বৃহস্পতিবার ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ৮ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

সংবাদ শিরোনামঃ

নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয়ে রাজশাহী মহানগরী ৩০০ সিসি ক্যামেরা , প্রক্রিয়াধীন আরো ২০০

আপডেটঃ ৩:২৫ অপরাহ্ণ | এপ্রিল ১০, ২০২১

নিউজ ডেস্কঃ

নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয়ে এখন রাজশাহী মহানগরী।মহানগরজুড়ে লাগানো হয়েছে ৩০০ ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা। ফলে যেকোনো অপরাধমূলক ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছে রাজশাহী মহানগর পুলিশ (আরএমপি)।এ ছাড়াও দ্রুত সময়ের মধ্যে অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে।মিলছে সুফল।এ কারণে আরও ২০০ সিসি ক্যামেরা বসানোর প্রক্রিয়া চলছে।এর আগে ২০১৭ সালে মহানগরীতে ৬৫টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করেছিল সিটি করপোরেশন। জনগুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর ১৭টি পয়েন্টে বসানো হয়েছিল এসব ক্যামেরা।খরচ হয়েছিল ৬৭ লাখ ৫৫ হাজার টাকা।

কিন্তু সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে কিছুদিনের মধ্যেই বেশিরভাগ সিসি ক্যামেরা অকেজো হয়ে পড়ে।আরএমপি সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের সেপ্টেম্বরে আরএমপির কমিশনার পদে যোগ দেন আবু কালাম সিদ্দিক।এরপর তিনি মহানগরীর নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেন।এরই অংশ হিসাবে মহানগরজুড়ে ৫০০টি সিসি ক্যামেরা বসানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়।এতে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৬০ লাখ টাকা।যেসব ক্যামেরা বসানো হয়েছে সেগুলো আরএমপির সদর দপ্তর থেকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে।মহানগর পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটের প্রধান সহকারী কমিশনার উৎপল কুমার চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম সিসি ক্যামেরাগুলো মনিটরিং করছে।ইতোমধ্যে মহানগরজুড়ে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের সুফল মিলেছে।

২১ মার্চ দুপুরে মহানগরীর লক্ষ্মীপুর ভাটাপাড়া এলাকায় মেহেদী হাসান (২৮) নামে এক ব্যক্তি ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন।তার এক লাখ ৭০ হাজার টাকার ওষুধ খোয়া যায়।সেই দৃশ্য ধরা পড়ে সিসি ক্যামেরায়।ঘটনার সঙ্গে জড়িত চারজনকে গ্রেফতার ইস্যুতে সংবাদ সম্মেলন করেন পুলিশ কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক।তখন তিনি বলেন, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ থাকার কারণেই ক্লু-লেস এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের চিহ্নিত করার পর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ সম্ভব হয়েছে।এদিকে ২৬ মার্চ রাজশাহীতে বাস-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে ১৭ জন নিহত হওয়ার দৃশ্যটি ধরা পড়ে আরএমপির কাটাখালী থানার সিসি ক্যামেরায়।কোন গাড়ি কীভাবে যাচ্ছিল, মাইক্রোবাসে কখন আগুন লেগেছে, দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা কী করছিলেন, ফায়ার সার্ভিস কখন এসেছে, কতক্ষণ পর আগুন নেভানো গেছে-তার সবই রেকর্ড হয়েছে সিসি ক্যামেরায়।দুর্ঘটনার কারণ তদন্তের জন্য গঠিত কমিটির সদস্যরাও ভীষণ উপকৃত হয়েছেন ফুটেজ পেয়ে।

তদন্ত কমিটির প্রধান রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু আসলাম বলেন, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পাওয়ার কারণে তদন্ত করতে সুবিধা হয়েছে।আমরা সবকিছু খুব সহজেই বিশ্লেষণ করতে পেরেছি।তদন্ত প্রতিবেদনও দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।এজন্য মহানগর পুলিশকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।পুলিশ কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক স্বাধীনতা দিবসের আগেই মহানগরীতে ৫০০টি সিসি ক্যামেরা বসানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন।মহানগরীর বিভিন্ন সড়কে উন্নয়ন কাজ চলার কারণে সেটি অবশ্য সম্ভব হয়নি।বাকি দু’শ ক্যামেরাও অল্প সময়ের মধ্যে বসানো সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা।

সিসি ক্যামেরার তত্ত্বাবধানকারী সহকারী কমিশনার উৎপল কুমার চৌধুরী বলেন, রাজশাহী মহানগরীর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে।আর এজন্য আরএমপির একটি বিশেষ টিম কাজ করছে।বাকি ক্যামেরাগুলো বসানো সম্ভব হলে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আরএমপিতে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে উঠবে।পুলিশ কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক বলেন, ইতোমধ্যে আমরা সিসি ক্যামেরার সুফল পেতে শুরু করেছি।সিসি ক্যামেরা বসানোর ফলে শুধু অপরাধই কমবে না; আরও নানারকম সুবিধা পাওয়া যাবে।যেমন, কোথাও যানজট দেখা দিলে আরএমপি সদর দপ্তর থেকেই দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশের কাছে নির্দেশনা পাঠানো যাচ্ছে।তিনি বলেন, বাকি সিসি ক্যামেরাগুলো বসানো শেষ হলে আরও বেশি সুবিধা পাওয়া যাবে।তখন পুরো মহানগরী পুলিশের নখদর্পণে থাকবে।অপরাধীদের সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব হবে।শান্তির শহর রাজশাহীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

IPCS News/রির্পোট, আবুল কালাম আজাদ।