বুধবার ৬ই জুলাই, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ ২২শে আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

সংবাদ শিরোনামঃ

কঠোর লকডাউন ঘোষণার পর রাজশাহীর বাজারে উপচে পড়া ক্রেতাদের ভিড়, নেই স্বাস্থ্যবিধির বালাই

আপডেটঃ ৩:৪১ অপরাহ্ণ | জুন ২৭, ২০২১

নিউজ ডেস্কঃ

আগামী ২৮ শে জুন থেকে সরকারের কঠোর লকডাউন ঘোষণার পর থেকে রাজশাহীর কাঁচাবাজার সহ বিভিন্ন বাজারে দেখা গেছে উপচে পড়া মানুষের ভিড়।হুমড়ি খেয়ে পড়ছে শহরের মানুষজন।কে কার আগে বাজার করবেন এই প্রতিযোগিতা চলছে নগরীতে।অন্যদিকে পুলিশ প্রশাসন ও হিমশিম খাচ্ছে তাদের ফেরাতে।মুখে মাক্স নেই, এক অপরের ঘাড়ের উপর উঠে কেনাকাটায় ব্যস্ত তারা।বাজার ঘুরে ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র।নগরীর ব্যস্ততম কাঁচাবাজারে চিল্লাচিল্লি এবং লোকজনের সমাগম দেখে সেখানে গিয়ে দেখা গেল দুই ক্রেতার হাতে হাতি।লোকজন দুজনকে দুদিকে সারানোর চেষ্টা করছেন।করিম নামের একজন ক্রেতার নাক দিয়ে রক্ত ঝরঝে।তাকে জিজ্ঞেস করে জানা গেল তিনি ৫কেজি পেঁয়াজ কিনবেন দামদর করছেন বিক্রেতার সাথে।

এমন সময় একজন ক্রেতা এসে বলল আমাকে আগে দিন।আমি তাকে বললাম ভাই আমি আগে এসেছি আমি আগে নিব।তাকে এ কথা বলার সাথে সাথে আমার ওপরে চড়াও হয় মঞ্জুর নামের ওই ক্রেতা এক পর্যায়ে আমার মুখে সে ঘুসি মেরে রক্তাক্ত করলো।এটা কেমন কথা প্রশ্নছঁড়লেন স্থানীয়দের নিকট।পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।একি দৃশ্য নগরীর সকল মার্কেটগুলোতে।যেন ফুরিয়ে যাচ্ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য গুলি।নগরীর সাহেববাজার কাপড়ের দোকান গুলি দৃশ্য একই রকম।কে কার আগে কিনতে পারে এই প্রতিযোগিতা।ঠাসাঠাসি আর গদাগদি করে মার্কেটগুলোতে ঘুরছে মানুষ ,নেই স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই মুখে মাক্স।মুদির দোকানে লাইন ধরে থাকা আঞ্জুমান আরা নামের এক মহিলা জানান, তিনি চাউল ,ডাল, মসলাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনার জন্য তিনি এ দোকানে প্রায় ৩০ মিনিট ধরে দাঁড়িয়ে আছেন।তিনি বলেন সরকার তো সাত দিনের কঠোর লকডাউন দিল ,তাই জিনিসপত্র আগে থেকে কিনে রাখছি।আঞ্জুমান আরার মত একই কথা বাজারে আসা লোকজনদের।

তারা জিনিসপত্র কিনে মজুদ করছেন বাসায়।তাদের‌ ধারনা বাজারের জিনিসপত্র আর পাওয়া যাবে না।ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় আর বাজার করার  সুযোগটি নিয়েছে বিক্রেতারা।তারা বাজার দামের দ্বিগুণ পর্যন্ত দাম নিচ্ছেন ক্রেতাদের কাছে।তবুও ভ্রুক্ষেপ নেই ক্রেতাদের।২৬ জুন শনিবার নগরীর বাজার ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র।বিভিন্ন সবজির দাম ১০ থেকে ২০ টাকাসহ ডিম, তেল ও অন্যান্য পণ্যের দাম বেড়েছে।সেই সাথে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে বাজারে নতুন আমদানি হওয়া গাজর, টমেটো ও শশা।শনিবার রাজশাহীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে পণ্যের এমন উর্ধ্বমুখী দাম লক্ষ্য করা গেছে।বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে আমদানির চেয়ে ক্রেতার চাহিদা বেশি থাকা ,লকডাউনের কারণে বাইরে কাঁচামাল রাজশাহীতে আমদানী না হাওয়াই দাম বেশি।অন্যদিকে বিভিন্ন সিণ্ডিকেটকে দুষছেন সাধারণ ক্রেতারা।

