, নিয়োগ বিধিমালা সংশোধন ঝুলিয়ে রেখে কতৃপক্ষ বিগত ৪ বছরে রেলওয়ে প্রায় ৬ হাজার জনবল নিয়োগ দেন।
এর মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ জনবল চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন।ফলে ট্রেন পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ, সিগন্যাল ব্যবস্থা, কোচের যান্ত্রিক ও বৈদ্যুতিক কাজসহ রেলওয়ের সকল বিভাগে দক্ষ জনবলের মারাত্মক সংকট তৈরি হয়েছে।যার ফলে পথিমধ্যে ইন্জিন বিকল,কোচের বেহাল দশা,কোচ, ইন্জিন ও লোকবল সংকটে সময়মত ট্রেন চালনায় বিড়ম্বনাসহ নানা সংকটে মুখ থুবরে পড়ছে রেল।
অন্যদিকে যাত্রী সেবার মানও তলানীতে গিয়ে পৌঁছেছে।বাংলাদেশ রেলওয়ে একটি বিশেষায়িত কারিগরি পরিবহন সংস্থা। এখানে সাধারণ প্রশাসনিক কাঠামো প্রয়োগ করলে রেলওয়ের অস্তিত্বই ঝুঁকিতে পড়বে।রেলওয়ে সূত্রে জানাগেছে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন , নিয়োগ বিধিমালা সংশোধন প্রক্রিয়া ও হাইকোর্টের রুল বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও জানুয়ারিতে একাধিক নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল কতৃপক্ষ।
এই নিয়োগ পরিক্ষানতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।যেখানে নিয়োগ বিধিমালার বৈধতা বিচারাধীন এবং জাতীয় নির্বাচন সামনে, সেখানে এই তাড়াহুড়া প্রক্রিয়াগতভাবে অগ্রহণযোগ্য এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই মনে কোরছেন অনেকেই।এছাড়া চাকরি পরীক্ষার নামে এমন বাণিজ্য শুরু হয়েছে যেখানে কর্তৃপক্ষ ভুলে গিয়েছে যে, ২৩ তারিখ হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের স্বরস্বতী পূজা?একটি ধর্মীয় উৎসবের দিন।
চার বছর ধরে নিয়োগ বিধিমালা সংশোধন না করে নিয়োগ কার্যক্রম চালু রাখা এবং নির্বাচন সামনে রেখে নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজন—এই দুই বিষয় মিলিয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে এখন গভীর প্রশাসনিক, আইনি ও নৈতিক সংকটের মুখোমুখি।প্রশ্ন উঠছে—নিয়োগ বিধিমালা কি আদৌ আলোর মুখ দেখবে, নাকি রেলওয়ের নিয়োগ ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই অন্ধকারেই রয়ে যাবে?
IPCS News : Dhaka : আবুল কালাম আজাদ।

