মঙ্গলবার ৩রা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ১৯শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

গিলাফ তৈরিতে ব্যবহার হয়েছে ৬৭০ কেজি রেশম,১২০ কেজি, সোনা এবং ১০০ কেজি রূপা

আপডেটঃ ২:৩৬ অপরাহ্ণ | জুলাই ১৯, ২০২১

নিউজ ডেস্কঃ

হারামাইন কর্তৃপক্ষ প্রতি বছরের মতো এবারও জিলহজের ৯ তারিখ পবিত্র কাবার গিলাফ পরিবর্তন সম্পন্ন করেছে।১৮ জুলাই রবিবার হজের দ্বিতীয় দিন দিবাগত রাতে পবিত্র কাবা ঘর নতুন গিলাফ দিয়ে ঢাকা হয়।জেনারেল প্রেসিডেন্সি বিভাগের উপপ্রধান ড. সাআদ বিন মুহাম্মদ আল মুহাইমিদ জানান, পবিত্র কাবা ঘরের গিলাফটি তৈরিতে ৬৭০ কিলোগ্রাম কালো বর্ণের কাঁচা রেশম, ১২০ কেজি  স্বর্ণ ও একশ কেজি রূপার সুতা ব্যবহার করা হয়েছে।আল-মুহাইমেদ আরো জানিয়েছেন, এ বছর পবিত্র কাবার কালো গিলাফ (কিসওয়া) তৈরিতে বাদশাহ আব্দুল আজিজ কমপ্লেক্সে প্রায় দুই শত সৌদি কারিগর তৈরিতে নিযুক্ত ছিলেন।

করোনা সংক্রমণ রোধে সব ধরনের সুরক্ষা ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে কাবা ঘরে নতুন গিলাফের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।গিলাফের ওপর সোনার প্রলেপকৃত রূপার সুতোয় সুচারুরূপে লেখা থাকে, ‘ইয়া আল্লাহ, ইয়া আল্লাহ’ ও ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’ বাক্য। এতে আরও লিখা থাকে, ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি’ ‘সুবহানাল্লাহিল আজিম’ ‘ইয়া দায়্যান, ইয়া মান্নান’।কাবার গিলাফ ও বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের সময় আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নতমানের মেশিনারিজ ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন মসজিদে হারাম ও মসজিদে নববীর জেনারেল প্রেসিডেন্সি বিভাগের প্রধান ড. আবদুর রহমান আস সুদাইস।

তিনি বলেন, মসজিদে হারাম এবং মসজিদে নববীর নির্মিত ও নির্মাণাধীন যত স্থাপনা আছে,তা আরও আকর্ষণীয় করতে আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নতমানের মেশিনারিজ ব্যবহার করা উচিত।সেই সঙ্গে এই দুই মসজিদে ব্যবহৃত জিনিসগুলো দেশের ভেতর ও বাইরের জাদুঘরে প্রদর্শন করা যেতে পারে।এতে দর্শনার্থীদের আগ্রহ আরও বাড়বে বলে মতামত দিয়েছেন তিনি।ড. সুদাইসি আরও বলেন, এক্ষেত্রে মসজিদে হারামাইন শারিফাইনের খাদেম বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ এবং প্রিন্স মুহাম্মদ বিন সালমানের সুনাম সুখ্যাতি বাড়বে।এ কাজ গুলো অব্যাহতভাবে চালিয়ে যেতে পারলে দুই মসজিদে তাদের একনিষ্ঠ কাজগুলো লোকদের সামনে স্পষ্ট হবে।

কাবার গিলাফ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান বাদশাহ আবদুল আজিজ কমপ্লেক্স ইতোমধ্যেই তাদের প্রস্তুত সামগ্রীর মধ্যে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে।গিলাফের কাপড় কাটা, সেলাই করার মেশিন,এসবই অত্যাধুনিক করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।স্বর্ণের সুতা দিয়ে গিলাফের বিভিন্ন অংশে কোরআনের আয়াত লেখা হয়েছে।জানা যায়, গিলাফে ব্যবহৃত খাঁটি রেশম আনা হয়েছে ইতালি থেকে।স্বর্ণ জার্মান থেকে।অনুমান করা হচ্ছে, কাবার নতুন গিলাফের কাজ সম্পন্ন করতে প্রায় ২২ মিলিয়ন সৌদি রিয়াল খরচ হয়েছে।গিলাফটি খুব টেকসই ও মানসম্মত উপায়ে তৈরি করা হয়।যেন রোদ-বৃষ্টিতে গিলাফ নষ্ট না হয়।

IPCS News/রির্পোট।সূত্র : আল আরাবিয়া ও আরব নিউজ