মঙ্গলবার ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ৬ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

সংবাদ শিরোনামঃ

নেপথ্যে কোটি টাকা লেনদেন অবৈধ পন্থায় ১৯ জনকে পোটার পদে নিয়োগঃ

আপডেটঃ ৮:০৯ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২১

নিউজ ডেস্কঃ

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়েতে টিএলআর থেকে পোর্টার পদে স্থায়ীকরণে ব্যাপক ঘাপলাসহ মোটা অংকের ঘুষ বানিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। জানা যায়, অস্থায়ী টিএলআর পদে কর্মরত ১৯ জন ২০১৯ চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে মামলা করেন।(মামলা নং ৩০৩)।এই মামলার রায় নিয়ে চলছে লুকোচুরি।প্রথমে আইন কর্মকর্তার এক চিঠির জবাবে ২০২০ সালে ১৯ জনকে পোর্টার পদে স্থায়ীভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়।পরে আবার সেই আইন কর্মকর্তার ২য় চিঠিতে নিয়োগ স্থগিত করার আদেশ দিলেও এখন পযর্ন্ত সেই নিয়োগ স্থগিত না করে সময় ক্ষেপন করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।পশ্চিমরেলে জিএম মিহিরকান্ত গুহসহ কয়েকজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে হাত করে মামলাধীন ১৯ জন পোর্টারকে স্থায়ীভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।১৯১৮ সালের এই ১৯ জন মাস্টার রোল কর্মচারির স্থায়ীকরণের কাজটি করতে সিনিয়র ওয়েলফেয়ার অফিসের হেড এসিস্ট্যান্ট সৈকত আহমেদ ৫৭ লাখ টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।ঘুষ লেনদেনে অভিযুক্ত সৈকত আহমেদ বলেন, আমি ছোট পদে চাকরি করি, নিয়োগ বিষয়ে আমার কোন এখতিয়ার নাই।

আমাকে আমার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যেভাবে যে কাজ করতে বলেন তাই  করি।আপনার মাধ্যমেই সব ঘুষ লেনদেন হয় অভিযোগটি তিনি অস্বীকার করে বলেন, এগুলো মিথ্যা অভিযোগ।রায় না হওয়া মামলার (মামলা নং ৩০৩) আইন কর্মকর্তাকে বাইপাস করে আদালতকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে প্রমাণ মিলেছে।যে নিয়োগে জন প্রতি নেওয়া হয়েছে ৩ লাখ থেকে ৪ লাখ টাকা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন রেল কর্মচারি বলেন, স্কুলের (টি এল আর) পিয়ন পদে ৪ জনকে নিয়োগ দিয়েছে এস ডাব্লু অফিসের বড়বাবু সৈকত।সেই চারজন ব্যক্তি সৈকতের নিজ এলাকার।প্রতিজনের কাছে নেওয়া হয়েছে ১০ লাখ করে।এ দিকে কাগজ পরীক্ষার নামে প্রতিটি পদের বিপরীতেও ১ লক্ষ টাকা করে নিয়েছেন সৈকত।

তিনি বলেন, বড় কর্তাদের যোগসাজসে বিগত কয়েক বছরে এই সৈকতের মাধ্যমে ১৫-২০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে শুধুমাত্র নিয়োগ বানিজ্যে-ই।এ বিষয়ে আইন কর্মকর্তা আল মাহমুদ বলেন, প্রথমে নিয়োগ প্রাপ্তদের নিকট থেকে প্রাপ্ত রায়ের কপি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করি।পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, আমাকে দেওয়া রায়ের কপিটি সঠিক নয়।

তাই ২য় চিঠিতে নিয়োগ স্থগিত চেয়ে আবারো চিঠি করি, কিন্তু এখন পযর্ন্ত কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।জানতে চাইলে সিনিয়র ওয়েলফেয়ার অফিসার এসএম আকতার হোসেন আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আইন কর্মকর্তার প্রথম চিঠির বলে আমরা নিয়োগ দিয়েছি, আবার তার দ্বিতীয় চিঠি আসলে এই নিয়োগ বাতিলের প্রক্রিয়া ফাইল পুটআপ করেছি।

