শনিবার ২৩শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ৭ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

সংবাদ শিরোনামঃ

রোগীদের লাইনে দাঁড় করিয়ে ডাক্তাররা ছুটছেন ক্লিনিকে

আপডেটঃ ১১:৫৮ পূর্বাহ্ণ | আগস্ট ২৮, ২০২১

নিউজ ডেস্কঃ

রাজশাহী প্রতিনিধি: এ দীর্ঘ লাইন টিসিবির পণ্য কেনার জন্য নয়, নয় কোন সহায়তা নেয়ার জন্য অপক্ষেমান মানুষের ভিড়।এই দীর্ঘ লাইনটি রাজশাহী পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের।পুঠিয়া উপজেলা ৫০শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।এই চিত্র সাক্ষ দিচ্ছেতার।ভুক্তভোগিরা বলছেন,স্বাস্থ  কমপ্লেক্স এর নির্ধারিত সময়ে রোগীদের লাইনে দাঁড় করিয়ে রেখে চিকিৎসকরা প্রাইভেট ক্লিনিকে ছুটছেন।অনেক রোগীরা দীর্ঘসময় অপেক্ষা করে নিরাশ হয়ে বাড়ি ফিরছেন।আবার কেউ বাধ্য হয়ে ওই সময় ভিজিট দিয়ে প্রাইভেট চেম্বারে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন।বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেও কোনো সুফল হচ্ছে না।উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, সাপ্তাহিক ছুটি বাদে চিকিৎসকরা প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২:৩০ মিনিট পর্যন্ত বর্হিবিভাগে আগত রোগিদের তদারকি করবেন।

জরুরি বিভাগে সহকারীদের সাথে সার্বক্ষণিক একজন চিকিৎসক থাকবেন।আর একজন আবাসিক চিকিৎসক সার্বক্ষণিক তদারকি করবেন।পুঠিয়া উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মৌসুমি রহমান বলেন, সরকারি বিধি মোতাবেক চিকিৎসকরা এই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সঠিক দ্বায়িত্ব পালন করেন না।

সাধারণ রোগীদের এমন অভিযোগে গত ২৬ আগস্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গিয়ে তার সত্যতা পাওয়া যায়।তারা দুপুর ১২ টার আগেই স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে প্রাইভেট রোগী দেখতে যান।একজন গাইনী চিকিৎসককে সকাল ১১ টার দিকে স্থানীয় রায়হানা ক্লিনিকে পাওয়া গেছে।

ভাইস চেয়ারম্যান আরো বলেন, স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমি সে সময় রোগী সেজে ওই চিকিৎসকের রীতিমত ভিজিট দিয়ে স্বাক্ষাৎ করতে যাই।হাসপাতালের অফিস সময়ে কেনো প্রাইভেটে রোগী দেখছেন এমন প্রশ্নে তিনি আমার সাথে খারাপ আচরণ করেন।

বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা তাসলিমা বেগম বলেন, করোনা আতঙ্কের কারণে এমনিতেই ডাক্তাররা ভালো করে রোগী দেখেন না।

তার ওপর রোগীদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে রেখে মাঝে মধ্যে বাহিরে চলে যান।এরপর এক থেকে দেড় ঘণ্টা পর তারা হাসপাতালে ফিরেন।আবু তাহের নামে অপর একজন রোগীর অভিভাবক বলেন, প্রতিদিন হাসপাতালে শত শত রোগীর লাইন থাকে।

ডাক্তাররা রোগীদের বিবরণ ঠিকমত না শুনেই একটা প্রেসক্রিপশন লিখে ধরিয়ে দেন।আর কোনো রোগী বিস্তারিত বলতে চাইলে ওই কক্ষে দাঁড়িয়ে থাকা একজন সহকারী বলেন, ভালো করে দেখাতে চাইলে স্যারের চেম্বারে যেতে হবে।

এরপর ওই সহকারী একটি প্রাইভেট চেম্বারের ঠিকানা দিয়ে দেন।স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগী সংগ্রহ করতে আসা একটি ক্লিনিকের এক কর্মচারি(রোগীর ওরা দালাল) বলেন, উপজেলা সদরে ১০টি প্রাইভেট ক্লিনিক রয়েছে।

আর ওই ক্লিনিকের মালিকরা ডাক্তাদের যখন ডাকেন তারা তৎক্ষণিক ছুটে যান।তবে সে সময় হাসপাতালে আসা কোনো রোগীর জরুরি হলে তারা ডাক্তারের ওই চেম্বারে চলে যায়।

তবে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার আব্দুর মতিন বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের রেখে চিকিৎসকরা ক্লিনিকে অবস্থান করেন এমন অভিযোগ আমি পেয়েছি।বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

পাশাপাশি ওই চিকিৎসকদের নোটিশ করা হয়েছে।এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুল হাই মোহাস্মদ আনাছ বলেন, হাসপাতালে ডিউটির সময় চিকিৎসকরা প্রাইভেট চেম্বারে রোগী দেখার কোনো নিয়ম নেই।বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

IPCS News Report : Dhaka: আবুল কালাম আজাদ, রাজশাহী।