বৃহস্পতিবার ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ৮ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

সংবাদ শিরোনামঃ

রাজশাহীতে পুলিশের হাতে সাংবাদিক নির্যাতন চলছেই

আপডেটঃ ৪:১৯ অপরাহ্ণ | জুলাই ০১, ২০২১

নিউজ ডেস্কঃ

রাজশাহীতে  সাংবাদিক নির্যাতন পুলিশ কর্তৃক স্বীকৃত ও সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।প্রতিদিন কোন না কোন পুলিশের হাতে নির্যাতিত হচ্ছে সাংবাদিক।ট্রাফিক পুলিশ ,থানা পুলিশ ,ফাঁড়ির পুলিশ, বক্সের পুলিশ ,রাস্তায় টহলরত পুলিশ।সাংবাদিকদের দেখলেই বিনা কারণে হেনস্থা, লাঞ্চিত,এমনকি শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হচ্ছে তাদের হাতে।রাজশাহী মহানগরীতে সাংবাদিকদের লাঞ্ছিত করার ঘটনায় নতুন নয় ,দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে চলে আসছে পুলিশের হাতে সাংবাদিক নির্যাতন।পুলিশের অপকর্মের সংবাদ প্রকাশ করলেই সে সাংবাদিকের উপর নেমে আসে পুলিশি খড়গ।অতীতে পুলিশের নির্যাতন থেকে রেহাই পায়নি সাংবাদিক টিপু সুলতান থেকে শুরু করে রাজশাহীর কৃতি সন্তান তৎকালীন দৈনিক সংবাদ-এর রাজশাহী বিভাগীয় প্রতিনিধি সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম আকাশ, দৈনিক জনকণ্ঠের ফটোসাংবাদিক সেলিম জাহাঙ্গীর, তৎকালীন দৈনিক প্রথম আলো ও বর্তমান দৈনিক যুগান্তর রাজশাহী বিভাগে প্রধান আনু মোস্তফা।তাকে গাড়ি পোড়ানোর মত একটি মামলার আসামি করা হয়েছে বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন।

এছাড়া প্রথম আলোর ঢাকার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক সাংবাদিক রোজিনা, দৈনিক সমকালের জেলা প্রতিনিধি আবদুল হালিম শিমুল, দৈনিক মানব জমিনের ফটো সাংবাদিক কাজলসহ অসংখ্যা সাংবাদিক।ক্ষমতাসীনদের হাতে সাংবাদিক নির্যাতন ও হত্যার ঘটনা কমে আসলেও নির্যাতন কিন্তু বন্ধ হয়নি এখনোও।পক্ষান্তরে পুলিশি নির্যাতনের প্রত্যেকটি ঘটনা নিয়ে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নীরবতা ও উদাসীনতা এর অন্যতম প্রধান কারন বলেও মনে করছেন সাংবাদিক নেতারা।এদিকে লক ডাউনের মধ্যেও রাজশাহীতে ঘটেছ চলেছে একের পর এক সাংবাদিক নির্যাতনের মত ঘটনা।সম্প্রতি রাজশাহীতে দুই জন সাংবাদিককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

ভিডিওর সুত্রানুসারে জানা যায়, ঢাকা থেকে প্রকাশিত জাতীয় দৈনিক পত্রিকা মাতৃভূমির খবরের সিনিয়র রিপোর্টার ও নিউজ পোর্টাল উত্তরবঙ্গ প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদক এম.এ.হাবীব জুয়েলকে নগরীর মতিহার থানাধীন তালাইমারী মোরে শারীরিক ভাবে লাঞ্চিত করছেন মতিহার থানার এসআই সেলিম রেজা, কন্সটেবল জলিলসহ পুলিশ লাইনের একজন হাবিলদার।ঘটনার ভিডিও সহ রাজশাহী পুলিশ কমিশনার আবুল কালাম সিদ্দিক বরাবরে অভিযোগ করলেও এখন পর্যন্ত অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের প্রতি কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নাই পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।এ নিয়ে রাজশাহীতে কর্মরত সাংবাদিকরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।এই ঘটনার পর রাজশাহীর একাধিক সাংবাদিক সংগঠন পুলিশ কর্তৃক সাংবাদিক নির্যাতনের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন মহানগর পুলিশ কমিশনার বরাবরে। এরপর ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ রা অজ্ঞাত কারণেই নীরব রয়েছেন।ঐ সকল পুলিশ সদস্যদের বিচার কি সুনিশ্চিত হবেনা? নাকি কর্তৃপক্ষ ভাবছে যতক্ষণ না সাংবাদিক আন্দোলন শুরু না হবে ততক্ষণ চুপচাপ থাকাই শ্রেয়।

সাংবাদিকেরাও মানুষ।পুলিশি নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় ফুঁসে উঠছে রাজশাহীর সাংবাদিক সমাজ যে কোন মুহূর্তে পুলিশের বিরুদ্ধে বৃহত্তর আন্দোলনের ঘোষণা দিতে পারে সাংবাদিকেরা।শান্ত নগরী অশান্ত হলে এর দায় বহন করবে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।হাবীব জুয়েলকে লাঞ্চিত করার ১৫মিনিটের মধ্যে সার্বিক বিষয়টি রাজশাহী মতিহার থানার ওসি সিদ্দিকুর রহমান ও মুঠোফোনে মতিহার জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনারকে বিষয়টি অবগত করারপর এসআই সেলিম তিনজন সাংবাদিককে নামে মতিহার থানায় একটি জিডি করেছেন।তিনি শুধু জিডি করে ক্ষান্ত হননি তিনি তার ফেসবুক আইডিতে জিডিটি পোস্ট করেছেন।একজন এসআই তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়া  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম তার ফেসবুক পোস্ট করার ক্ষমতা রাখে না।

তবে সাংবাদিকেরা ধরে নিচ্ছে সাংবাদিককে দমন করতেই পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসআইকে দিয়ে তা করিয়েছেন।যা পুলিশী আইনের পরিপন্থি।এ বিষয়েও কোন পদক্ষেপ নিতে পারেননি রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কর্তারা।তাদের এই অপারগতার কারনে সাংবাদিকেরা কঠিন আন্দোলনে যাবার প্রস্তুতি নিচ্ছি।অথচ এই রাজশাহীতেই কয়েক মাস আগেও একজন সার্জেন্টেকে স্থানীয় এক যুবক গায়ে হাত তুললে ২৪ ঘন্টার মধ্যে ঐ যুবককে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন পুলিশ কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক এবং ফোন ট্র‍্যাকিং এর মাধ্যমে ঐ যুবক গ্রফতার হয় ১২ ঘন্টার মধ্যে।তাহলে স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে একজন সাংবাদিকের গায়ে যখন পুলিশ হাত তুলল তখন মাননীয় পুলিশ কমিশনার মহোদয়সহ রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কর্তারা পিছুপা হচ্ছেন কেন।তাই সকলের প্রশ্ন রাজশাহীতে কি সাংবাদিক নির্যাতন স্বীকৃত ?

IPCS News/রির্পোটঃAbul Kalam Azad রাজশাহী