মঙ্গলবার ৩রা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ১৯শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

আস্থা ভোট নিয়ে বিতর্ক শুরু, ঝুলছে নেতানিয়াহুর ভাগ্য

আপডেটঃ ১১:৩২ অপরাহ্ণ | জুন ১৩, ২০২১

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ১২ বছরের ক্ষমতা অবসানের পথে। এ প্রতিবেদন লেখার সময় রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশটির পার্লামেন্ট নেসেটে নতুন জোট সরকার গঠন নিয়ে বিতর্ক ও ভোট গ্রহণ চলছিল। ইতিমধ্যে এই জোট ক্ষমতায় এলে তীব্রভাবে বিভক্ত জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

নেতানিয়াহু (৭১) তাঁর প্রজন্মের সবচেয়ে প্রভাবশালী ইসরায়েলি রাজনীতিবিদ। গত ২৩ মার্চের নির্বাচনের পর তিনি সরকার গঠনে ব্যর্থ হন। দুই বছরের মধ্যে দেশটিতে চতুর্থবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

নেসেটের আস্থা ভোটে জয়ের পর শপথ গ্রহণের আশা করছে নতুন মন্ত্রিসভা।

নেতানিয়াহুর একসময়ের ঘনিষ্ঠজন ও তাঁর সরকারে কয়েক দফায় মন্ত্রিত্ব করা নাফতালি বেনেট মধ্যপন্থী দল ইয়েস আতিদের সঙ্গে জোট গড়তে রাজি হওয়ায় গত সপ্তাহে নেতানিয়াহুর বিদায়ের ঘণ্টাধ্বনি বাজতে শুরু করে।

এখন এই জোট পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে পারলে ইসরায়েলের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হবেন ইয়েমিনা পার্টির নেতা নাফতালি বেনেট। পার্লামেন্টে বেনেটের দলের মাত্র ছয়টি আসন থাকলেও গত মার্চে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পাওয়া দল ইয়েস আতিদের সরকার গঠনের জন্য তাঁর সমর্থন জরুরি হয়ে পড়েছিল। ইয়েস আতিদের নেতা ইয়ার লাপিদের সঙ্গে বেনেটের যে চুক্তি হয়েছে, তাতে চার বছর মেয়াদের এই সরকারে প্রথম দুই বছর প্রধানমন্ত্রী হবেন বেনেট। তারপরের দুই বছর প্রধানমন্ত্রী হবেন লাপিদ।

জোট যাতে সরকার গঠন করতে না পারে, সে জন্য সব চেষ্টাই চালিয়ে আসছেন নেতানিয়াহু। জোটকে ইসরায়েলের জন্য বিপজ্জনক হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি।

পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ দিয়ে জোট সরকার গঠিত হলে নেতানিয়াহু হবেন বিরোধী দলের নেতা। বিরোধী দলে গেলেও দ্রুতই জোট সরকারের পতন ঘটাবেন বলে আগেই হুমকি দিয়ে রেখেছেন নেতানিয়াহু।

নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা আছে। তিনি বিরোধী দলে গেলে এ মামলা গতি পেতে পারে।

কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল–জাজিরা বলছে, বিভিন্ন রাজনৈতিক ঘরানার দল নিয়ে গঠিত হতে যাচ্ছে ইসরায়েলের জোট সরকার। এর মধ্যে রয়েছে দেশটির ২১ শতাংশ সংখ্যালঘুর প্রতিনিধিত্ব করা একটি দলও। তবে ইসরায়েলে সরকারে পরিবর্তন এলেও তাতে খুব কমই পার্থক্য দেখছেন ফিলিস্তিনিরা। বেনেট ইসরায়েলের স্পেশাল ফোর্সের সাবেক কমান্ডো।

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি সম্প্রসারণের মূল সংগঠনের প্রধান ছিলেন তিনি। ফিলিস্তিনিবিরোধী উগ্র ও বিতর্কিত বক্তব্যের জন্য বেনেট আলোচিত-সমালোচিত।
নেতানিয়াহুর বিরোধীরা ইতিমধ্যে আনন্দ উদ্যাপন শুরু করে দিয়েছেন। শনিবার জেরুজালেমে নেতানিয়াহুর বাড়ির সামনে অনেকেই উল্লাস করেন। কারও হাতে ব্যানারে লেখা ছিল, ‘বাই বাই, বিবি, বাই বাই’। কেউ কেউ নেচে–গেয়ে নেতানিয়াহুর বিদায় উদ্যাপন করেছেন।

অফিস রবিনিস্কি নামের এক ব্যক্তি বলেন, ‘আমাদের জন্য এটি বড় রাত। আগামীকাল একটি বড় দিন। আমি প্রায় কেঁদে ফেলেছি। আমরা এ জন্য শান্তিপূর্ণ লড়াই করেছি। অবশেষে সেই দিন এসেছে।’

এক দশকের বেশি সময় ধরে ইসরায়েলের রাজনীতিতে ডানপন্থী আধিপত্য ধরে রেখেছেন নেতানিয়াহু। ক্ষমতায় টিকে থাকতে ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা ও আগ্রাসন চালানোর পথ বেছে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। গত মাসেও ফিলিস্তিনের গাজায় টানা ১১ দিন বিমান থেকে বোমা ছুড়ে ধ্বংসযজ্ঞ চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। তাদের ওই হামলায় আড়াই শতাধিক ফিলিস্তিনি নিহত হন।

এই হামলা চালানোর পরও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে গ্রহণযোগ্যতা ফিরে পাননি নেতানিয়াহু। তাঁকে হটাতে জোট বাঁধে বাম, ডান ও মধ্যপন্থী দলগুলো। বিবি ডাকনামে পরিচিতি নেতানিয়াহুর অনেক কট্টর সমর্থক রয়েছেন। একই সঙ্গে তাঁর সমালোচকও রয়েছেন প্রচুর। কেউ কেউ তাঁর করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলা ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের জন্য তাঁকে ‘ক্রাইম মিনিস্টার’ বলে থাকে।