শুক্রবার ২১শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ ৭ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

দিনাজপুরে মা-ছেলেকে অপহরণ মামলায় এএসপিসহ গ্রেপ্তার ৩: মামলা ডিবিতে হস্তান্তরঃ

আপডেটঃ ১২:৪৩ অপরাহ্ণ | আগস্ট ২৬, ২০২১

নিউজ ডেস্কঃ

দিনাজপুর গোয়েন্দা বিভাগে (ডিবি) দেওয়া হয়েছে দিনাজপুরে মা-ছেলে অপহরণের ঘটনায় রংপুর সিআইডি’র এএসপি সারোয়ার কবির, এএসআই হাসিনুর রহমান, কনস্টেবল আহসানুল হক, চালক হাবিবুর রহমান ও সোর্স ফসিউল পলাশের বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্তভার।গতকাল বুধবার চিরিরবন্দর থানায় মামলা হওয়ার পর রাতেই এর তদন্তভার ডিবিতে হস্তান্তর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।দিনাজপুর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অফিসার্স ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।তিনি জানান, এ বিষয়ে একটি নির্দেশনা পেয়েছি।১০ আসামির মধ্যে গ্রেফতার পাঁচজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।এখন পর্যন্ত নতুন কেউ গ্রেফতার হয়নি।ডিবির ওসি নিজেই মামলাটি তদন্ত করবেন বলে জানা গেছে।

গত মঙ্গলবার দিনাজপুর সদর উপজেলার দশ মাইল মোড় থেকে অপহরণ হওয়া মা জহুরা বেগম ও ছেলে জাহাঙ্গীর আলমসহ রংপুর সিআইডি’র এএসপি সারোয়ার কবির, এএসআই হাসিনুর রহমান ও কনস্টেবল আহসানুল হক, চালক হাবিবুর রহমান ও সোর্স ফসিউল পলাশকে গ্রেপ্তার করে দিনাজপুর পুলিশ।এ ঘটনায় উদ্ধার করা হয় অপহৃত লুৎফর রহমানের স্ত্রী জহুরা খাতুন (৪২) ও ছেলে জাহাঙ্গীর আলমকে (২৫)।

জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে বুধবার চিরিরবন্দর থানায় ১০ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন, যার মামলা নং-২৬, তারিখ: ২৫.০৮.২০২১।এ মামলায় রংপুর সিআইডির এএসপি সারোয়ার কবীরসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার দেখিয়ে বুধবার বিকালে দিনাজপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শিশির কুমার বসুর আদালতে সোপর্দ করা হয়।

দিনাজপুরের কোর্ট ইন্সপেক্টর মো. মনিরুজ্জামান জানান, বুধবার সন্ধ্যায় গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে মামলার অন্যতম আসামি ফসিউল আলম পলাশ দিনাজপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শিশির কুমার বসুর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।

গ্রেফতার পাঁচ আসামিকেই কারাগারে পাঠানো হয়।এ ছাড়া একই আদালতে মামলার বাদী জাহাঙ্গীর আলম, তার মা অপহরণ থেকে উদ্ধারকৃত জহুরা খাতুন এবং আরও অপর দুই সাক্ষীর ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

উল্লেখ্য যে, সোর্স ফসিউল পলাশ চলতি মাসের প্রথম দিকে চিরিরবন্দর উপজেলার ৫ নম্বর আব্দুলপুর ইউনিয়নের নান্দেরাই সোলেমান শাহ পাড়া গ্রামের লুৎফর রহমানের বিরুদ্ধে রংপুর সিআইডি কার্যালয়ে ৫০ লাখ টাকা প্রতারণার একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

পরে ২৩ আগস্ট রাত সাড়ে ৯টায় সিআইডির এএসপি সারোয়ার কবিরের নেতৃত্বে একটি টিম চিরিরবন্দর উপজেলার লুৎফর রহমানের বাড়িতে অভিযান চালায়।এ সময় লুৎফর রহমানকে না পেয়ে তার স্ত্রী জহুরা বেগম ও ছেলে জাহাঙ্গীর আলমকে তুলে নিয়ে যায় দলটি।

অনেক নাটকীয়তার পর মঙ্গলবার বিকেলে মুক্তিপণের টাকা আনতে গিয়ে তারা জনতার হাতে আটক হন।পরে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে।এ ঘটনায় লুৎফর রহমানের বড়ভাই খলিলুর রহমান বাদী হয়ে চিরিরবন্দর থানায় অপহরণ ও মুক্তিপণ চাওয়ার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন।

ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে বুধবার বিকেলে তাদেরকে কোর্টে নেয়া হলে বিচারক তাদেরকে জেলহাজতে প্রেরণ করেন।আজ মামলা হাতে পেলে আদালতে ডিবি পুলিশ রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য আবেদন করবেন বলে জানা গেছে।

IPCS News Report : Dhaka: