বুধবার ২৩শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ৯ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

সংবাদ শিরোনামঃ

অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে কোন রাজনৈতিক চাপ নেই – র‌্যাব এর মহাপরিচালক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন

আপডেটঃ ২:৩৭ অপরাহ্ণ | জুন ০৬, ২০২১

নিউজ ডেস্কঃ

অপরাধের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।অপরাধ দমণে আইন প্রয়োগকারি সংস্থাসমূহের সক্ষমতা রয়েছে।ইতিবাচক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারি সংস্থাসমূহ অপরাধ দমনে কাজ করছে।অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কোন রাজনৈতিক চাপ নেই।টিকটক সহ কয়েকটি ডিজিটাল অ্যাপস ব্যবহারের মাধ্যমে অপরাধ প্রবনতার বৃদ্ধির কারণে ক্ষতিকারক অ্যাপসগুলো বন্ধ করার বিষয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি পর্যালোচনা করছে।সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে অপরাধ সৃষ্টিকারিদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।অপরাধ করে কেউ পার পাবে না।তবে বর্তমান প্রযুক্তি নির্ভর সমাজে প্রযুক্তি বর্জন করা নয় বরং ইতিবাচক ভাবে প্রয্ুিক্তর ব্যবহার করে আমাদের জীবনমান উন্নয়নে করতে হবে।

শনিবার (০৫ জুন ২০২১) রাজধানীর তেজগাঁওস্থ এফডিসিতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির আয়োজনে ‘কিশোর অপরাধ বৃদ্ধিতে সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহার’ নিয়ে ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) এর মহাপরিচালক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন এসব কথা বলেন।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।

র‌্যাব মহাপরিচালক আরো বলেন, কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি অভিভাবক ও শিক্ষকসহ সমাজের বিভিন্ন পেশার মানুষকে সমন্বিত ভাবে কাজ করতে হবে।বিশেষত পরিবারে সন্তানদের প্রতি বাবা মায়ের নজরদারি বাড়াতে হবে।সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহার প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্ক থাকতে হবে।সৃজনশীল কাজে সম্পৃক্তকরণের মাধ্যমে কিশোর অপরাধ হ্রাস করা সম্ভব।সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে কিশোর অপরাধ।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহারের কারণে এই অপরাধের মাত্রা আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে।বিতর্কিত অ্যাপস টিকটকসহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে তারকা বানিয়ে আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে নিন্ম আয়ের পরিবারের মেয়েদের অনৈতিক কর্মকান্ডের ফাঁদে ফেলছে এসব অপরাধীরা।এমন কি সুকৌশলে এসব মেয়েদের ভারত ও মধ্যপ্রাচ্য সহ বিভিন্ন দেশে পাচার করা হচ্ছে।বিশেষ করে টিকটক, লাইকি, ইমু, ফেসবুক, স্ট্রিমকার, মাইস্পেস, হাইফাইভ, বাদু ইত্যাদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার কিশোর-তরুণদের বিপথগামী করে তুলছে।

তৈরি হচ্ছে টিকটক হৃদয়, অপু, সজীব, নয়ন বন্ড, সুজন ফাইটারের মতো অপরাধীরা।ফাইভ স্টার, ডিসকো বয়েজ, সেভেন স্টার, বিগ বস এর মতো কিশোর গ্যাংরা অতিষ্ঠ করে তুলছে পাড়া-মহল্লার সাধারণ মানুষের জীবন।এসব কিশোর গ্যাংরা ইভটিজিং, যৌন নিপীড়ন, চাঁদাবাজি, ছিনতাই-রাহাজানি থেকে শুরু করে হত্যাকান্ডে পর্যন্তেও জড়িয়ে পড়ছে।ফেসবুক ভিত্তিক এসব গ্যাং কালচার প্রতিরোধ করা জরুরী।

আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে অনলাইন ডেটিং অ্যাপসের মাধ্যমে মেয়েদের আপত্তিজনক যৌন উত্তেজক গ্রæপে যুক্ত করছে একটি চক্র। এই চক্র এই সব মেয়েদের মাসিক বেতনের ভিত্তিতে নিয়োগ করে প্রতারণার মাধ্যমে তাদের অসামাজিক কর্মে লিপ্ত করছে।যে মেয়ে লাইভে যত বেশি উত্তেজক কথা বলবে তাকে তত বেশি অর্থ প্রদানের প্রতিশ্রæতি করে এই দুষ্টু চক্র।না বুঝে অনেক তরুণী প্রলোভনে পড়ে এইসব প্রতারক চক্রের হাতে সুন্দর ভবিষ্যৎ নষ্ট করছে।ইতিমধ্যে ভারত ও পাকিস্তান টিকটক অ্যাপসের কার্যক্রম বন্ধ করেছে।যুক্তরাষ্ট্র, ইন্দোনেশিয়া সহ আরো কয়েকটি দেশে টিকটক বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।

এখন সময় এসেছে বাংলাদেশেও এই বিতর্কিত টিকটক এর কার্যক্রম বন্ধ করা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া।তবে সামাজিক অবক্ষয়, পারিবারিক বন্ধনের ঘাটতি, বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের ফলে সন্তানের প্রতি অনাদর, সন্তানকে সময় না দেয়া, মাদকের সহজলভ্যতা, সুশাসনের অভাব, রাজনৈতিক প্রতিহিংসাও কিশোর অপরাধ বৃদ্ধির জন্য দায়ী।প্রতিযোগিতায় ঢাকার শহীদ পুলিশ স্মৃতি কলেজকে পরাজিত করে নরসিংদীর আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজ এর বিতার্কিকরা চ্যাম্পিয়ন হয়।

প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন ড. এস এম মোর্শেদ, সাংবাদিক লিটন হায়দার, আব্দুল্লাহ তুহিন, কাওসার সোহেলী, প্রাক্তন বিতার্কিক মেহেদী হাসান তামিম।অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন র‌্যাব-২ এর পরিচালক লে. কর্ণেল খন্দকার সাইফুল আলম এবং র‌্যাব এর লিগ্যাল এন্ড মিডিয়া উইং এর পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলের মাঝে ট্রফি ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।

ক্যাপশন ০১: কিশোর অপরাধ বৃদ্ধি নিয়ে আয়োজিত বিতর্ক প্রতিযোগিতার চ্যাম্পিয়ন দল আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজকে ট্রফি প্রদান করছেন র‌্যাব এর মহাপরিচালক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন ও ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।

ক্যাপশন ০২: কিশোর অপরাধ বৃদ্ধি নিয়ে আয়োজিত বিতর্ক প্রতিযোগিতার অতিথি র‌্যাব এর মহাপরিচালক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন ও ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ সহ অন্যান্যদের সাথে চ্যাম্পিয়ন দলের বিতার্কিকদের দেখা যাচ্ছে।

IPCS News/রির্পোট, আবুল কালাম আজাদ।