মঙ্গলবার ৩রা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ১৯শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

গৃহকর্মী সুইটিকে নির্যাতনের ঘটনায় দম্পতি রিমান্ডে;

আপডেটঃ ৫:১৪ অপরাহ্ণ | জুলাই ১৮, ২০২১

নিউজ ডেস্কঃ

ঢাকার তোপখানা রোডের একটি বাসায় ১২ বছর বয়সী শিশু গৃহকর্মী সুইটিকে নির্যাতনের ঘটনায় গ্রেপ্তার গৃহকর্তা মো. তানভির আহসান ও তার স্ত্রী আইনজীবী নাহিদ জাহান আঁখিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ওই দম্পতিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।আজ রবিবার ১৮ জুলাই ঢাকা মহানগর হাকিম আবু সাঈদের আদালত শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।আসামিপক্ষের আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন।রাষ্ট্রপক্ষ বিরোধিতা করেন।গত ৩ জুলাই রাজধানীর তোপখানা রোডের এক বাসিন্দা তার পাশের বাসায় গৃহকর্মী সুইটিকে নির্যাতনের কথা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট করেন।পোস্টে তিনি দ্রুত সহযোগিতা ও আইনি ব্যবস্থার আর্জি জানান।খবর পেয়ে শাহবাগ থানা পুলিশ ভুক্তভোগী মেয়েটিকে উদ্ধার করে এবং নির্যাতনের অভিযোগে গৃহকর্তা তানভীর আহসান ও তার স্ত্রী নাহিদ জাহানকে গ্রেপ্তার করে।

৫ জুলাই ভুক্তভোগীর বাবা শহিদ মিয়া বাদী হয়ে তানভীর আহসান ও তার স্ত্রী নাহিদ জাহানের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় ওই মামলা করেন।মামলার বিবরণীতে বলা হয়, অভাবের কারণে ৯ মাস আগে সুইটিকে পাভেল-আখির বাসার কাজে পাঠায় তার পরিবার।তার মাসিক বেতন ধরা হয় ৩০০০ টাকা।দুই মাসের বেতন শহিদ মিয়া নিয়ে যান।এরপর সাত মাসে আর কোনো টাকা দিতো না আসামিরা।এমনকি সুইটিকে দেখতে আসলেও দেখা করতে বা ফোনে কথা বলতে দেয়নি আসামিরা।ঠিকমত কাজ না করার অজুহাতে পাভেল ও আখি কারণে-অকারণে সুইটিকে দীর্ঘদিন যাবৎ অমানবিক মারপিট করে আসছিলেন।গত ১জুলাই বেলা ১১টার দিকে লাঠি দিয়ে সুইটির হাত, পা, পিঠ ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত করে জখম করেন আসামিরা।ওইদিন রাত ১০টার দিকে সুইটির পরা কাপড় খুলে ওড়না দিয়ে হাত বেঁধে মশা মারার ইলেকট্রিক ব্যাট দিয়ে সুইটির পশ্চাৎদেশের দুই পাশে শক দিয়ে ক্ষত-বিক্ষত করেন পাভেল-আখি দম্পতি।এতে সুইটির পশ্চাৎদেশের মাংস ঝলছে বিকৃত হয়ে যায়।

পাভেল ও আখি রুটি তৈরির কাঠের বেলুন দিয়ে সুইটির বাম হাতের কনুয়ের হাড় ভেঙে দেয়।আখি সুইটির যৌনাঙ্গে বেলুন ঢুকিয়ে নির্যাতন করেন।যার ফলে সুইটির যৌনাঙ্গ বিকৃতসহ ক্ষত-বিক্ষত হয়।চোখে মুখে ও যৌনাঙ্গে মরিচ লাগিয়ে দেয়।সুইটি জীবন বাঁচানোর জন্য আসামিদের বাসা থেকে পালানোর চেষ্টা করলে তাকে খেতে না দিয়ে দুই দিন বাথরুমে আটকে রাখে।গত ৩ জুলাই সুইটি বাথরুম থেকে বের হয়ে তাদের ঘরে থাকা বিস্কুট খেলে আসামিরা তার ওপর রাগান্বিত হয়ে রাত ১টার দিকে আসামিরা তাকে আবার মারপিট করে।সুইটি জীবন বাঁচানোর জন্য কৌশলে আসামিদের বাসা থেকে পালিয়ে একজনের বাসায় আশ্রয় নেয়।এরপর আশ্রায়দাতারা পুলিশে খবর দেয়।৪জুলাই পুলিশ এসে সুইটিকে উদ্ধার করে এবং ওই দম্পতিকে আটক করে।পরদিন তাদের ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।এরপর থেকে তারা কারাগারেই আছেন।

IPCS News/রির্পোট।