রবিবার ১৭ই অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ১লা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

সংবাদ শিরোনামঃ

রামেক হাসপাতালে গত চার মাসে সুস্থতার হার ৭৯ শতাংশ

আপডেটঃ ৫:০১ অপরাহ্ণ | আগস্ট ০৫, ২০২১

নিউজ ডেস্কঃ

রাজশাহী অঞ্চলে ডেল্টার ঢেউয়ে বেড়েই চলেছে আক্রান্তের সংখ্যা।সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়েছে মৃত্যুর সংখ্যাও।তবে এর পাশাপাশি রোগীর সুস্থতার হারও বেড়েছে।রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে আগের তিন মাসের চেয়ে, জুলাইয়ে সুস্থতার হার সবচেয়ে বেশি।হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে,এখানে চিকিৎসক ও নার্স সংকট থাকলেও আছে আধুনিক যন্ত্রপাতি।অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থাও দেশের অন্যান্য জায়গার তুলনায় অনেক ভালো।ক্রান্তিকালে হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা,অক্সিজেন সিলিন্ডারসহ আনুসাঙ্গিক চিকিৎসা সামগ্রী নিয়ে এগিয়ে এসেছেন অনেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান।সে কারণে বেশিরভাগ রোগীই সুস্থ হয়ে হাসিমুখে বাড়ি ফিরছেন।রোগীরা সময়মত ভর্তি হলে মৃত্যুহার এখানে আরও কমানো যেত।হাসপাতালের দেওয়া তথ্যমতে,গত চার মাসে গড়ে রোগীর সুস্থতার হার এখানে ৭৯শতাংশ।

আর শুধু জুলাইয়ে সুস্থতার হার ৮৪ দশমিক ৩৪শতাংশ।এর আগে জুনে সুস্থতার হার ৭২ দশমিক ১০ শতাংশ।এ ছাড়া মে মাসে ৭৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ এবং এপ্রিলে ৭৯ দশমিক ৫১ শতাংশ রোগী সুস্থ হয়েছেন।জুলাইয়ে সুস্থতার হার যেমন সবচেয়ে বেশি তেমনি মৃত্যুর সংখ্যাও সবচেয়ে বেশি।রোগীও ভর্তি হয়েছেন আগের যে কোন সময়ের চেয়ে বেশি।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত এপ্রিল থেকে জুলাই পর্যন্ত চার মাসে রামেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটে চার হাজার ৭৩১ জন রোগী ভর্তি হয়েছে।এদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ৩ হাজার ৭২৪ জন।মারা গেছেন এক হাজার ১০৩ জন।এদের মধ্যে করোনা পজিটিভ হয়ে ৪৩৭ জন, উপসর্গে ৬২৮ জন ও করোনা পরবর্তী শারীরিক জটিলতায় ৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বাকিরা এখনও চিকিৎসাধীন।তাঁদের সুস্থ করে তুলতে সব চেষ্টায় চলছে।এপ্রিলে হাসপাতালে ভর্তি হন ৬৫৪ জন রোগী।সুস্থ হয়ে বাড়ি যান ৫২০ জন।মারা যান ৭৯ জন।এদের মধ্যে করোনা পজিটিভ অবস্থায় ৩৬ জন এবং উপসর্গে ৪৩ জন যান।মে মাসে মাসে ভর্তি হয়েছেন ৮০৮ জন।সুস্থ হয়েছেন ৬১৭ জন।এই মাসে মৃত্যুর সংখ্যা ১২৪ জন।

এদের মধ্যে করোনা পজিটিভ অবস্থায় ৫৩ জন এবং উপসর্গে ৭১জনের মৃত্যু হয়।জুনে করোনা ইউনিটে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ৩৯১জন।এরমধ্যে এক হাজার তিনজনই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।জুনে মারা গেছেন ৩৬৯ জন।এর মধ্যে করোনা পজিটিভ ছিলেন ১৬৮ জন।আর উপসর্গে ১৯৪জন এবং করোনা পরবর্তী জটিলতায় সাতজনের মৃত্যু হয়।

জুলাই মাসে রোগী ভর্তি হয়েছেন সর্বোচ্চ ১ হাজার ৮৭৮ জন।এরমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ হাজার ৫৮৪ জন। জুলাইয়ে হাসপাতালে ৫৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে।এদের মধ্যে করোনা পজিটিভ অবস্থায় ১৮০জন,উপসর্গে ৩২০ জন এবং কোভিড পরবর্তী জটিলতায় ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে।হাসপাতাল পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী বলেন,আমরা চিকিৎসাধীন রোগীদের বড় একটা অংশকে সুস্থ করতে সক্ষম হয়েছি।

আমাদের এখানে ডাক্তার ও নার্সের সংকট আছে।তবে আমাদের আধুনিক যন্ত্রাংশ আছে।এসব যন্ত্রাংশই আমাদের সুস্থ করার পেছনের মূল হাতিয়ার।তিনি বলেন, রামেক হাসপাতলে যে পরিমাণ যন্ত্রাংশ আছে তা অন্য কোন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেই।রোগী যখন বাড়ছিল,তখন একের পর এক ওয়ার্ডকে আমরা সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইনের সঙ্গে যুক্ত করেছি।মোটা মোটা পাইপ দিয়েছি যাতে অক্সিজেন সংকট না হয়।

করোনা ইউনিটে শয্যার সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে।ফলে রোগী ভর্তির সুযোগ পেয়ে সুস্থ হয়েছেন।তিনি আরও বলেন, আমাদের ৮৩টি হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা আছে।২২টি বায়োপ্যাক আছে।২০টি আইসিইউ শয্যা আছে।অনেকেই এগিয়ে এসেছেন চিকিৎসা সামগ্রী নিয়ে।ফলে আমরা ঠিকমত চিকিৎসা দিতে পেরেছি।রোগীর প্রাণ বেঁচেছে।এখন পরিস্থিতি আগের চেয়ে ভালো।

IPCS News/রির্পোট।আবুল কালাম আজাদ,রাজশাহী।