বুধবার ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ৭ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

সংবাদ শিরোনামঃ

প্রধানমন্ত্রী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বস্তিবাসীদের ফ্ল্যাট দিলেন

আপডেটঃ ৭:১১ অপরাহ্ণ | আগস্ট ০৩, ২০২১

নিউজ ডেস্কঃ

সরকারি আবাসন খাতে উন্মোচিত হলো এক নতুন দিগন্ত ,গণপূর্ত অধিদপ্তর ও জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্মিত ২৪৭৪ ফ্ল্যাটের উদ্বোধনের মাধ্যমে।মুজিববর্ষ উপলক্ষে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আজিমপুর সরকারি কলোনি, মিরপুর-৬ নম্বর সেকশন, মালিবাগ ও মতিঝিলে দুই হাজার ৪৭৪টি ফ্ল্যাট সম্বলিত পাঁচটি আবাসন প্রকল্প নির্মাণ করেছে সরকার।বস্তিবাসীদের জন্য মিরপুরে হচ্ছে ৩শ ফ্ল্যাট।আজ মঙ্গলবার ঢাকার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন।অনুষ্ঠানে গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে কয়েকজন বস্তিবাসীর মধ্যে ফ্ল্যাটের বরাদ্দপত্র হস্তান্তর করেন।গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ বলেন, সুশাসন নিশ্চিত করতে সরকারি কর্মচারীদের উন্নত কর্মপরিবেশ ও নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করা অপরিহার্য।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় কর্মরতদের আবাসন সংকট দীর্ঘদিনের।বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতোপূর্বে সরকারি আবাসন ৮% হতে ৪০% এ উন্নীত করার জন্য অনুশাসন দেন।উক্ত অনুশাসনের প্রেক্ষিতে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ও এর অধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থা বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে বহুতল ভবন নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করে যাতে একই সাথে বিপুল সংখ্যক মানুষের আবাসনের ব্যবস্থার পাশাপাশি ভূমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত  করা যায়।

এর অংশ হিসেবে নির্মিত এসব ভবন উদ্বোধন করা হয়েছে।সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আজিমপুর সরকারি কলোনিতে রয়েছে ১৭টি ২০তলা ভবনে এক হাজার ২৯২টি ফ্ল্যাট, মিরপুর ৬ নম্বর সেকশনে ২৮৮টি ফ্ল্যাট, মালিবাগে চারটি ২০তলা ভবনে ৪৫৬টি ফ্ল্যাট এবং মতিঝিলে পাঁচটি ২০তলা ভবনে ৩৮০টি ফ্ল্যাট।প্রতিটি এক হাজার বর্গফুটের ফ্ল্যাট ও ভবন এলাকায় মুক্ত বাতাস চলাচল নিশ্চিতকরণে ভেন্টিলেটরসহ ক্রস ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

বাথরুম ও টয়লেট আলাদা নির্মাণ করে নিশ্চিত করা হয়েছে সর্বোত্তম ব্যবহার।অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাসহ অগ্নিদুর্ঘটনাকালে প্রতিটি ফ্ল্যাটের বারান্দায় গ্রিলে জরুরি নির্গমন ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।প্রায় ৭০ শতাংশ উন্মুক্ত স্থান সম্বলিত সরকারি এ হাউজিং প্রকল্পগুলোতে খেলার মাঠ, সবুজায়ন, ওয়াটার বডি বা পুকুর, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের (এসটিপি) সংস্থান রাখা হয়েছে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি হিসেবে লাগানো হয়েছে সোলার প্যানেল ও বিদ্যুৎসাশ্রয়ী বৈদ্যুতিক ফিটিংস যন্ত্রপাতি। প্রকল্পগুলো পরিবেশবান্ধব ও সবুজ প্রকল্প হিসেবে গড়ে উঠেছে।এছাড়া উদ্বোধনের তালিকায় ছিল রাজধানীর তেজগাঁওয়ে আটতলা দুটি আবাসিক ভবন।এগুলো প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

ঢাকার মিরপুর ৬ নং সেকশনে ১৩১ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে চারটি ভবনে ২৮৮টি ফ্ল্যাট গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীদের বসবাসের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে।এ প্রকল্পের নির্মাণ কাজ ১ জানুয়ারি ২০১৬ সালে শুরু হয়ে ৩০ জুন ২০২১ সালে সমাপ্ত হয়।ঢাকার মালিবাগে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ৪৫৬ টি ফ্ল্যাটের নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৬ সালের ১০ আগস্ট।

এ প্রকল্পের আওতায় ২১২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত চারতলা ভবনে এসব ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হয়।এসব ভবনের প্রতিটি ফ্ল্যাটের আয়তন ১০০০ এবং ৮০০ বর্গফুট।এছাড়াও প্রকল্পের আওতায় তিন তলা বিশিষ্ট একটি মসজিদ ও একটি কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণ করা হয়েছে।প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বসবাসের জন্য ৪৪ কোটি ৭২ লাখ ৭০ হাজার টাকা ব্যয়ে দুটি ভবনে নির্মাণ করা হয়েছে ৫৮টি ফ্ল্যাট।সেপ্টেম্বর ২০১৭ সালে শুরু হয়ে জুন ২০২১ সালে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হয়।

নবনির্মিত এসব ফ্ল্যাটের মধ্যে ১৮০০ বর্গফুট আয়তনের ৭টি, ১৫০০ বর্গফুট আয়তনের ৭টি এবং ৮০০ বর্গফুট আয়তনের ৪৪টি ফ্ল্যাট রয়েছে।এখানে রয়েছে অত্যাধুনিক কার ওয়াশিং সিস্টেম।গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ বলেন, মঙ্গলবার উদ্বোধনকৃত প্রকল্প সমূহের মধ্যে খরচ ও আয়তন বিবেচনায় বৃহত্তম প্রকল্প ঢাকাস্থ আজিমপুর সরকারি কলোনির অভ্যন্তরে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য বহুতল আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্প।

এ প্রকল্পের আওতায় ৯৯০ কোটি ৩০ লাখ ১৯ হাজার টাকা ব্যয়ে ১৩.৬২ একর জমিতে ১৭টি ভবনে মোট ১২৯২টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হয়েছে।১হাজার এবং ৮শ বর্গফুট আয়তনের এসব ফ্ল্যাটে রয়েছে অত্যাধুনিক সুযোগ সুবিধা।এসব ভবনে রয়েছে সুপরিসর কমন স্পেসসহ একাধিক লিফট।প্রকল্প এলাকায় একটি ছয় তলা বিশিষ্ট কমন ফ্যাসিলিটিজ ভবন নির্মাণ করা হয়েছে।

১৯৯৭ সালে আশ্রয়ণ প্রকল্প শুরু হওয়ার পর থেকে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত (মুজিববর্ষের গৃহসহ) চার লাখ ৪২ হাজার ৬০৮টি ভূমিহীন-গৃহহীন-ছিন্নমূল-অসহায় পরিবারকে গৃহ দেওয়া হয়েছে।৯৬ সাল থেকে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে সরকার এ পর্যন্ত প্রায় ১০ লাখ পরিবারকে বাসস্থানের ব্যবস্থা করেছে।

IPCS News/রির্পোট।dhaka