বুধবার ৪ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২১শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সংবাদ শিরোনামঃ

খাশোগি হত্যাকাণ্ডের প্রশ্নে ক্ষুব্ধ, সাংবাদিককে ‘জঘন্য মানুষ’ আখ্যা ট্রাম্পের

আপডেটঃ ২:২০ অপরাহ্ণ | নভেম্বর ২০, ২০২৫

নিউজ ডেস্কঃ

মঙ্গলবার ওভাল অফিসে এক প্রশ্নোত্তর পর্বে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আচরণ আবারও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।এবিসি নিউজের হোয়াইট হাউস প্রধান সংবাদদাতা মেরি ব্রুস সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে লক্ষ্য করে ২০১৮ সালে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ওয়াশিংটন পোস্টের কলামিস্ট জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন করতেই ট্রাম্প প্রতিক্রিয়া দেখান।যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো পূর্বেই জানিয়েছিল, খাশোগিকে নির্মমভাবে হত্যার নির্দেশ যুবরাজের কাছ থেকেই এসেছিল।ট্রাম্প ব্রুসকে প্রশ্ন করা থেকে বিরত থাকতে বলেন এবং মন্তব্য করেন, এ ধরনের প্রশ্ন অতিথিকে অস্বস্তিতে ফেলে।এরপর তিনি প্রশ্নটিকে ভয়ংকর, ঔদ্ধত্যপূর্ণ এবং বাজে বলে আখ্যা দেন।

জামাল খাশোগিকে উদ্দেশ করেও প্রেসিডেন্ট মন্তব্য করেন, অনেকেই ওই ভদ্রলোককে পছন্দ করতেন না এবং সরাসরি বলেন, পছন্দ হোক বা না হোক, মাঝে মাঝে এমন ঘটনা ঘটে। তরুণ সৌদি যুবরাজ অবশ্য নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছেন। কথোপকথনের সময় ট্রাম্প এবিসি নিউজকেও আক্রমণ করে বলেন, এটি একটি বাজে কোম্পানি এবং তাদের সম্প্রচার–লাইসেন্স বাতিল হওয়া উচিত। তিনি এ বিষয়ে শীর্ষ সম্প্রচার নিয়ন্ত্রক ব্রেনডান কারকে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। খাশোগি হত্যাকাণ্ডের পর মোহাম্মদ বিন সালমান যুক্তরাষ্ট্রে সফর করছেন এ প্রথম, আর সেখানেই এই বিতর্কিত কথোপকথন অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে এবিসি নিউজের সাংবাদিক ব্রুস আরেকটি প্রশ্ন করলে ট্রাম্প আরও ক্ষুব্ধ হন। তিনি জানতে চান কেন প্রেসিডেন্ট অর্থকুবের ও অপরাধপ্রবণ জেফ্রি এপস্টিনের সঙ্গে সম্পর্কিত নথি প্রকাশের নির্দেশ দেননি। জবাবে ট্রাম্প বলেন, প্রশ্ন করা নিয়ে তার আপত্তি নেই, আপত্তি আচরণ নিয়ে, এবং কঠোর ভাষায় জানান, আপনি একজন জঘন্য রিপোর্টার ও জঘন্য মানুষ। ন্যাশনাল প্রেস ক্লাব এক বিবৃতিতে ট্রাম্পের মন্তব্যের নিন্দা জানিয়ে বলেছে, খাশোগি হত্যাকাণ্ড সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আক্রমণ ছিল এবং এমন মন্তব্য ভবিষ্যতে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও নির্ভয়ে কাজ করার পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

ট্রাম্প নিয়মিতভাবেই সংবাদমাধ্যমকে আক্রমণ করে বক্তব্য দেন, যদিও প্রায় প্রতিদিনই হোয়াইট হাউসে তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। তবে নারী সাংবাদিকদের প্রতিই তার ভাষা বেশি কঠোর হওয়ার অভিযোগ ওঠে। গত সপ্তাহে এয়ার ফোর্স ওয়ানের ভেতর ট্রাম্প ব্লুমবার্গ নিউজের প্রতিবেদক ক্যাথরিন লুসিকে কথা বলতে বাধা দেন এবং বলেন, চুপ করো, পিগি। সাবেক মিস ইউনিভার্স অ্যালিসিয়া মাচাদোও পূর্বে অভিযোগ করেছিলেন, নিজের ওজন কমানোর চাপ দেওয়ার সময় ট্রাম্প তাকে ‘মিস পিগি’ বলে ডাকতেন।

ব্লুমবার্গ নিউজ ও এবিসি নিউজ নিজেদের প্রতিবেদকদের প্রতি ট্রাম্পের মন্তব্য নিয়ে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি। তবে এটি নতুন কিছু নয়। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ট্রাম্প বারবার এবিসির সম্প্রচার লাইসেন্স বাতিলের হুমকি দিয়েছেন। গত বছর তিনি এবিসি নিউজের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন এবং পরে নেটওয়ার্কটি ১৬ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করে মীমাংসা করে। এই সপ্তাহে আবার ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট দিয়ে তিনি লেট-নাইট হোস্ট সেথ মেয়ার্সকে চাকরির অযোগ্য বলে আক্রমণ করেন এবং এনবিসিকে তাকে সঙ্গে সঙ্গে বরখাস্ত করার দাবি জানান। ব্রেনডান কারও সেই পোস্ট সামাজিকমাধ্যমে শেয়ার করেন।

মঙ্গলবারের শেষ কথোপকথনে ট্রাম্প মেরি ব্রুসকে আর প্রশ্ন না করার ইঙ্গিত দেন এবং বলেন, আপনার উচিত কীভাবে একজন রিপোর্টার হতে হয় সেটি শেখা। স্পষ্ট ভাষায় তিনি জানান, আপনার কাছ থেকে আর কোনো প্রশ্ন চাই না। সাংবাদিকদের সঙ্গে এই ধরনের আচরণ ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক স্টাইলেরই ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

IPCS News : Dhaka :