মঙ্গলবার ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ৬ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

সংবাদ শিরোনামঃ

বাংলাদেশের বিজ্ঞানী ড. ফেরদৌসী ‘ম্যাগসেসে পুরস্কার’ পেলেন

আপডেটঃ ২:৩০ অপরাহ্ণ | আগস্ট ৩১, ২০২১

নিউজ ডেস্কঃ

৩১আগস্ট মঙ্গলবার বাংলাদেশের চিকিৎসা বিজ্ঞানী ড. ফেরদৌসী কাদরী এশিয়ার নোবেলখ্যাত ম্যাগসেসে পুরস্কার পেয়েছেন।তিনি ছাড়াও পাকিস্তানের আমজাদ সাদিক, ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার স্টিভেন মানসি বিশ্বব্যাপী মর্যাদাসম্পন্ন এ পুরস্কারটি পেয়েছেন।আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশের আইসিডিডিআরবি ইমিউনোলজি বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ফেরদৌসী কাদরী।শিশুদের মধ্যে সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে  ড. ফেরদৌসী কাদরীর প্রচেষ্টা বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত।কলেরা মহামারি থেকে মানুষকে রক্ষার জন্য সল্প মূল্যের টিকা নিয়ে যারা কাজ করেছেন ড. ফেরদৌসী তাদের মধ্যে অন্যতম।তিনি ২০২০ সালে ল’রিয়েল-ইউনেসকো ফর ওমেন ইন সায়েন্স অ্যাওয়ার্ড পান।ড.ফিরদৌসী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও আণবিক জীববিদ্যা বিভাগ থেকে ১৯৭৫ সালে বি.এসসি ও ১৯৭৭ সালে এমএস ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৮০ সালে যুক্তরাজ্যের লিভারপুল বিশ্ববিদ্যালয়ের  প্রাণরসায়ন,প্রতিষেধকবিদ্যা বিভাগ থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।আইসিডিডিআর,বি’র প্রতিষেধকবিদ্যা বিভাগ থেকে পোস্টডক্টোরাল গবেষণা শেষ করার পর, তিনি একই প্রতিষ্ঠানে ১৯৮৮ সালে সহযোগী বিজ্ঞানী হিসেবে যোগ দেন। পরে তিনি একই প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী এবং মিউকোসাল ইমিউনোলজি এবং ভ্যাকসিনোলজি বিভাগের প্রধান হিসেবে নিয়োগ পান।

তার প্রধান গবেষণার বিষয় হলো অন্ত্রের রোগ।বিশেষ করে ইমিউনোলজি, জিনোমিক্স, প্রোটোমিক প্রযুক্তি এবং ডায়াগনস্টিকস এবং ভ্যাকসিনে উন্নতি সাধন।তিনি বাংলাদেশের দরিদ্র মানুষের জন্য নতুন ধরণের সস্তা কলেরা টীকা উন্নয়নে কাজ করেছেন।তিনি ব্যয়বহুল ‘ডকোরাল’ টিকার পরিবর্তে ‘শানকল’ নামক একটি টিকা ঢাকায় ব্যবহার করে সফলতা লাভ করেন।

পরবর্তীতে টিকাটি বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য বিশেষ করে রোহিঙ্গা শরনার্থীদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়।ড.ফিরদৌসী২০০৮ সালে বাংলাদশ বিজ্ঞান একাডেমির গোল্ড মেডেল পান।২০০২ সালে উন্নয়নশীল দেশে সংক্রামক আন্ত্রিক রোগ গবেষণার জন্য ক্রিস্টোফ মেরিএউক্স পুরস্কার লাভ করেন।২০১৩ সালে বিশ্ব বিজ্ঞান একাডেমীর বার্ষিক সি. এন. রাও তাওস থেকে পুরস্কার পান।

জাতিসংঘের প্রস্তাবিত একটি প্রযুক্তি ব্যাংককে সাংগঠনিকভাবে আরো কর্মক্ষম করে তুলেতে ২০১৪ সালে তাকে উচ্চ পর্যায়ের একটি প্যানেলের পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।শিশুদের সংক্রামক রোগ চিহ্নিতকরণ ও বিশ্বব্যাপী এর বিস্তার রোধে উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য ২০২০ সালে তিনি ‘লরিয়েল-ইউনেস্কো উইমেন ইন সায়েন্স অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন।

২০১৩ সালে অনন্যা শীর্ষ দশ পুরস্কার ছাড়াও ২০২১ সালে, সিঙ্গাপুর ভিত্তিক বিজ্ঞান সাময়ীকিতে এশিয়ার শ্রেষ্ঠ ১০০ বিজ্ঞানীর তালিকায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়।

IPCS News Report : Dhaka: