সোমবার ২১শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং ৬ই কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

এইচআইভি থেকে মুক্ত হলেন দ্বিতীয় রোগী

আপডেটঃ ২:২০ অপরাহ্ণ | এপ্রিল ০৩, ২০১৯

অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাজ্যের এক এইচআইভি (এইডস) আক্রান্ত রোগীর অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনের পর তাঁর শরীর থেকে পুরোপুরি এইচআইভি ভাইরাস দূর করা সম্ভব হয়েছে। বিশ্বখ্যাত স্বাস্থ্য সাময়িকী নেচার-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে চিকিৎকরা এমন দাবি করেছেন।
গবেষকরা জানিয়েছেন, রোগী এইডস থেকে শতভাগ মুক্তি পেয়েছেন, এমনটি বলার সময় এখনো আসেনি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এইডসে আক্রান্ত সাধারণ মানুষের জন্য এই পদ্ধতি ব্যবহার করে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব নয়, তবে এটি আগামীতে ওষুধ আবিষ্কারের পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ওই রোগীর নাম ও পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তবে সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ওই ব্যক্তিকে বলা হচ্ছে ‘লন্ডন রোগী’। পুরুষ ওই ‘লন্ডন রোগী’ ২০০৩ সালে এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত হন। ২০১২ তাঁর ক্যানসারও ধরা পড়ে।তবে রোগীকে গত ১৮ মাস ধরে এইচআইভির চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। এখন তিনি আর এইচআইভি সংক্রান্ত ওষুধ নিচ্ছেন না।

একপর্যায়ে ক্যানসার ও এইডসের নিরাময়ের আশায় এক সুস্থ ব্যক্তির শরীর থেকে অস্থিমজ্জা নিয়ে তা ওই রোগীর শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়।ক্যানসারের চিকিৎসায় তাঁর কেমোথেরাপি চলছিল।এতে ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন, ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন, ক্যামব্রিজ ও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা জড়িত ছিলেন।

এ পদ্ধতির মাধ্যমে এ নিয়ে দ্বিতীয় ব্যক্তির শরীর থেকে এইচআইভি ভাইরাস মুক্ত করা সম্ভব হলো। ১০ বছর আগে জার্মানির বার্লিনে অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে অপর এক রোগীর শরীর থেকে এইচআইভি দূর করা সম্ভব হয়। প্রথম রোগী টিমোথি ব্রাউনের চিকিৎসায় এবারের চেয়ে আরো ঝুঁকিপূর্ণ ও দুঃসাহসী ছিল। এইচআইভি ভাইরাস তাড়াতে দুটি প্রতিস্থাপন করতে হয় এবং ক্যানসার থাকায় পুরো শরীরে রেডিওথেরাপি দেওয়া হয়।

এ প্রক্রিয়ায় জড়িত অন্যতম গবেষক ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক রবীন্দ্র গুপ্ত বলেন, ‘একই পদ্ধতি ব্যবহার করে যেহেতু পরপর দুজন রোগীর ক্ষেত্রে সাফল্য মিলেছে। তাহলে এটি কোনো ব্যতিক্রম নয়, একে আমরা চিকিৎসা পদ্ধতি আকারে ধরে নিতে পারি।’

বিবিসি অনলাইনের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক মিশেল রবার্টস বলেন, এটি আশাব্যঞ্জক হলেও এখনই তা দুনিয়ার লাখ লাখ এইচআইভি আক্রান্ত মানুষের চিকিৎসার বার্তা দিচ্ছে না। তবে যেসব গবেষক এইচআইভি প্রতিরোধের উপায় খুঁজছেন তাদের জন্য এই পদ্ধতি দিক নির্দেশক।

Ipcs News/রির্পোট