আমাদের নিজেদের সিদ্ধান্তে কোন কিছুই করার এখতিয়ার নাই।যেহেতু আইন কর্মকর্তা দ্বিতীয় চিঠিতে বলেছেন, আদালতের আগের কাগজটি অরিজিনাল নয়, সেটা ভুয়া ছিল।তারপরেও আমরা আবারও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করছি।পিওন পদে চারজন নিয়োগে ঘুষ বাণিজ্যে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে চিফ পার্সোনেল অফিসার আমিনুল ইসলাম বলেন, এটা বিশ্বাস যোগ্য নয়।

অস্থায়ী ভিত্তিতে ৬ মাসের নিয়োগে সর্বোমোট বেতন পাবে ৮৪ হাজার টাকা, আর ঘুষ দিয়েছে ১০ লাখ টাকা, এটা হতে পারে না।পশ্চিম রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজার মিহির কান্তি গুহ বলেন, ১ম বারে আদালতের দেয়া চিঠির আদলে করা জাল চিঠি কেন দেয়া হয়েছিল তার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে কৈফিয়ত চাওয়া হয়েছে।

ঘুষ লেনদেনের বিষয়টি সম্পর্কের তিনি বলেন, এটা প্রমান করা খুব কঠিন।এ বিষয়ে যারা ঘুষ দিয়েছে তারা সঠিক তথ্য প্রমান দিলেই তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব।উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ৯ ডিসেম্বরে রেল মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি সুপারিশে আর্থিক অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে পশ্চিমাঞ্চল রেলের তিন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

তারা হলেন-সাবেক কন্ট্রোলার অব স্টোরস (সিওএস) প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেন সরকার, সাবেক চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার (সিসিএম) এএমএম শাহনেওয়াজ, সাবেক সহকারী কন্ট্রোলার অব স্টোরস (এসিওএস) মো. জাহিদ কাওছার।দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত আরও ১০ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়।

অভিযুক্ত ১০ জন হলেন-পশ্চিমাঞ্চল রেলের এসিসিএমসিআর শেখ আবদুল জব্বার, ডেপুটি সিওপিএস মোছা. হাসিনা খাতুন, ডিএমএ হেডকোয়ার্টার শ্যামলী রানী রায়, এফ এএন্ডসি.এ. ও মো. শরিফুল ইসলাম, ডেপুটি সিসিএম ফুয়াদ হোসেন আনন্দ, ডিএফএ অর্থ মো. আলমগীর, এফএএন্ডসিএও মো. মসিহ-উল-হাসান, অতিরিক্ত এফএএন্ডসিএও মো. গোলাম রহমান।

অতিরিক্ত এফএএন্ডসিও গোলাম রাব্বানী ও সাবেক সিসিএম ও বর্তমানে পশ্চিমাঞ্চল রেলের জিএম মিহির কান্তি গুহ।গত বছর ২৯ ডিসেম্বর এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হয়।২০১৮-১৯ অর্থবছরে রেলের জন্য ২০টি আইটেম কেনায় ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে বলে তদন্তে বেরিয়ে এসেছে।এতে সরকারের কোটি কোটি টাকা যেমন ক্ষতি হয়, তেমনি ট্রেন পরিচালনায়ও ঝুঁকি বাড়ে।

কেনাকাটার ঘটনা তদন্তে ২০ সেপ্টেম্বর রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. ভুবন চন্দ্র বিশ্বাসকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছিল।কমিটি গত বছরের ৯ ডিসেম্বর রেলপথমন্ত্রীর কাছে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়।রিপোর্টে ১৭ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়েছিল।

IPCS News Report : Dhaka : আবুল কালাম আজাদ : রাজশাহী।