শনিবার ২৯শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ ১৫ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

পরিচয়হীন প্রতিবন্ধী শিশুটির শেষ আশ্রয় কোথায়

আপডেটঃ ৪:৪৪ অপরাহ্ণ | আগস্ট ১১, ২০২১

নিউজ ডেস্কঃ

শিশুটির বাম হাতের কবজি বাকা।দুই পা-ও বাকা।সে মানসিক প্রতিবন্ধী,মৃগী রোগেও আক্রান্ত।এমন একটি শিশু আছে রাজশাহীর ছোটমণি নিবাসে। সেখানে অন্য শিশুরা যখন একসঙ্গে হৈ হুল্লোড় করে, তখন একা একা বসে থাকে এই শিশুটি। তাঁর নাম,কী তাঁর পরিচয় তা জানেন না ছোটমণি নিবাসের কর্মকর্তারা।কিন্তু তাঁরা চান,শিশুটি তাঁর পরিবার ফিরে পাক।গত ২০জুন পাবনা সদর থানা পুলিশ ‘শাহ নকিব পরিবহন’ নামের একটি বাস থেকে এই ছেলে শিশুটিকে উদ্ধার করেছিল।বাসের হেলপারের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ জানতে পারে,পাবনার আমিনপুর থানার কাজিরহাট থেকে শিশুটি বাসে উঠেছিল।তাই শিশুটিকে আমিনপুর থানায় পাঠানো হয়।পরিচয় জানতে না পেরে চারদিন পর পুলিশ করণীয় জানতে শিশুটিকে আদালতে তোলে।এরপর নিরাপদ হেফাজতি হিসেবে পাবনা জেলা কারাগারে দুদিন থাকতে হয় শিশুটিকে।আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ২৬জুন কারা কর্তৃপক্ষ শিশুটিকে রাজশাহীর ছোটমণি নিবাসে পাঠায়।

উদ্ধারের সময় শিশুটির কাছে পাওয়া গিয়েছিল ২৯০টাকা।নথিপত্রের সঙ্গে সেই টাকা এখনও রাখা আছে।পরিবারকে পেলে শিশুটির সঙ্গে এই টাকাটিও দেওয়া হবে।কিন্তু পরিবারের খোঁজ মেলেনি।ছোটমণি নিবাসের উপ-তত্বাবধায়ক মো. মনিরুজ্জামান জানান,শিশুটির পরিবারের সন্ধানের চেষ্টা চলছে।পাশাপাশি শিশুটির উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি জানান,৬ থেকে ১৬ বছর বয়সের এ ধরনের প্রতিবন্ধী শিশুর চিকিৎসার জন্য বিশেষায়িত সরকারি প্রতিষ্ঠান আছে চট্টগ্রামে।কিন্তু পুলিশ এই শিশুটির বয়স লিখেছে চার বছর।কিন্তু তাঁদের ধারণা এই শিশুর বয়স ছয়ের বেশিই হবে।তাই বয়স নির্ধারণের জন্য গত ৩ আগস্ট তিনি সিভিল সার্জনকে চিঠি দিয়েছেন।

জানতে চাইলে রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. কাইয়ুম তালুকদার বলেন,আমি চিঠিটা পেয়েছি।কিন্তু এই কাজটা আমরা করি না।তাই সেটি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।হাসপাতাল কর্তৃপক্ষই বয়স নির্ধারণ করে দেবে।রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী বলেন,চিঠিটা আমি পেয়েছি।

এক্স-রে করে বয়স নির্ধারণ করতে হয়।তাই সঙ্গে সঙ্গে আমি চিঠিটা সংশ্লিষ্ট বিভাগের চিকিৎসকের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি।দু’একদিনের মধ্যে হয়ত এটা হয়ে যাবে।শিশুটির বয়স ছয় এর বেশি হলে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হবে চট্টগ্রাম।তার আগে কোন অভিভাবক যথাযথ প্রমাণ নিয়ে এলে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে শিশুটিকে পরিবারের কাছেই দেওয়া হবে।

IPCS News Report : আবুল কালাম আজাদ,রাজশাহী।