শনিবার ২৩শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ৭ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

সংবাদ শিরোনামঃ

স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়াই জবাই হচ্ছে পশু, ‘টাকা নেয় ইন্সপেক্টর, সিল মারে কসাই

আপডেটঃ ১:০৯ অপরাহ্ণ | এপ্রিল ০৮, ২০২১

নিউজ ডেস্কঃ

রাজশাহীর পুঠিয়ায় অবৈধ কসাইখানার সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।আর ওই কসাইখানা গুলোতে কোনো প্রকার স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়াই প্রতিদিন জবাই করা হচ্ছে পশু।স্থানীয়দের অভিযোগ কসাইরা বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কম দামে রোগাক্রান্ত পশু কিনে রাতের আধারে জবাই করে মাংস বিক্রি করছেন।স্যানিটারী ইন্সপেক্টর জবাইকৃত পশুর মাংস পরিদর্শন করার নিয়ম থাকলেও এখানে তা হচ্ছে না।অথচ স্যানিটারী পরিদর্শকের নামে মাসোয়ারা আদায় করা হলেও প্রতিটি পশুর মাংসে সীল মারছে কসাইরা নিজেই।জানা গেছে, উপজেলার মধ্যে অবৈধ শতাধিক কসাইখানা গড়ে উঠেছে।এর মধ্যে মাত্র ৮টি কসাইখানার বৈধ কাগজপত্র রয়েছে।প্রতিদিন কসাইখানাগুলোতে গরু, মহিষ, ভেড়া ও ছাগল জবাই করে মাংস বিক্রি করা হয়।এর মধ্যে বানেশ্বর হাট, ঝলমলিয়া হাট, বেলপুকুর ও ধোপাপাড়া বাজারে সবচেয়ে বেশি পশু জবাই করা হয়।এর মধ্যে কোনো প্রকার স্বাস্থ্য পরীক্ষার সনদ ছাড়াই অধিকাংশ কসাইরা রাতের আধারে রোগাক্রান্ত পশু জবাই করে মাংস বিক্রি করছেন।বানেশ্বর হাটের এক কসাই বলেন, ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে এই হাটে খুব ভোর থেকে মাংস বিক্রি শুরু হয়।

যার করণে আমাদের কখনো কখনো মধ্যরাতে পশু জবাই করে মাংস বিক্রির জন্য প্রস্তুতি নিতে হয়।আর সে জন্য স্যানিটারীকে প্রতিটি ছাগল-ভেড়ার জন্য ৫০ টাকা, গরুর জন্য ১০০ টাকা ও মহিষের জন্য ১৫০ টাকা দিতে হয়। মাংসে পরিদর্শকের সীল দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্যানিটারী পরিদর্শকের সীল প্রতিটি কসাইয়ের কাছে আছে।তাই আমরাই জবাইকৃত মাংসে সীল দিয়ে দেয়।
পৌরসভা স্যানিটারি পরিদর্শক মামুন অর রশিদ বলেন, কিছু জটিলতার কারণে পৌরসভা এলাকা গুলোও উপজেলা স্যানিটারী পরিদর্শক দেখভাল করেন।

তবে উপজেলা স্যানিটারি পরিদর্শক হাফিজুর রহমান মাসোহারা নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, পুরো উপজেলায় দু’শতাধিক কসাই আছে।এর মধ্যে মাত্র ৮ জন লাইসেন্সধারী বৈধ কসাই রয়েছেন। কসাইদের গত বছর সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রাণী ও পশু সম্পদ কর্মকর্তার অধিনে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। তাদের বলা হয় প্রতিদিন পশু জবাই করার আগে স্থানীয় প্রাণী সম্পদ চিকিৎসক দিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো। এরপর স্থানীয় একজন মাওলানার মাধ্যমে ওই পশু জবাই করাতে হবে।আমার দ্বায়িত্ব পশুর মাংস কোন পরিবেশে বিক্রি হচ্ছে সেটা দেখা।আর জবাইকৃত পশু ভালো কি মন্দ সেটা দেখার দ্বায়িত্ব উপজেলা প্রাণী ও পশু সম্পদ বিভাগের।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোখলেছুর রহমান বলেন, পুঠিয়ার কোনো কসাইরা পশু জবাইয়ের পূর্বে হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে আসেন না।আর যে হাট-বাজার গুলোতে কসাইখানা আছে সেখানে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার করানোর মত কোনো ব্যবস্থা নেই।আমরা মাঝে মধ্যে বিভিন্ন স্থানে জবাই করার আগে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে থাকি।তবে প্রতিটি পশু যেনো স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর জবাই করা হয় সে জন্য গত বছর কসাইদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছিল।

IPCS News/রির্পোট, আবুল কালাম আজাদ।