ঐতিহাসিক রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরল সংবিধানে
আপডেটঃ ২:১৩ অপরাহ্ণ | নভেম্বর ২০, ২০২৫
নিউজ ডেস্কঃ
বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ আজ এক ঐতিহাসিক রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের পূর্বের রায়কে সম্পূর্ণ অবৈধ ঘোষণা করেছে এবং সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীকে বৈধ ঘোষণা করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনরুজ্জীবিত করেছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে ৭ বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এ রায় দেন, যা আদালতের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হিসেবে গৃহীত হয়। প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বেঞ্চে ছিলেন বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এস. এম. ইমদাদুল হক, বিচারপতি এ. কে. এম. আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।
রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত উল্লেখ করেন যে, পূর্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের যে রায় দেওয়া হয়েছিল তা ছিল কলঙ্কিত ও গুরুতর ত্রুটিপূর্ণ। নথিপত্র পর্যালোচনায় স্পষ্ট হয়েছে যে ওই রায়ে একাধিক আইনি ত্রুটি ছিল, যার কারণে সেটিকে সম্পূর্ণরূপে বাতিল ঘোষণা করা হচ্ছে। এর ফলে সংবিধানের চতুর্থ ভাগের পরিচ্ছেদ ২(ক)-এ নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারসংক্রান্ত যে বিধানাবলী ১৯৯৬ সালে সংবিধান (ত্রয়োদশ সংশোধন) আইন দ্বারা সংযোজিত হয়, তা পুনরায় সক্রিয় এবং কার্যকর হলো।
তবে আদালত স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনরুজ্জীবিত হলেও তা অবিলম্বে কার্যকর হবে না। রায়ের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, এই পুনঃস্থাপন ভবিষ্যতে প্রযোজ্য হবে এবং এর প্রয়োগ অনুচ্ছেদ ৫৮(খ)(১) ও ৫৮(গ)(২)-এর বিধান অনুযায়ী হবে। অর্থাৎ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা কার্যকর হবে চতুর্দশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে। সংসদ ভাঙার ১৫ দিনের মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করার প্রক্রিয়াই তখন থেকে কার্যকর হবে।
আইনজীবী শিশির মনির রায়ের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে বলেন, এই রায়ের মাধ্যমে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফিরে এসেছে, তবে সময়সূচি নির্ধারণ করে আদালত একটি বাস্তবসম্মত পথ নির্ধারণ করেছেন। তিনি বলেন, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে হওয়ায় রাজনৈতিক পরিস্থিতি তাৎক্ষণিক পরিবর্তনের মুখে পড়বে না, তবে পরবর্তী নির্বাচন থেকে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার প্রত্যাবর্তন দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নতুন মাত্রা যোগ করবে।
গত ১১ নভেম্বর এ বিষয়ে শুনানি শেষ হওয়ার পর ২০ নভেম্বর রায় ঘোষণার দিন ধার্য করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফিরে আসায় জাতীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। আদালতের এই রায় ভবিষ্যৎ নির্বাচনের ধরণ ও রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষক ও আইনবিদরা।
IPCS News : Dhaka :

