বুধবার ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ৭ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

সংবাদ শিরোনামঃ

চাঞ্চল্যেকর রাজিফা হত্যার মামলা নিয়ে ধুম্রজাল: টাকা দিয়ে মেডিকেল রিপোর্ট পরিবর্তনের অভিযোগ:

আপডেটঃ ৩:০২ অপরাহ্ণ | আগস্ট ২২, ২০২১

নিউজ ডেস্কঃ


দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ এ যেন সিনেমার কাহিনী।কিন্তু ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক।অসহায় গরীব মা, মেয়ের হত্যার বিচার চেয়ে কাহারোল থানায় মামলা করতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ মামলা গ্রহণ করেননি।উপায় না পেয়ে সেই গরীব মা মামলা করেছেন বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩।কিন্তু বিধিবাম মৃত মেয়ের মেডিকেল রিপোর্টটি মনগড়া এবং অসত্য দিয়েছে বলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন মা মায়া বানু।তিনি মেয়ে রাজিফা হত্যার বিচার কোথায় গেলে পাবেন, বলে হাউ মাউ কেঁদে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।এ এক হৃদয় বিদারক দৃশ্য।বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল মেজিস্ট্রেট আমলী আদালত-৩ কাহারোল এ মামলার বিবরণে জানা গেছে,২০১৮ সালের ফেব্রোয়ারি মাসে ঢিপিকুড়া, রামপুর, কাহারোল দিনাজপুরের মোঃ আলতাব আলীর পুত্র মোঃ রায়হান ইসলাম রুবেলের সাথে, রানীবন্দর, চিরিরবন্দর থানা,দিনাজপুরের “মায়া বানুর“ মেয়ে “রাজিফার“ সাথে বিবাহ সম্পন্ন হয়।

বিয়ের কিছুদিন আজিফা ভাল থাকলেও ৬ মাস পর থেকে প্রায়ই তার শুশুড়-বাড়ীর লোকেরা যৌতুকের জন্য চাপ দিত।রাজিফার ১টি পুত্র সন্তান হওয়ার পরও যৌতুকের জন্য পরিবারের সবাই নির্যাতন করত।এর মধ্যে আমার জামাই মোঃ রায়হান ইসলাম রুবেল, মোঃ আবেদ আলী মুন্সি, মোঃ মহিদুল ইসলাম, মোঃ নওশাদ, মোঃ মোকছেদ আলী সকলের পিতা-মোঃ আলতাব আলী, মোছাঃ আছমা বেগম, স্বামী- মোঃ মহিদুল ইসলাম, মোছাঃ ইসমোতারা বেগম, স্বামী- মোঃ জাবেদ আলী মুন্সি, মর্জিনা বেগম- মোঃ আলতাফ আলী, পিতা-অজ্ঞাত সকলের গ্রাম ঢিপিকুড়া, কাহারোল দিনাজপুর গংরা।

এরা সকলে মিলে গত ২৪/০৪/২০২১ খ্রিঃ তারিখে সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে অজিফাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন এবং মারধর করে।ফলে রাজিফা ঘটনা-স্থলেই মারা যায়, এমনটাই বলছেন এলাকাবাসী।মৃত আজিফার মা মায়া বানু বলেন, আমার মেয়েকে মেরে ফেলার পর গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়ে প্রথমে কাহারোল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ঘটনা।

রাজিফার মা মায়া বানু বলেন, আমার মেয়েকে নির্যাতন করে তার শ্বশুড়-বাড়ীতে মেরে ফেলা হয়েছে।তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন, রাজিফা কাহারোল উপজেলা স্বাস্থ্যসেবা কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলেও সে ছিল মৃত।সেখানে একটি ভূয়া প্রাথমিক চিকিৎসা সনদ নেয় রাজিফার জামাই রায়হানের ভাই মোঃ নরশেদ আলী।

শুধু তাই নয় থানায় মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে ঐদিন রাতেই নরশেদ আলী নিজেই অপমৃত্যু সার্টিফিকেট অর্থাৎ একটি ইউডি মামলা চায় কাহারোল থানায়।নিয়ম মাফিক ইউডি মামলা হয়।কাহারোল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ কোন রকম “ডেথ সার্টিফিকেট” নেয়া হয়নি।তাহলে কাহারোল থানা অফিসার্স ইনচার্জ মোঃ ফেরদৌস কিভাবে পোস্ট মর্টেম ছাড়া ইউডি মামলা করলো ?

যার স্মারক নং-এম আব্দুর রহিম, মেঃকঃ/ফরেন/২০২১/১১৪।পোষ্ট মর্টেমের জন্য থানা কর্তৃপক্ষ ২৫/০৪/২০২১ মেডিকেলে পাঠায়? কিন্তু কাহারোল থানার অফিসার্স ইনচার্জ কিভাবে ২৪/০৪/২০২১ তারিখে ঘটনার প্রেক্ষিতে এবং আসামীদের আবেদনের ভিত্তিতে ইউডি মামলা করেছে? সুধী মহলেরা বলেছেন বিষয়টি আসলেই প্রশ্নবিদ্ধ।

এরপর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাওয়ার পথে নাকি আমার মেয়ে মারা যায়।মামলার বাদী মায়া বানু আরও জানায়, স্থানীয় লোক মোঃ আফজালুর রহমান মানিক তার মোবাইল ফোন থেকে যে ভিডিও ধারণ করেছে সেখানে মৃত রাফিজার বাম চোখের নিচে ও কপালের মাঝখানে রক্তমাখা যখমের চিহ্ন, নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ।

শরীরের বিভিন্ন জায়গায় দুইবাহু, বাম পাজর, থুতনির মধ্যে কালশিরা, যখম ও মারপিটের চিহ্ন ছিল।মেডিকেল রিপোর্টে দেখা যায় তার মেয়ের শরীরে কোন আঘাতের চিহ্ন নেই।সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, এই হত্যাকান্ডটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য সেখানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন প্রভাবশালী নেতাকে ম্যানেজ করে গৃহবধু মৃত অজিফার শ্বশুড়-বাড়ীর লোকজন।

স্থানীয় লোকজনও জানিয়েছে, রাজিফার মৃত্যু কাহারোল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ হয়েছে।তাহলে ডেথ সার্টিফিকেট না নিয়ে প্রেসক্রিপশন বানিয়ে আবার কেন এম. আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে নাটক সাজানো হলো,এ প্রশ্ন সুধীমহল এবং এলাকাবাসীর।অনেক প্রশ্নের জন্ম হয়েছে এখানে।

এলাকাবাসীরা আরও জানান, যদি মৃত রাজিফা বেগম নিজের গলায় ফাঁসি দিয়ে আত্মহত্যা করে তাহলে কেন তার স্বামী মোঃ রায়হান ইসলাম রুবেল এখনও পলাতক? হত্যাকান্ডের পর তার পরিবারের অনেক সদস্য গা ঢাকা দিয়েছে।বিষয়টি সুষ্ঠু বিচারের আশায় কান্না থামাতেন পারছে না ঐ হতভাগ্য দরিমা মা মায়া বানু।

হত্যাকান্ডটি ধামাচাপা এবং মামলা তুলে নেয়ার জন্য স্থানীয় আ.লীগ নেতার লোকজন ম্যানেজের চেষ্টা চালাচ্ছে।মামলা তুলে না নিলে মৃত রাজিফার মা মায়া বানু এবং তার পরিবারকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে আসামীরা।

IPCS News Report : Dhaka:মোঃ মোকাররম হোসেন :
দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি।