শনিবার ৪ঠা ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ১৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

বরেন্দ্র অঞ্চলে সেচ ও খাবার পানির হাহাকার

আপডেটঃ ৬:৩৭ অপরাহ্ণ | এপ্রিল ০৩, ২০২১

নিউজ ডেস্কঃ

বরেন্দ্রভূমিতে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর অস্বাভাবিকভাবে নিচে নেমে গেছে। এতে এ অঞ্চলে পানির জন্য হাহাকার দেখা দিয়েছে।রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, জয়পুরহাট ও নাটোরের বিস্তীর্ণ এলাকা বরেন্দ্রভূমির অন্তর্গত। উঁচু নিচু পাহাড় টিলায় ভরা লালমাটির এ অঞ্চলে খাবার পানির পাশাপাশি সেচ সংকটও এখন তীব্র।অধিকাংশ গ্রামীণ জনপদে হস্তচালিত নলকূপ অকেজো হয়ে পড়েছে। বরেন্দ্রভূমির পানির অন্যতম উৎস্য খাড়ি-পুকুর ও জলাধার শুকিয়ে গেছে মৌসুমের শুরুতে।এখন এ অঞ্চলের মানুষের খাবার পানির একমাত্র উৎস্য হয়ে উঠেছে সেচকাজে নিয়োজিত গভীর নলকূপ।

তবে এ নলকূপগুলোতেও এখন আর তেমন পানি উঠছে না।জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগসহ বিভিন্ন সংস্থার সমীক্ষা ও গবেষণা থেকে জানা গেছে, বরেন্দ্র অঞ্চলে পানির স্তর নামছে দুই-তিন দশক ধরে।ডাসকো নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, অব্যাহতভাবে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের কারণেই পানিস্তর নামছে।

শুষ্ক মৌসুমে সেচের কাজে ভূগর্ভ থেকে গভীর নলকূপের সাহায্যে বিপুল পরিমাণ পানি তোলার কারণে ওয়াটার রিচার্জ সিস্টেম অকেজো হয়ে পড়েছে।ডাসকো তাদের প্রতিবেদনটি সরকারের জনস্বাস্থ্য বিভাগে পাঠিয়ে বিকল্প উপায়ে পানি সরবরাহের পরামর্শ দিয়েছে। ২০১৪ সালে প্রায় এক বছরব্যাপী গবেষণার পর সংস্থাটি তাদের সমীক্ষা প্রতিবেদন তৈরি করে।রাজশাহী জনস্বাস্থ্য বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমীক্ষা প্রতিবেদন থেকে আরও জানা যায়, দুই-তিন দশক আগে রাজশাহীসহ শুষ্ক বরেন্দ্রভূমিতে ভূগর্ভের ৬০ থেকে ৭০ ফিট নিচেই পানিস্তর পাওয়া যেত। ১৯৮৫ সালে বরেন্দ্র বহুমুখী প্রকল্প চালু হওয়ার পর এ অঞ্চলে শত শত গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়।

এসব নলকূপের সাহায্যে ভূগর্ভস্থ পানি তুলে জমিতে সেচ দেওয়া হয়। তবে গত তিন দশকে সরকারের পাশাপাশি ব্যক্তি উদ্যোগেও হাজার হাজার গভীর ও অগভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে নীতিমালা লঙ্ঘন করে।ফলে প্রয়োজনের তুলনায় গভীর নলকূপের ঘনত্ব বাড়ায় পানিস্তর নিচে নেমে গেছে।বর্তমানে বরেন্দ্রভূমিতে স্বাভাবিক পানিস্তরের তুলনায় ১০০ ফুটের বেশি নিচে নেমেছে।বর্তমানে রাজশাহী অঞ্চলে ১৭০ ফুট নিচে পানিস্তর অবস্থান করছে।গভীর নলকূপগুলোতে সক্ষমতার ৫০ ভাগ পানি উঠছে।

জনস্বাস্থ্য বিভাগ ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পানিস্তর সংকট বিবেচনায় রাজশাহী বিভাগের প্রায় ৪০টি ইউনিয়ন সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে।এগুলোর মধ্যে রাজশাহীর তানোর ও গোদাগাড়ী উপজেলার সাতটি করে মোট ১৪টি, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলার দুটি ও নাচোল উপজেলার চারটি, ভোলাহাটের একটি, গোমস্তাপুর উপজেলার পাঁচটি, নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর, পোরশা, সাপাহার, মহাদেবপুর উপজেলার ১০টি, নাটোরের তিনটি, জয়পুরহাটের চারটি ইউনিয়ন রয়েছে। এ ছাড়া মধ্যম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে আরও ২৭টি ইউনিয়ন। এসব ইউনিয়ন সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৬৫ সেন্টিমিটার উঁচুতে থাকায় পানিস্তর নিচে রয়েছে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-তত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের অধ্যাপক ড. চৌধুরী সারওয়ার জাহান বলেন, ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের কারণেই মূলত বরেন্দ্র অঞ্চলে পানিস্তর নেমে গেছে।এ বিষয়ে একাধিক গবেষণা ও সমীক্ষা হয়েছে। সরকারের কাছে ভূউপরিস্থ পানির জোগান বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। কিন্তু এ বিষয়ে দৃশ্যমান কিছু করা হয়নি।ডাসকোর সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের কর্মকর্তা প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, কূপ খনন করেও পানি পাওয়া যাচ্ছে না বরেন্দ্র অঞ্চলে।আর সাধারণ নলকূপে পানি পাওয়া প্রায় অসম্ভব। তাই সরকারকে বিকল্প উৎসের সন্ধান করতে হবে।

IPCS News/রির্পোট, আবুল কালাম আজাদ।