২৬ জুন শনিবার  রাজশাহীর কাঁচাবাজারে প্রতি কেজি পটোল ২৫ থেকে ৩০ টাকা, বেগুন ৫০ থেকে ৬০ টাকা, শশা ৮০ টাকা, ঢেড়স ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, কচু ৫০ টাকা, লাউ ৪০ টাকা, কুমড়া ৪০ টাকা, পেপে ৪০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ২০ টাকা, ঝিঙে ৪০ টাকা, বাঁধাকপি প্রতি পিস ৫০ টাকা, দেশি গাজর ৫০ টাকা, চায়না গাজর ১২০ টাকা, টমেটো ৫০ টাকা, ভারতীয় টমেটো ১২০ টাকা, সজনে ডাটা ১০০ টাকা, করলা ৫০ টাকা, চিচিঙ্গা ২৫ থেকে ৩০ টাকা, বরবটি ৪০ টাকা, আলু ২০ টাকা, দেশি আলু ২৫ টাকা ও কাকরোল ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।নির্দিষ্ট কয়েকটি সবজির দাম কেন এত চড়া জানতে চাইলে বিক্রেতারা লকডাউনের অজুহাত ও ক্রেতাদের মজুদ করার প্রবণতাকে দায়ী করছে।এদিকে, পাইকারি বিক্রেতারা বলছেন,বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, আদা ৮০ টাকা থেকে ১০০ টাকা, রসুন ৫৫ থেকে ৬০ টাকা ও শুকনা মরিচ ২২০ থেকে ২৪৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে।দাম বেড়েছে সয়াবিন তেলের।প্রতি লিটার সয়াবিন ১২৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৪০ ও কোথাও কোথাও ১৫০ টাকাতে বিক্রি হয়েছে।

এছাড়াও প্রতি হালিতে ১০ টাকা বেড়ে ৩৮ থেকে ৪০ টাকাতে বিক্রি হয়েছে।এদিকে, মাছের বাজারে প্রতি কেজি ট্যাংরা ৬০০ টাকা, পিয়ালি ৬০০ টাকা, পাবদা ৪০০ টাকা, মোয়া ৪০০ টাকা, কাতল ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, সিলভার ২০০ টাকা, মৃগেল ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা, রুই ৩০০ টাকা, বোয়াল ৮০০ টাকা, চিংড়ি ১০০০ টাকা দামে বিক্রি হয়েছে।এছাড়াও ইলিশ বিক্রি হয়েছে ৭৫০ থেকে ১০০০ টাকায়।মাছ বিক্রেতা মোমিন বলেন, লকডাউনের কারণে গাড়ি বন্ধ থাকায় পর্যাপ্ত মাছ আমদানি করা সম্ভব হচ্ছে না।এজন্য দাম একটু বেশি।গাড়িঘোড়া সচল হলে দাম কমবে।বাজারে গরুর মাংসের দাম ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হয়েছে ৫৬০-৫৭০  টাকা কেজিতে।এছাড়া খাশির মাংস ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা ও ছাগলের মাংস ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে।আর মুরগির মধ্যে ব্রয়লার ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা, সোনালী ১৯০ টাকা, সাদা লেয়ার ২০০ টাকা ও দেশি মুরগি ৩৯০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে।

সাহেববাজারের এপি চাউল ভাণ্ডারের মালিক অশোক প্রসাদ জানান, বাজারে প্রতি কেজি আটাশ নতুন ৫২ টাকা, পুরাতন ৫৬ থেকে ৫৮ টাকা, মিনিকেট নতুন ৫৮ টাকা, পুরাতন ৬২ টাকা, জিরাশাল নতুন ৫৮ টাকা, পুরাতন ৬০ থেকে ৬২ টাকা, বাসমতি নতুন ৬৬ টাকা, পুরাতন ৬৮ টাকা, নাজিরশাল ৬৮ টাকা, কাটারীভোগ সেদ্ধ নতুন ৬০ টাকা, পুরাতন ৭৫ টাকা, স্বর্ণা ৪৮ টাকা, কালজিরা ৮০ থেকে ৯০ টাকা, চিনিগুড়া ৯৫ থেকে ১০০ টাকা, বালাম ৬৫ ও রনজিত ৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।এই চাল বিক্রেতা বলেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চালের দাম একইরকম রয়েছে। বাড়েওনি, কমেওনি। দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে, রাস্তায় ক্লিয়ার হলে চালের দাম কমতে পারে।

IPCS News/রির্পোট