শনিবার ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ৩রা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

সংবাদ শিরোনামঃ

অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চলছে ট্রেন ও দূরপাল্লার বাস

আপডেটঃ ৮:১২ অপরাহ্ণ | মার্চ ৩১, ২০২১

নিউজ ডেস্কঃ

করোনা সংক্রমণ রোধে শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে রাজশাহীতে প্রথম দিন তেমন কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।তবে ‘রাজশাহী থেকে বিভিন্ন রূটে ছেড়ে যাওয়ার ট্রেন ও ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া বিভিন্ন দূরপাল্লার বাসগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চলাচল করতে দেখা যাচ্ছে।কিন্তু ,পাশাপাশি রাজশাহী থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, বগুড়া ও পাবনাসহ আন্তঃজেলা বিভিন্ন রুটের বাস স্বাস্থ্য বিধি না মেনে আগের মতো যাত্রী নিয়ে চলাচল করছে।বুধবার (৩১ মার্চ) সকালে রাজশাহী মহানগরীর শিরোইলে থাকা ঢাকা বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে দেখা যায়- বাসের সুপারভাইজার যাত্রীর শরীরের তাপমাত্রা মাপছেন।এছাড়া হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত ধুয়ে ভেতরে প্রবেশের ব্যবস্থা করেছেন।যাত্রীর বসার আগে প্রতিটি সিট ও হাতলে জীবাণুনাশক স্প্রে করে দেওয়া হচ্ছে।

একটি সিট ফাঁকা রেখে একটি সিটে যাত্রীদেরকে বসতে দেওয়া হচ্ছে।গড়ে একটি বাসের অর্ধেক সিট খালি রাখা হচ্ছে।তবে এজন্য আজ থেকে তারা ৬০ শতাংশ বেশি ভাড়া আদায় করছেন যাত্রীদের কাছ থেকে।হানিফ এন্টারপ্রাইজের বাস কাউন্টার থেকে শামীম হোসেন ও ন্যাশনাল ট্রাভলসের কাউন্টার থেকে তুহিনুল ইসলাম জানান, ৬০ শতাংশ বাড়তি ভাড়ায় চাঁপাই-রাজশাহী-ঢাকা রুটে ন্যাশনাল বর্তমান সিট ভাড়া আজ থেকে কার্যকর করা হয়েছে। যা আগামী দুই সপ্তাহ অর্থাৎ ১৪ দিন বহাল থাকবে।বর্তমানে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-ঢাকা টিকিট ৮৮০ টাকা (নন এসি), রাজশাহী-ঢাকা ৭৪০ টাকা (নন এসি), নাটোর-ঢাকা ৬২০ টাকা (নন এসি) নেওয়া হচ্ছে।এছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জ-ঢাকা ১ হাজার ৬০০ টাকা (এসি স্ক্যানিয়া)৷

এদিকে, রাজশাহী-ঢাকা ১ হাজার ৫০০ টাকা (এসি স্ক্যানিয়া) ও নাটোর-ঢাকা ১৪০০ টাকা (এসি স্ক্যানিয়া) বর্ধিতহারে নেওয়া হচ্ছে।যদিও আন্তঃজেলা রুটের গণপরিবহনে পরিবহনে ৬০ শতাংশ হারে বেশি ভাড়া নেওয়া হলেও আসন ফাঁকা রাখা নিয়ে বাসের সুপারভাইজার ও হেলপারের সাথে তর্কবিতর্কের সৃষ্টি হচ্ছে।অনেক যাত্রী পাশাপাশি বসে থাকতে চাইছেন; তারপরও বাড়তি ভাড়া দিতে রাজি হচ্ছেন না।আবার অনেক যাত্রী বাড়তি ভাড়া দেওয়ার পর পাশের আসন লোক তোলায় সুপারভাইজার-হেলপারের সঙ্গে বিতর্কে জড়িয়ে পড়ছেন।অনেক যাত্রী আবার প্রথম দিনে ভাড়া বাড়া সম্পর্কে জানেন না দাবি করে বাড়তি ভাড়া দিতে চাচ্ছেন না।

রাজশাহী থেকে নওগাঁ রুটে চলাচলকারী হাসিব এন্টারপ্রাইজের সুপারভাইজার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সদ্য ঘোষিত সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তারা বাস চলাচলের চেষ্টা করছেন।কিন্তু প্রথম দিন অনেক যাত্রী বাড়তি ভাড়া দেওয়া নিয়ে হট্টগোল করছেন।তারা বিষয়টি সামলিয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন।তারা স্বাস্থ্যবিধি মেনেই অর্ধেক যাত্রী নিয়ে যানবাহন চলাচলের চেষ্টা করছেন।প্রথম দিন সবাইকে ঘোষণা অনুযায়ী ৬০ শতাংশ হারে ভাড়া বাড়ানোর বিষয়টি জানাচ্ছেন।এরপরও অনেক যাত্রী বাড়তি ভাড়া দিতে চাচ্ছেন না।যে কারণে তাদের সঙ্গে তর্কবিতর্ক ও বিশৃঙ্খলা দেখা দিচ্ছে বলে জানান তিনি।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব ও ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্যাহ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বুধবার সকাল থেকে সারাদেশের গণপরিবহনগুলোতে অর্ধেক আসনে যাত্রী বহন করবে।পাশাপাশি ৬০ শতাংশ বর্ধিত ভাড়া আদায় করবে।তারা গত রাতেই দেশের সব গণপরিবহন মালিকদের নির্দেশ দিয়েছেন, তারা যেন সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরিবহন পরিচালনা করেন।

অন্যদিকে রাজশাহী থেকে ছেড়ে যাওয়া সকল আন্তঃনগর এবং মেইল ট্রেন অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চলাচল করছে। রাজশাহী রেল স্টেশনে দেখা গেছে স্বাস্থ্যবিধি সচেতনতাই কর্তৃপক্ষ তৎপর রয়েছে।তবে ট্রেনে অর্ধেক যাত্রী পরিবহন করায় রেলস্টেশনে দেখা গেছে যাত্রীদের প্রচণ্ড ভিড়।পশ্চিম রেলওয়ের প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা আহসান আলী ভূঁইয়া জানান,সরকার ঘোষিত স্বাস্থ্য আচরণ বিধি মেনেই ট্রেন চলাচল করছে।স্বাস্থ্য বিধি মানার জন্য ,স্টেশনে প্রচার মাইকিং চালানো হচ্ছে।প্লাটফর্মে ট্রেনে উঠার আগে প্লাটফর্মে যাত্রীদের স্বাস্থ্যবিধি  মেনে ট্রেনে উঠতে দেওয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য যে,এর আগে প্রথম দফায় করোনার সংক্রমণ শুরু হলে ২০২০ সালের ৩১ মে থেকে গণপরিবহনে অর্ধেক আসন খালি রাখতে বলে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ।তখন বাসমালিকদের দাবির মুখে বাসের ভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়ায় সরকার।তবে করোনার সংক্রমণ কিছুটা কমে আসায় গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর থেকে আবারও বাসের সব সিটে যাত্রী পরিবহন শুরু হয়।

IPCS News/রির্পোট, আবুল কালাম আজাদ।