মঙ্গলবার ৩রা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ১৯শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

অদৃশ্য ঈশারায় থমকে আছে জীবন-জীবিকার চাকা

আপডেটঃ ৪:৪৭ অপরাহ্ণ | জুন ২৮, ২০২১

নিউজ ডেস্কঃ

একেই বলে সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টির রহস্য।স্রষ্টাকে যারা অস্বীকার করে তাদের জন্য এই সময়টা পরীক্ষার সময়।সামান্য একটা প্রকৃতির গজব থামিয়ে দিয়েছে পৃথিবীর মানুষের জীবন ও জীবিকার চাকা।সামান্য একটি ভাইরাস এই ভাইরাসের কারণে পৃথিবীতে মারা গেছে কোটি কোটি লোক বন্ধ হয়ে গেছে মিল-কারখানা চাকা, বিষন্নতা হয়ে গেছে মানুষ থেকে মানুষ।মসজিদ মন্দির গির্জা প্যাগোডা সব উপসনালয় ভক্তদের আনাগোনা নেই বললেই চলে।অদৃশ্য করোনা ভাইরাসের প্রকোপ বাড়ছে প্রতিনিয়তই।এর মধ্যেও জীবন চালিয়ে নিতে ধাপে ধাপে নানা কর্মকৌশল নির্ধারণ করছে মাধনুষ।স্বাস্থ্যবিধি মানাসহ আরোপ করা হয় নানা বিধিনিষেধ।কিন্তু তাতেও কোন ফল হচ্ছে না।দিন দিন বাড়ছে এ ভাইরাসের সংক্রমণ ও মৃত্যু।করোনার সংক্রমণের প্রথম থেকেই বিধিনিষেধ নেমে আসে গণপরিবহন চলাচলে।গত দেড় বছরে কয়েক দফা বন্ধ করা হয় গণপরিবহন।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে অর্ধেক যাত্রী নিয়ে বেশ কিছুদিন চলাচল করলেও বর্তমানে আবারো বন্ধ রয়েছে দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাস, যাত্রীবাহী সকল ট্রেন ও লঞ্চ।গণপরিবহন কেন্দ্রিক অসংখ  চালক-শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন। টার্মিনাল গুলোতে কিছু সংখ্যক শ্রমিক বাস পাহারা দিয়েই সময় কাটাচ্ছেন।আয় বন্ধ থাকায় সংসার চালানো দূরের হিসাব, প্রতিদিনকার নিজের খাওয়ার টাকাই যোগার অনিশ্চিত।বাসের চাকা ঘুরলে যাদের জীবন চলে, বাস বন্ধ থাকায় যেন তাদের জীবন চাকাই থমকে গেছে।একই অবস্থা লঞ্চ-স্টিমার শ্রমিকদের।বাস টার্মিনালগুলোতে নেই বাসের সাইরেনের শব্দ কোলাহল নেই মানুষ জনের।সব যেন নিস্তব্ধ।অন্যদিকে লঞ্চ স্টিমার ঘাট গুলিতে নেই প্রাণ চাঞ্চল্য  নেই লঞ্চের লম্বা হুইসেল।সারা পৃথিবী যেন নিস্তব্ধ অজানা আশঙ্কায় ভুগছেন।

শনিবার (২৬জুন) সকালে রাজশাহী মহানগরীর শিরোইল ঢাকা বাস টার্মিনাল এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে জনমানবহীন এমন চিত্র।পাস গুলি রাস্তা এবং তামিল ভিতরে সারি সারি ভাবে দাঁড় করানো।  বাসের নিচে গাড়ির ভিতরে ৪-৫ জন শ্রমিককে দেখা গেছে অলস ভাবে ঘুমিয়ে থাকতে।অদৃশ্য ইসরাইল যেন স্তব্ধ।রাজশাহী -চট্টগ্রাম রুটে চলাচলরত শ্যামলী পরিবহনের বাস দেখা-শোনার জন্য টার্মিনালে শুয়ে-বসেই দিন কাটছেন রাসেলের নামের এক হেল্পার। তিনি জানান, বন্ধ থাকলেও গাড়ি পাহারা দিতে কাউকে না কাউকে থাকতে হয়। গাড়ির চালক বাড়ি চলে গেছেন, মালিকরা যার যার জায়গাতেই আছেন।কিন্তু শ্রমিকরা বাধ্য হয়ে গাড়ির সঙ্গেই থাকছেন।রাসেল বলেন, গাড়ির চাকা বন্ধ, ইনকামও বন্ধ।ছেলে মেয়ে নিয়ে চারজনের সংসার তার।কেমনে চলবো চিন্তা করছে? আমি না হয় খাইয়া-না খাইয়া দিন কাটায়ে দিলাম।কিন্তু বাড়িতে বউ,বাপ-মা সন্তান আছে তারা কি খাইবো? এখন এমন একটা অবস্থায় আটকে আছি অন্য কোনো কাজ যে করমু তারও সুযোগ নাই।

মামুন‌ মিয়া আরেকজন বাসের শ্রমিক বলেন, গাড়ি পাহারা দিতাছি, মনে চাইলে মালিক ২-১শ’ কইরা টেকা দেয়, না চাইলে না দেয়।ওই টেকা দিয়া তিনবেলা খাইতে পারি না।এমন দুই-এক দিন হইলে হয়, মাসের পর মাস এমনে বাইচা থাকা কি সম্ভব?জনি পরিবহনের শ্রমিক নুরুদ্দিন বলেন, ১তারিখ থেকে কঠোর  লকডাউন, সেনাবাহিনী নামাবো। সামনে ঈদ আবার ‘লকডাউন’ শুরু হইয়া গেল।আমার মতো মানুষের ঈদ না হয় না করলাম, তিনবেলা না খাইলাম।বউ-বাচ্চা নিয়া অন্তত একবেলা খাইয়া বাঁইচা থাকারই রাস্তা দেখতেছি না।মালিক পক্ষ থেকে কোনো সহায়তা দেওয়া হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে শ্রমিকরা জানান, কিছু কিছু পরিবহনের শ্রমিককে নামমাত্র সহায়তা দিচ্ছে, তাও সেটা চাহিদার তুলনায় খুবই নগণ্য।বেশিরভাগ শ্রমিকরাই খেয়ে-না খেয়ে কোনোভাবে দিন কাটাচ্ছেন।চালকদের কেউ কেউ প্রয়োজন মেটাতে হয়তো মালবাহী যানবাহন চালাচ্ছেন, তবে প্রায় সব শ্রমিকরাই বেকার জীবন-যাপন করছেন।বাসচালক-শ্রমিকরা জানেন না আবার কবে গাড়ি পথে নামবে।ঘুরবে বাসের চাকা, অনিশ্চয়তাতেই আটকে রয়েছে তাদের স্বাভাবিক জীবন ও জীবিকার চাকা।

IPCS News/রির্পোট।